ভয়েস প্রতিবেদক:
উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে নতুন পুরোনো মিলিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। সেখানে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ আগে থেকেই নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। এইসব ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে। তবে সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর আইন শংখলা রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন(এপিবিএন) এর উপর। দায়িত্ব নেয়ার পর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে পুরোনো অপরাধীদের পাশাপাশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নতুন ডাকাত দল ও সন্ত্রাসী বাহিনী।
গত কয়েকবছর ধরে টেকনাফের নয়াপাড়া, জাদিমুরা, শালবাগান ও লেদা রোহিঙ্গা শিবির ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আলোচিত নাম ডাকাত জকির, ডাকাত আব্দুল হাকিম, ডাকাত নুরুল আলম সহ বেশ কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী। এদের মধ্যে আনসার ক্যাম্প লুটের হোতা নুরুল আলম র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার পর আলোচনায় আসে ডাকাত জকিরের নাম। এছাড়া টেকনাফের আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম হত্যার পর ডাকাত আব্দুল হাকিম এক আতংকের নাম। তবে ডাকাত জকির ও আব্দুল হাকিম এখনো অধরা। এইসব সন্ত্রাসী বাহিনী গুলোর রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র শস্ত্র। রোহিঙ্গা শিবিরের পাশের পাহাড় গুলোতে রয়েছে এদের আস্তানা। সন্ধা নামলেই তারা পাহাড় থেকে নেমে এসে ক্যাম্প গুলোতে চালায় ত্রাসের রাজত্ব। শোনা যায় মুর্হুমুহ গুলির শব্দ। আইনশৃংখলা বাহিনী অভিযানে গেলেই তারা পাহাড়ে আত্মগোপন করে। উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে রয়েছে তাদের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।
ডাকাত জকিরকে গ্রেফতার করতে হেলিকপ্টার ও ড্রোন নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ন র্যাব বেশ কয়েকদফা অভিযান চালালেও জকির অথবা হাকিম কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এ পর্যন্ত। আবার এইসব সন্ত্রাসী বাহিনীর কোন সদস্যকে আইন শৃংখলা বাহিনী আটক করলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে অল্পদিনেই তারা আইনের ফাঁক ফোকর গলে বেরিয়ে পড়ে পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করে।
সম্প্রতি টেকনাফের নয়াপাড়া-শালবাগান-লেদা ও জাদিমুড়া শিবিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরো বেশ কয়েকটি উঠতি সন্ত্রাসী বাহিনী। এদের মধ্যে নয়াপাড়া শিবির কেন্দ্রিক সালমান শাহ বাহিনী ইতিমধ্যে আতংক ছড়িয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরে ও এর আশেপাশের এলাকায়। ইতিমধ্যে অনেকে তাদের হামলার শিকার হয়েছে। এদের হাতেও রয়েছে নানা অস্ত্র-শস্ত্র। স্বশস্ত্র গ্রুপ গুলো কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আবার সাধারন রোহিঙ্গাদের উপরও চড়াও হয় এরা কোন কারন ছাড়াই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারন রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মতে এইসব উঠতি গ্রুপ গুলোকে এখনি আইনের আওতায় আনতে না পারলে একসময় এরাও জকির, হাকিম কিংবা নুরুল আলমের মতো বড় সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়ে আনসার ক্যাম্প লুটের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। তাই এদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযানের দাবী তাদের।
এই ব্যাপারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন(এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. হেমায়ুতুল ইসলাম জানান, এপিবিএন রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্প গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক সহ অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে।
বুধবার ভোরে এপিবিএন সদস্যরা টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পেছনে আইব্লক এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক সন্ত্রাসীকে একটি কাটা রাইফেল ও ৩৬ রাউন্ড গুলিসহ আটক করেছে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.