Today is  
 
Untitled Document
শিরোনাম : ||    প্রিয় নায়িকার জন্য পাঁচ রাত ফুটপাথে ভক্ত      ||   মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা সরকারের ভুল ছিল-বিএনপি      ||   রোহিঙ্গারা বললেন-এই রায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ভিত্তি স্থাপন হল      ||   আইসিজে’র মামলার রায় বিশ্ব মানবতার জন্য মাইলফলক-পররাষ্ট্রমন্ত্রী      ||   মিয়ানমারকে গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ আইসিজের      ||   পাকিস্তানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ      ||    টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা      ||   সৈকতে বঙ্গবন্ধুর হাজারো ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী করলো শিক্ষার্থীরা      ||   রোহিঙ্গা চাপে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে-ওবায়দুল কাদের      ||   ব্রাজিলের সাবেক গোলকিপার জুলিও সিজার এখন ঢাকায়      ||   বলিউড তারকা সাইফের সঙ্গে কঙ্গনা      ||   রোহিঙ্গা ইস্যু: জাতিসংঘের জেআরপিতে অন্তর্ভুক্তের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার      ||   করোনা ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯      ||   ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন: আর কোন মানুষতে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না- প্রধানমন্ত্রী      ||   প্রার্থীর উপর হামলা গুরুত্বের সাথে নেয়া উচিত ইসির- ওবায়দুল কাদের     
প্রকাশ: 2020-01-17     ইসলাম ডেস্ক ধর্ম

আফ্রিকা মহাদেশে আছে বেশ কিছু সুন্দর মসজিদ। এর মধ্যে একটি তিউনিসিয়ার কাইরোয়ান মসজিদ। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি শুধু মুসল্লিদের কাছেই নয়, পর্যটকদের কাছেও বেশ আকর্ষণীয়। 

কাইরোয়ান মসজিদ

আফ্রিকাকে আমরা ইতিহাস বইতে সবসময়ই ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ’ বলেই জেনেছি। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এমন হাজারও দিক আছে যার কারণে আফ্রিকা অন্ধকার তো নয়ই, বরং সুন্দর এবং নতুন শুরুর কারিগর। ইসলামের ইতিহাসে আফ্রিকাও তেমনই এক মহাদেশ। ইসলামের প্রথম হিযরত ঘটেছিল আফ্রিকান দেশ আবিসিনিয়াতেই। আফ্রিকাতেই স্থাপিত হয়েছে মুসলিমদের চতুর্থ বৃহৎ মসজিদ। পবিত্র কাবা শরিফ, মদিনার মসজিদে নববি আর জেরুজালেমের আল-আকসার পরই মসজিদের হিসেবে সবচেয়ে পবিত্র মসজিদের অবস্থান আফ্রিকান দেশ তিউনিসিয়াতে। ‘দ্য গ্রেট মসজিদ অফ কাইরোয়ান’ বা ‘কাইরোয়ান মসজিদ’ উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা তো বটেই, সমগ্র আফ্রিকাতেই এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। এই মসজিদই পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান দেশগুলোতে ইসলাম প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।

কাইরোয়ান মসজিদ তার নিজস্ব নামের বাইরে এর প্রতিষ্ঠাতা ‘উকবা ইবনে নাফি’র মসজিদ নামেও পরিচিত। তিউনিসিয়ার কাইরোয়ান শহরে স্থাপিত এই মসজিদ উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা বা মাগরেব অঞ্চলে ইসলামের দ্বারপ্রান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল বেশ অনেকদিন ধরেই এবং বর্তমানেও এটিকে আফ্রিকান ইসলামের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ধরা হয়। তিউনিসিয়ার পাহাড় শ্রেণি আর সাগরের ঠিক মাঝামাঝি থাকা এই মসজিদটি এরই মাঝে দেখে ফেলেছে অনেকটা সময় আর অনেক উত্থান-পতন।

শুরুর কথা

৬৭০ সালে কাইরোয়ান অঞ্চলে প্রথম মসজিদের কাজ শুরু করেন উক্ববা ইবনে নাফি। এরপর প্রায় ৩০ বছর এই মসজিদের নানা প্রান্তে নানা রকমের সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজগুলো ছিল মুসল্লিদের জন্য জায়গা বৃদ্ধি আর বিভিন্ন ত্রুটির সমাধানকরণ। এমন অবস্থার মাঝেই ৭০৩ সালে হাসান ইবনে নোমান এই মসজিদ ভেঙে ফেলে একে আবার নতুন করে গড়ে তোলার একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন এবং সেই অনুযায়ী তিনি কাজ এগিয়ে নিতে থাকেন। একমাত্র মূল মসজিদের মিহরাবটিতেই সেই দফায় কোনো প্রকার কাজ করা হয়নি।

