Today is  
 
Untitled Document
শিরোনাম : || চিত্র নায়ক শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা      || ‘‌রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসির রায় মানতে বাধ্য সব দেশ'      || বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি ইরানি প্রেসিডেন্টের      || বাংলাদেশে আরব আমিরাতের আরও বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর      || আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: জনবল সংকটে তদন্ত বিঘ্নিত!      || পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের নেপথ্য সন্ধানে গোয়েন্দারা      || দস্যু-অস্ত্র কারিগরদের কলঙ্কমোচন ২৩ নভেম্বর: থাকছে ইয়াবা কারবারিরাও      || শাকিব খান ছাড়াই বুবলী, নায়ক নিরব!      || চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ গ্যাস পাইপে নাকি সেপটিক ট্যাংকে!      || হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর      || সীমান্তে বিজিবির উপর হামলা: দুই আসামী 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত      || চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ, নিহত ৭      || শ্রীলঙ্কার নির্বাচন: এগিয়ে আছে মাহিন্দা      || টেস্টের আগেই মন ভেঙে গেছে-বিসিবি প্রধান      || সৌদিতে নারী কর্মীদের নির্যাতন: বিপাকে সরকার     
জাতীয় চার নেতা: সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
প্রকাশ: 2019-11-03     স্বদেশ রায় কলাম

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর এটি স্পষ্ট ছিল যে, আরও কিছু হত্যাকাণ্ড হবে। কারণ ৭৫-এর ১৫ আগস্টে প্রতিবিপ্লবীরা, বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিবসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হত্যা করে। তারা হত্যা করে প্রতিভাবান তরুণ নেতা শেখ ফজলুল হক মণিকে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর ভেতর দিয়ে তারা তাদের প্রতিবিপ্লবকে সফল করে। কিন্তু তারা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয় না। কারণ তখনো মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা বেঁচে ছিলেন। তাই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের এই প্রতিবিপ্লবের দেশি-বিদেশি সব শক্তিই এটা বুঝেছিল প্রতিবিপ্লবকে নিষ্কণ্টক করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন এমন নেতাদেরও হত্যা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করতে হবে সামরিক বাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অনুগত যে সদস্য রয়েছেন, তাদেরও। তাদের হত্যাকাণ্ডের ব্লু প্রিন্টটা ছিল বেশ দীর্ঘ ও নানামুখী। সেটা তারা বাস্তবায়নও করে। আর এখানে প্রথমেই যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন মুজিবনগর সরকারের শীর্ষ নেতারা, তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিককর্মী; এই দুই পর্যায়েই মুজিবনগর সরকারের শীর্ষপর্যায়ের এই নেতাদের পরিবারের সদস্য, তাদের বন্ধুস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও দেশে-বিদেশে তারা বিভিন্ন সময়ে যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এই ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নানাভাবে আলোচনার সুযোগ পেয়েছি। এই নানান আলোচনার খণ্ডচিত্র মেলালে এটি বেশ স্পষ্ট হয় যে, ১৫ আগস্টের সকালের পরেই এই শীর্ষ চার নেতাসহ আরও কিছু শীর্ষ নেতা বুঝতে পেরেছিলেন, তাদের আর বাঁচিয়ে রাখা হবে না। এটি বোঝার পরও তারা দ্রুত কেন অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, এই প্রশ্নের জবাব অনেকখানি মেলে না। তবে এটি নিশ্চিত যে, তারা কেউই কোনও অশুভ উদ্দেশ্য থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন না। তবে তাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল, সাধারণ মানুষ কী করতে হবে, এটা যেন বুঝে উঠতে না পারেন, নেতা হিসেবে তাদের দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। এখানে তারা ব্যর্থ হন। ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য এটা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত পাওয়া। যদিও খুব দ্রুত মুজিবনগর সরকারের শীর্ষ চার নেতার বাড়ির টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের বাড়ি পুলিশ প্রটেকশনে নেওয়া হয়। কিন্তু এর আগে যে সামান্য সময়টুকু পাওয়া গিয়েছিল, এত বড় মাপের নেতাদের জন্য এই সময়টুকু কম ছিল না। এটা যে কম সময় ছিল না, তা যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পরোক্ষভাবে হলেও তার স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দীনের কাছে স্বীকার করে গেছেন। ১৯৭৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে জোহরা তাজউদ্দীন জেলখানায় দেখা করতে গেলে তাজউদ্দীন আহমদ তাকে বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের একমাত্র রাজনৈতিক ভুল মুজিব ভাই নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে না যাওয়া।’ তাজউদ্দীন আহমদ ওই সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন না, তাই হয়তো তিনি তার ভুলটাকে চিহ্নিত করেছেন সঙ্গে সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নিতে পারার। অন্য তিন নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামারুজ্জামান ক্ষমতায় ছিলেন। তাই তাদের সিদ্ধান্ত কী হওয়া উচিত ছিল, সেটি ইতিহাসের গভীর পর্যালোচনা ছাড়া সম্ভব নয়। তারা তিনজন মৃত্যুর আগে তাদের সিদ্ধান্ত কী হতে পারতো, সেটি চিহ্নিত করেছিলেন কিনা, তা আজও জানতে পারিনি। কোনও গবেষক জেনেছেন এমন কোনও গবেষণাও পাইনি। তবে তাজউদ্দীন আহমদের মতো এই তিনজনও যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, এটা ইতিহাসে সত্য। এই সিদ্ধান্ত নিতে না পারাটা ভবিষ্যতে তাদের নেতৃত্ব গুণাবলী নিয়ে হয়তো কিছু প্রশ্ন তুলবে। কারণ আবেগের বাইরে ইতিহাসের একটা অংশও থাকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হয়ে যাওয়ার পরে আবেগের থেকে বাস্তবতাটাই বড় হয়ে দেখা যায়। তাই ভবিষ্যত ইতিহাস এ প্রশ্ন তুলবেই। ইতিহাস যখন এ প্রশ্ন তুলবে, তখন বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আনুগত্য ও সে জন্য জীবন দেওয়া বা তাদের রক্তধারা এ প্রশ্নকে কতখানি ঢেকে দিতে পারবে, সেটিও ভবিষ্যতের ইতিহাসের বিষয়। তবে এরপরও শতবর্ষের ইতিহাসে দেশ ও বঙ্গবন্ধুর আনুগত্যের বেদীমূলে তাদের এই রক্তধারা বহমান থাকবে।

