Untitled Document
শিরোনাম : ||   মালয়েশিয়ায় বিপাকে জাকির নায়েক      ||   ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে কোহলিদের হুমকি      ||   নির্মাতার বিরুদ্ধে খোলামেলা শার্লিনের যত অভিযোগ      ||   দুর্ভাগ্যটা কার, ফখরুলের না খালেদার?      ||   মেসিকে খুশি রাখতেই নেইমার ‘নাটক’!      ||   নবম ওয়েজ বোর্ড: আপিল বিভাগে আদেশ মঙ্গলবার      ||   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নানা সংশয়      ||   উখিয়ার জসীম দশ হাজার ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আটক      ||   সাংবাদিক বশির উল্লাহ পিতার ইন্তেকাল      ||   কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন      ||   স্বর্গ কাশ্মির, খাপে-ঢাকা বাঁকা তলোয়ার      ||   বেসামরিক জীবনে ফিরলেন ধোনি      ||   সাকিবের সাথে দ্বন্দ্ব: মাহমদউল্লাহর বার্তা      ||   ট্রাস্কফোর্স কমিটির জরুরী বৈঠক:প্রত্যাবাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি      ||   প্রত্যাবাসন যে কোন সময় শুরু হতে পারে-পররাষ্ট্র সচিব     
আমি নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজার পিতা বলছি
প্রকাশ: 2019-05-26     নিউজ ডেস্ক মিডিয়া কর্ণার

সাংবাদিক হিসাবে আমার চেয়ে কঠিন কাজটি বোধহয় আর কাউকে করতে হয়নি। নিজের সন্তানের মৃত্যু নিয়ে লিখতে হচ্ছে। তাও কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয় খুন হবার কথা। একজন পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ নাকি সবচেয়ে ভারি বোঝা, আমি সে বোঝা বয়েছি। উপরি হিসাবে লিখেছি নিজ প্রাণপ্রিয় সন্তানের মৃত্যু বিষয়ক কলাম।


হ্যাঁ, আমি দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত তরুণ সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের পিতা বলছি। সেই ফাগুন, যার বয়স মাত্র একুশ বছর। যে অনার্স পড়ার পাশাপাশি যোগ দেয় সাংবাদিকতায়। যোগ দেয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় ডটকমের ইংরেজি বিভাগে।


ঈদের পর ওর যোগ দেয়ার কথা ছিল অন্য আরেকটি নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজের ইংরেজি বিভাগে। কিন্তু ওর আর যোগ দেয়া হলো না। চলে গেল আমাকে ছেড়ে, আমাদের ছেড়ে। চলে গেছে বললে ভুল বলা হবে, তাকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।


ঢাকা থেকে ট্রেনে বাড়ি আসার পথে জামালপুরের নান্দিনায় নির্মমভাবে হত্যা করে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছিলো ফাগুনকে। গত ২১ মে’র ঘটনা এটা। কিন্তু এখনো সেই হত্যাকান্ডের কারণ জানা যায়নি। গ্রেপ্তার হয়নি খুনিদের কেউ।


আমার ছেলে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল, I’d rather die like a man, than live like a coward....। সে কাওয়ার্ড হিসাবে হয়তো বাঁচতে চায়নি। কারণ সে তার স্বল্প সময়ের সাংবাদিকতার জীবনে কখনো আপোষ করেনি।


বাচ্চা একটি ছেলেকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল একটি খবরের ব্যাপারে। বলা হয়েছিল, খবরটি নামিয়ে দিতে। সে নামিয়ে নেয়নি খবরটি। অবলীলায় লোভনীয় সে প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছিল ফাগুন। তারপর তাকে শাসানো হয়েছিলো দেখে নেবার। তাতেও সে ভয় পায়নি, কারণ সে কাওয়ার্ড হিসাবে বেঁচে থাকতে চায়নি।


অথচ ওর বয়েসি কেনো, অনেক ধাড়ি’রই ওই লোভ সামলানো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, আমি এমনি এক সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের বাবা। শোকে ভেঙে পড়া একজন মানুষ, সঙ্গে গর্বিতও। গর্বিত এই ভেবে যে, আমার শিক্ষাটা বৃথা যায়নি। ফাগুন তাঁর ক্ষুদ্র জীবনে যতদিন বেঁচেছে মানুষের মতন বেঁচেছে, কাপুরুষের মতন নয়। এখন আসি এমন মৃত্যুর ব্যাপারে। আমার ছেলেতো চলে গিয়েছে। জানি, সে আর ফিরবে না। কিন্তু ওর বয়সি অন্যরাতো রয়েছে। ওর বয়সি অসংখ্য ছেলেমেয়ে ঘুরে বেড়ায় চোখের সমুখে। ওর বন্ধুরা ঘুরে বেড়ায়, ওদের দেখলে আমার ফাগুনের কথা মনে হয়।


নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজা

নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজা

মনে হয়, ওরা নিরাপদ তো। মাসকাওয়াথ আহসান লিখেছেন, ‘মৃত্যু উপত্যকায় ফাগুনের মৃতদেহ’। সত্যিই, দেশটা ক্রমেই মৃত্যু উপত্যকা হয়ে উঠছে। প্রতিদিন মৃত্যু, নিখোঁজ, খুন এসব শুনতে শুনতে আমরা ক্রমেই অভ্যস্থ হয়ে উঠেছি!