পরের ১০০ বছর ধরে এই মসজিদের মাঝে যুক্ত হয়েছে একটি বিশাল খোলা চত্বর। সেই সঙ্গে সংস্কার করা হয় মসজিদের মূল মিনারটিও। ৮৩৬ সালে জিয়াদাত আল্লাহ এই মসজিদের সংস্কার সম্পন্ন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে উক্ববা বিন নাফি ৯০০০ বর্গমিটার জায়গা নিয়ে এর কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে এই কাইরোয়ান মসজিদের আদলে গড়ে ওঠে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকান অন্য সব মসজিদ। এই মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকেই গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জন্ম দিয়েছে অজস্র ইসলামি চিন্তাবিদ, তৈরি হয়েছে ইসলামি ভাবধারা- যার সঙ্গে তুলনা চলে মধ্যযুগের প্যারিস কিংবা তারও আগের গ্রিকদের বিদ্যার সঙ্গে।

আঠারশ শতকের দিকে এসে দুইবার এবং নবম শতকের সময়ে একবারের সংস্কারের ফলে আফ্রিকান প্রথম এই মসজিদ বর্তমানে এসে পৌঁছেছে। মজার কথা হচ্ছে, এটি মসজিদ বা ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই এই মিনারসহ আরও অনেক কিছুই করা হয়েছে প্রাচীন রোমের ক্যাথলিক ভাবধারার স্থাপনা থেকে অণুপ্রাণিত হয়ে। বিশেষ করে এই গম্বুজটি একেবারেই রোমান এবং বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের আদলে গড়ে নেওয়া হয়েছে।

১২শ’ শতকের পর থেকে বেশ কয়েক ধাপে এই মসজিদের কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এরও আগে ৮৬৩ সালে শাসক আবুল ইব্রাহিম প্রথম মসজিদ সংস্কারের বাইরে গিয়েও এর পরিসর বৃদ্ধির কাজ শুরু করেন। যা ৮৭৫ সালে দ্বিতীয় ইব্রাহিমের সময় আরও বিস্তৃতি লাভ করে। তিনি মসজিদটিকে উত্তরে সম্প্রসারিত করে আধুনিক রূপে আনার চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে আঘলাবিদদের শাসনকালে নবম শতকে এই মসজিদের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।

খ্রিস্টীয় ১২শ’ শতকের সময়ে হাফসিদের হাতে আরও দু’বার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে আফ্রিকান মহাদেশের প্রথম এই মসজিদে। শুরুর দিকে ১২৪৮ সালে এবং পরবর্তী সময়ে ১২৯৩ থেকে ১২৯৪ সালে আবারও সংস্কার ও বর্ধিতকরণের কাজ চলে। এছাড়া ১৬১৮ সালে আরও একবার আধুনিকীকরণ করা হয় মসজিদটি। তখনই মূলত এই মসজিদের বাইরের সুবিশাল চত্বরের কাজগুলো করা হয়। এছাড়া আধুনিককালে ঊনবিংশ আর বিংশ শতকেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এই মসজিদের। 

মসজিদের গঠনশৈলী

‘কাইরোয়ান মসজিদ’ এর গঠনশৈলী অন্যান্য যে কোনো কিছু থেকেই একদম আলাদা। সাধারণত মসজিদগুলো নিজস্ব ইসলামি স্থাপত্যরীতি মেনে নিলেও এখানে যুক্ত হয়েছে ইসলামি স্থাপত্যকলা, রোমান চিন্তাধারা এবং সেইসঙ্গে বাইজেন্টাইন শাসনামলের স্থাপত্যশিল্প। বর্তমানে এই মসজিদের রয়েছে মোট নয়টি দরজা। এরমাঝে ছয়টি দরজা মসজিদের সামনে খোলা চত্বর দিয়ে প্রবেশের জন্য। দুইটি দরজা দিয়ে সরাসরি মূল নামাজের ঘরে প্রবেশ করা যায়।

তিউনিসিয়ার কাইরোয়ান মসজিদটি অনিয়মিত চতুর্ভুজ আকারের একটি মসজিদ। সবমিলিয়ে প্রায় ১০৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত এটি। এরমাঝে ১৭টি বিশাল পিলার এই মসজিদের মূল নামাজের জায়গার পুরো ভার বহন করে আছে। বাইরের দিকে রোমান ঐতিহ্যের অনুসরণে পিলারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এই মসজিদের মিনারটি পুরো শহরের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা বলে বিবেচিত। মসজিদটি পশ্চিম অপেক্ষা পূর্বদিকে কিছুটা লম্বা। পূর্বদিকে মসজিদের দৈর্ঘ্য ১২৭ দশমিক ৬০ মিটার, অন্যদিকে পশ্চিম দিকে এর মান ৭০ মিটারের কাছাকাছি। আবার দক্ষিণ অপেক্ষা উত্তর দিকেও মসজিদের দৈর্ঘ্যে বেশ খানিকটা অমিল লক্ষ করা যায়। উত্তর দিকে ৭২ মিটারের বিপরীতে দক্ষিণে প্রায় ৭৮ মিটার লম্বা এই মসজিদ। মসজিদে মূল মিনারটি উত্তর দিকে মুখ করে রাখা।