৭৫ এর প্রতিবিপ্লবীরা তাদের হত্যা করবে, এটাই স্বাভাবিক। জেলখানার মতো নিরাপদ স্থানে ও আন্তর্জাতিক জেল কোড ভেঙে হত্যা করাও আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ প্রতিবিপ্লবীদের থেকে নিষ্ঠুরতম পথ পৃথিবীতে আর কেউ গ্রহণ করে না। প্রতিবিপ্লবীরা সবসময় পরাজিত শক্তি। এই শক্তি বর্বর ও নিষ্ঠুরতম হয়। পৃথিবীর ইতিহাসের সব প্রতিবিপ্লবই সেই সাক্ষ্য দেয়।

দেশ ও জাতি এই চার নেতাসহ আরও কিছু মুক্তিযুদ্ধের তৎকালীন তরুণ নেতার প্রতি কৃতজ্ঞ হতো, যদি তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবিপ্লবকে প্রতিহত করার যুদ্ধে বা সংগ্রামে নামতেন। সেখানে তাদের মৃত্যু হলেও ওই মৃত্যু দিবস আর যাই হোক শুধু শোক দিবসের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকতো না। বরং প্রতিবিপ্লবকে প্রতিহত করার সূচনা বা এক ধরনের জয়ধারার দিবস হিসেবে চিহ্নিত হতো।

বাঙালি জাতি সশ্রদ্ধচিত্তে ও অত্যন্ত শোকাতুর হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই চার নেতার মৃত্যু দিবস বা জেলহত্যা দিবসকে পালন করে। স্মরণ করে আমাদের বিশাল মুক্তি সংগ্রামে তাদের নেতৃত্ব ও ত্যাগকে। স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আনুগত্যকে এবং তার জন্য জীবন উৎসর্গ করাকে। কিন্তু তারা যে বিশ্বমানের নেতা ছিলেন, সে হিসাব করলে ১৫ আগস্টের প্রতিবিপ্লবের পরে তারা যদি ওই প্রতিবিপ্লবকে প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা বাস্তবায়নের জন্য নামতে পারতেন এবং সেজন্য যদি জীবন দিয়ে যেতেন তাহলে তাদের মৃত্যুদিবস শুধু শোকদিবসে সীমাবদ্ধ থাকতো না, জাতির একটি গৌরবের দিবসও হতো। কেন এমনটি হলো না, এ প্রশ্নই শুধু ইতিহাসের পাতা বেয়ে এগিয়ে যাবে না, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এমনটি না ঘটার একটি দুঃখও প্রবাহিত হবে।

কলাম
রেল কবে চলবে?

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অবহেলিত রেলের প্রয়োজন ‘আদর’

নির্বাচনের পরও কি ব্রেক্সিট প্রশ্নে গণভোট অনিবার্য?

কে ইয়াবাখোর?

আমাদের শিক্ষাঙ্গনেও মহাবিপদ সংকেত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভি সি নিয়ে ছিঃ ছিঃ

ক্রিকেটে নতুনরা জানান দিচ্ছে আমরা আসছি

জাতীয় চার নেতা: সিদ্ধান্ত নিতে না পারা

জান্নাতীর মুখের হাসি

চিত্র নায়ক শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
‘‌রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসির রায় মানতে বাধ্য সব দেশ'
বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি ইরানি প্রেসিডেন্টের
বাংলাদেশে আরব আমিরাতের আরও বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: জনবল সংকটে তদন্ত বিঘ্নিত!
পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের নেপথ্য সন্ধানে গোয়েন্দারা
দস্যু-অস্ত্র কারিগরদের কলঙ্কমোচন ২৩ নভেম্বর: থাকছে ইয়াবা কারবারিরাও
শাকিব খান ছাড়াই বুবলী, নায়ক নিরব!
চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ গ্যাস পাইপে নাকি সেপটিক ট্যাংকে!
হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর
সীমান্তে বিজিবির উপর হামলা: দুই আসামী 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত
চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ, নিহত ৭
শ্রীলঙ্কার নির্বাচন: এগিয়ে আছে মাহিন্দা
টেস্টের আগেই মন ভেঙে গেছে-বিসিবি প্রধান
সৌদিতে নারী কর্মীদের নির্যাতন: বিপাকে সরকার
মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
 

উপদেষ্টা সম্পাদক: আবু তাহের
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
প্রকাশক: আবদুল আজিজ

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা),
শহীদ সরণি (সার্কিট হাউস রোড), কক্সবাজার।
ফোন:
০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩।


ইমেইল :

news.coxsbazarvoice@gmail.com
About Coxsbazar Voice
Advertisement
Contact
Web Mail
Privacy Policy
Terms & Conditions
কক্সবাজার ভয়েস পত্রিকার কোন সংবাদ,লেখা,ছবি বা কোন তথ্য পূর্ব অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
All rights reserved © 2019 COXSBAZAR VOICE Developed by : JM IT SOLUTION