কিন্তু এই অভ্যস্ততা আমাদেরও কি ক্রমেই অমানুষ করে তুলছে না! এই যে মুখ নিচু করে থাকার সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তাতে কি হন্তারকদেরই আস্কারা দেয়া হচ্ছে না? তাদের আরেকটা হত্যার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে না?


আমরা কি বসে আছি আরেকটি লাশ বুকে তুলে নেয়ার জন্য? আমাদের মতন আরও দুর্ভাগা বাবা-মা’র ভেঙে যাওয়া বুক আর ভেসে যাওয়া চোখ দেখার জন্য? এই প্রশ্নটা অত্যন্ত জরুরি আমাদের বেঁচে থাকা সন্তানদের জন্য, আর আমাদের ক্রমে মরে যাওয়া দেশটার জন্য। অনেকে বলেন, এমন অনিরাপদ পরিবেশে আপনার ছেলেকে কেনো সাংবাদিকতায় দিলেন। জানি, তাদের এই বলা আমার ভালোর জন্যই। কিন্তু আমরা সবাই যদি ভয়ের সংস্কৃতি, কথা না বলার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি তাহলে ভয় আমাদের ওপর জেঁকে বসবে।


আতংক আমাদের কুড়ে কুড়ে খাবে, আমরা মরার আগেই মরে যাবো। তবে কি মরার আগে মরে যাবার জন্যই আমাদের দেশটা স্বাধীন হয়েছিল, মানুষ রক্ত দিয়েছিলো?


পুনশ্চ: আমার নিজের সাংবাদিকতার জীবনে কখনো আপস করিনি। অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াইনি। সঙ্গে অযথা কারোর ক্ষতিরও কারণ হইনি। যদি আপস করতাম তাহলে হয়তো এখন অনেক বড় জায়গায় থাকতাম, যেখানে বসে আছেন অনেক ‘হোমড়া-চোমড়া’রা।


যাদের চোখে ফাগুন রেজার মতন একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড চোখে পড়ে না, যারা একজন সাংবাদিকের সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গা করেন না, তাদের কান-মাথা নড়ে না।


তাদের বলি, ফাগুন হঠাৎ করেই সাংবাদিকতায় আসেনি, সে সাংবাদিক প্রজন্মের চতুর্থ পুরুষ। তার বাবা, দাদা, নানা, তারো পূর্বপুরুষ সাংবাদিকতায় ছিলেন। সে উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো উড়ো খই নয়। কেউ যদি ভেবে থাকেন, ফাগুন রেজার মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার আদর্শ খই হয়ে উড়ে যাবে, তাহলে ভুল ভেবেছেন। আদর্শ কখনো মরে না, মানুষ মরে যেতে পারে।


 কাকন রেজা: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মিডিয়া কর্ণার
নবম ওয়েজ বোর্ড: আপিল বিভাগে আদেশ মঙ্গলবার

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে

কক্সবাজার ভয়েস ডট কম-এ যোগ দিলেন মনতোষ বেদজ্ঞ

রোহিঙ্গা ভাষায় ভয়েস অব আমেরিকার সম্প্রচার শুরু

‌দায়িত্বশীল অনলাইনগুলোকে সহসাই নিবন্ধন'

জনকণ্ঠ ছাড়লেন স্বদেশ রায়

শান্ত নূর ইন্দোনেশিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিলেইজ লিডারশীপ ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি নির্বাচিত

অনলাইনগুলোর রেজিস্ট্রেশন হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে: তথ্যমন্ত্রী

শীঘ্রই নিউজ পোর্টালের তালিকা প্রকাশ করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৬৬ বার পেছালো

মালয়েশিয়ায় বিপাকে জাকির নায়েক
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে কোহলিদের হুমকি
নির্মাতার বিরুদ্ধে খোলামেলা শার্লিনের যত অভিযোগ
দুর্ভাগ্যটা কার, ফখরুলের না খালেদার?
মেসিকে খুশি রাখতেই নেইমার ‘নাটক’!
নবম ওয়েজ বোর্ড: আপিল বিভাগে আদেশ মঙ্গলবার
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নানা সংশয়
উখিয়ার জসীম দশ হাজার ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আটক
সাংবাদিক বশির উল্লাহ পিতার ইন্তেকাল
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন
স্বর্গ কাশ্মির, খাপে-ঢাকা বাঁকা তলোয়ার
বেসামরিক জীবনে ফিরলেন ধোনি
সাকিবের সাথে দ্বন্দ্ব: মাহমদউল্লাহর বার্তা
ট্রাস্কফোর্স কমিটির জরুরী বৈঠক:প্রত্যাবাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
প্রত্যাবাসন যে কোন সময় শুরু হতে পারে-পররাষ্ট্র সচিব
প্রতিপক্ষের জন্য ‘কিলার’ হয়ে উঠছে এমবাপে
 

উপদেষ্টা সম্পাদক: আবু তাহের
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
প্রকাশক: আবদুল আজিজ

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা),
শহীন সরণি (সার্কিট হাউস রোড), কক্সবাজার।
ফোন:
০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩।


ইমেইল :

news.coxsbazarvoice@gmail.com
About Coxsbazar Voice
Advertisement
Contact
Web Mail
Privacy Policy
Terms & Conditions
কক্সবাজার ভয়েস পত্রিকার কোন সংবাদ,লেখা,ছবি বা কোন তথ্য পূর্ব অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
All rights reserved © 2019 COXSBAZAR VOICE Developed by : JM IT SOLUTION