বাইরের দিক থেকে চিন্তা করতে গেলে কাইরোয়ান মসজিদ রীতিমতো একটি দুর্গের সমান। মসজিদের বাইরের দিকে দেয়ালের পুরুত্ব ১ দশমিক ৯০ মিটার। কোনার দিকের টাওয়ারগুলো সবমিলিয়ে ৪ দশমিক ২৫ মিটার জায়গা করে নিতে সক্ষম।

মসজিদ চত্বর

বাইরে অবস্থিত খোলা চত্বরটি মসজিদের সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। বাইরের দিকে মার্বেল পাথরের গড়া এই চত্বরের মোট আয়তন রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতই। দৈর্ঘ্যে ৬৭ মিটার আর প্রস্থে ৫২ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই চত্বরের কাজে মার্বেল ছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে গ্রানাইট এবং অন্যান্য দামি সব জিনিস। এই চত্বরের বয়স এতই পুরাতন যে, এই অংশের দুটি দরজা দুটি ভিন্ন সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে। একটির জন্ম নবম শতকে হলেও অন্যপাশের দরজাটি প্রায় ১৩০০ শতকের তৈরি। প্রায় সাত মিটার উঁচু পিলারের কারণে এই চত্বরের নিচেই পানিপ্রবাহের পাইপ রয়েছে, যা বিশালকায় এই মসজিদের গঠন প্রক্রিয়ার অন্যতম দিক।

মিনার ও গম্বুজ

ইসলামি স্থাপত্যের দিক থেকে মিনার ও গম্বুজ সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশাল সুউচ্চ মিনার দীর্ঘদিন থেকেই মুসলমানদের মূল পরিচায়ক। চারদিকে প্রায় ১০ দশমিক ৭ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৩১ দশমিক ৫ মিটার উঁচু মিনার শুরুতেই যে কারও নজর কেড়ে নিতে সক্ষম। এই মিনারের কাছে যাওয়ার জন্য কোনো প্রকার সরাসরি দরজার ব্যবস্থা করা হয়নি।

কাইরোয়ান মসজিদের বেশ কিছু গম্বুজ রয়েছে। সবচেয়ে বড় গম্বুজটি এর মিহরাবের ওপর এবং চত্বর থেকে মূল মসজিদে যাওয়ার অংশে। এই মসজিদের বিশাল গম্বুজ দক্ষিণ, পশ্চিম এবং পূর্ব দিকে উন্মুক্তএবং পাঁচটি পিলারের কারণে এই ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ। বিস্ময়কর হলেও সত্য, ৮৩৬ সালে স্থাপিত এই গম্বুজ আফ্রিকান তো বটেই বিশ্বের ইতিহাসেই প্রথম স্থাপিত গম্বুজগুলোর একটি। সেই সময় এই গম্বুজের গঠন ও আকার প্রদান সংক্রান্ত কাজে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন হয়েছিল।

মূল নামাজের জায়গা

খোলা চত্বরের দক্ষিণে রয়েছে কাইরোয়ান মসজিদের মূল নামাজের জায়গা। প্রায় ১৭টি দরজা এই মসজিদের মূল নামাজঘরে প্রবেশের জন্য সবসময় খোলা থাকে। পুরো জায়গাতে মোট ১৭টি পিলার রয়েছে। মূল নামাজের জায়গা প্রস্থে ৭০ দশমিক ৬ এবং লম্বায় ৩৭ দশমিক ৫ মিটার। ১৭টি পিলার এই মসজিদকে ৮ ভাগে ভাগ করে। মাঝের অংশটি এখানে সবচেয়ে বড়। এতে কিবলার অবস্থান সঠিকভাবে রক্ষিত হয়েছে। পুরো মসজিদে মোট খাম্বা বা কলামের সংখ্যা ৫০০ এর বেশি এবং মূল মসজিদের মাঝেই আছে ৪১৪টি কলাম। তবে এই ১৭টি জোড় কলাম মূলত মসজিদের একদম কেন্দ্রস্থ। মসজিদের এই ৪১৪ কলাম তৈরিতে মূলত ব্যবহার করা হয় গ্রানাইট এবং মার্বেল পাথর। অনেকের মতে এই মসজিদের কলামের সংখ্যা এতটাই বেশি যে আসলে এখানে এসে যে কারও চোখে ধাঁধা লেগে যেতে পারে।

কাইরোয়ান মসজিদ এবং গোল্ডেন রেশিও

ইতালিয়ান গণিতবিদ ফিবোনাচ্চির বিখ্যাত নাম্বার সিরিজ এবং সেই থেকে উদ্ভূত গোল্ডেন রেশিও সম্পর্কে অনেকের মাঝেই ধারণা আছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, সেই অনাদিকালের ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে অবস্থিত কাইরোয়ান জামে মসজিদের মাঝেও দেখা যায় এই ফিবোনাচ্চি সংখ্যা এবং গোল্ডেন রেশিও এর উপস্থিতি।

তবে এরচেয়েও বড় বিস্ময়কর ব্যাপার হলো কাইরোয়ান মসজিদের প্রতিটি জায়গায় আলাদা আলাদাভাবে গোল্ডেন রেশিও বা ১ অনুপাত ১ দশমিক ৬ মেনে চলা হয়েছে। মসজিদ, মূল নামাজঘর, বাইরের চত্বর থেকে মসজিদের সার্বিক আয়তন সব জায়গাতেই এর ব্যবহার দেখা যায়।

পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়

তিউনিসিয়াতে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণ পর্যটক কেবল এই কাইরোয়ান মসজিদ দেখতেই ভ্রমণ করেন। দর্শকদের জন্য এই মসজিদ শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মুসলমানদের সাপ্তাহিক বিশেষ দিন শুক্রবারে সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত খোলা থাকে এই মসজিদ। মসজিদের পবিত্রতার কথা মাথায় রেখে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের এই মসজিদে ঢোকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে পর্যটকদের আগ্রহের কথা ভেবে মসজিদের দরজা সবসময়ই খোলা রাখা হয় যেন অন্তত বাইরে থেকে ভিন্ন ধর্মের মানুষজন এর সৌন্দর্য বুঝতে পারেন।

নির্মাণ উপকরণ

কাইরোয়ান জামে মসজিদের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। মসজিদের ছাদ তৈরির কাজে একেবারে প্রথম থেকেই কাঠের ব্যবহার করা হয়েছিল। এবং হাজার বছর ধরে এই কাঠের ছাদ আজও মসজিদের সুরক্ষার জন্য কাজ করে চলেছে। তবে এই ছাদটিকে বেশ কয়েকবার মেরামত করতে হয়েছে।

মসজিদের বাইরের চত্বর এবং কিবলা, মিহরাব ও কলামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে মার্বেল পাথর এবং গ্রানাইট। আর মসজিদের মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছিল নিজস্ব আফ্রিকান পদ্ধতির ইট এবং কাদামাটি। তবে এই মসজিদের মূল কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের পুরোটাই বলতে গেলে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ ও সিরিয়ার দামেস্ক মসজিদ থেকে অণুপ্রাণিত। সপ্তম শতকে স্থাপিত এই দুই মসজিদের অনেক কিছুরই মিল পাওয়া যাবে কাইরোয়ান মসজিদের মাঝে।

কাইরোয়ান এই মসজিদের মাঝ থেকে উঠে আসা একজন সুপরিচিত মানুষ ছিলেন হযরত ইমাম মালেক (রা.)। নবম এবং একাদশ শতকে এই মসজিদটি ছিল ইসলামি চিন্তাধারার প্রাণকেন্দ্রের মতোই। ইমাম মালেকের শিক্ষা এবং ইসলামি জীবনদর্শনের সূতিকাগার হিসেবে তিউনিসিয়ার কাইরোয়ান মসজিদ আরও কয়েকশ বছর অন্ধকারাচ্ছন্ন আফ্রিকার উজ্জ্বল আলো হিসেবেই মর্যাদা পাবে।


ধর্ম
আফ্রিকার প্রাচীন ‘কাইরোয়ান মসজিদ’

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে আখেরি মোনাজাত

আম বয়ানে শুরু বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

এ বছর হজে যাবেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন

পেকুয়ায় আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসায় শোকরানা মাহফিল

খরুলিয়ায় আজহারীর মাহফিলে লাখো মানুষের ঢল

সোনাইছড়িতে দুইদিন ব্যাপী তাফসীরুল কোরআন মাহফিল আজ শুরু

সোনাইছড়িতে দুইদিন ব্যাপী তাফসীরুল কোরআন মাহফিল কাল শুরু

কোরআন শরিফের কপি বেশ পুরোনো হয়ে গেলে করণীয়

মহানবী (সা.)-এর মেহমানদারি যেমন ছিল

 

উপদেষ্টা সম্পাদক: আবু তাহের
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
প্রকাশক: আবদুল আজিজ

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা),
শহীদ সরণি (সার্কিট হাউস রোড), কক্সবাজার।
ফোন:
০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩।


ইমেইল :

news.coxsbazarvoice@gmail.com
  Copyright © Coxsbazarvoice 2019-2020, Developde by JM IT SOLUTION