এম.এ আজিজ রাসেল:
হোটেল মোটেল জোনের কলাতলী সী উত্তরা রাস্তার একটি পথ হীন উদ্দেশ্যে দখল করে রাখার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে আছে এলাকার মানুষ এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে তাই নির্মাণ সামগ্রী রাখা প্রয়োজন এমন অজুহাতে বন্ধ রাখছে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ অসামাজিকভাবে।
নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই ঘরটি সরিয়ে নিচ্ছে না। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কার্যক্রম। দখলের কারণে বন্ধ রয়েছে চলাচলের পথ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কলাতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ স্থানীয় ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবুকে দুষছেন। তবে ওই চক্রটির রাস্তা দখলে রাখায় কাউন্সিলর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। তারমধ্যে কলাতলীর বিভিন্ন স্থানে ইউজিএফ-৩ প্রকল্পের আওতায় নতুনভাবে নির্মিত হচ্ছে ড্রেইন ও রাস্তা। তবে সী উত্তরার রাস্তাটির নির্মাণ কাজ চলতেও দেখা যায়। কিন্তু রাস্তার মধ্যাংশে অন্য জায়গায় ঘর করার জন্য অস্থায়ী সেড নির্মাণে আদৌ পুরো কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে৷
স্থানীয়রা জানান, কলাতলী সী উত্তরার ঢুকার মধ্যে অনেক স্থাপনা কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আলী আকবর ও হারুন নামে একটি চক্র বিল্ডিং নির্মাণের বাহানায় বিগত এক বছর আগে রাস্তার মধ্যআংশে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য একটি টিনের ঘর তৈরি করে। বিল্ডিং নির্মাণ বন্ধ থাকলেও ওই ঘরটি এখনো ভেঙে ফেলেনি তারা। এই সড়ক দিয়ে কলাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে সীমাহীন কষ্ট মাথায় নিয়ে। তাছাড়া ওই ঘরটির কারণে এর পেছনে জমির মালিকেরা একপ্রকার বন্দির ন্যায় রয়েছে। তাদের জমিতে কিছুই করা যাচ্ছে না শুধু মাত্র অব্যহৃত একটি ঘরের কারণে।
এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তিদের কারণে একদিকে যেমন থমকে রয়েছে উন্নয়ন কার্যক্রম অন্যদিকে বন্ধ রয়েছে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাস্তাটি নির্মাণ হলে এখানকার এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তণ আসবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমেদ বাবু বলেন, আলী আকবর ও হারুন গং বিল্ডিং নির্মাণের অজুহাতে রাস্তায় ইট, বালি, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য একটি ঘর তৈরি করে। বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও ঘরটি সরানো হয়নি। ফলে রাস্তা ও ড্রেইন নির্মাণ কাজ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া কলাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয়রা চলাচলে কষ্ট পাচ্ছে। এছাড়া ঘরটির ওপাশে কয়েকজনের জমি রয়েছে। জমির মালিকেরা সেখানে যেতে পারছেন না। বিষয়টি সমাধানে ১/শিহাব ও সামসু গং বাদি হয়ে আলি আকবর ও হারুন গং কে বিবাদি করে একটি দরখাস্ত দেন। ২/মোকারম সাহেব বাদি হয়ে আনয়ার হোসেনকে বিবাদি করে আরেকটি দরখাস্ত করেন৷ ৷
আমি ইতোমধ্যে এ প্রসঙ্গে করোনা সংকটের আগে জেলা প্রশাসন ও পৌর পরিষদের সভায় অবহিত করেছি। যা করোনা মহামারীর কারণে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান আমাকে বলেছেন কতিপয় স্বার্থন্বেশী ব্যক্তির জন্য উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। তিনি বিষয়টি দ্রæত সমাধান করে রাস্তার করার প্রতিবন্ধকতা সমস্যা সমাধান করে পুরো রাস্তাটি অতি দ্রæত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগিদ দিতে জোর দিয়েছেন। যেহেতু এটি ইউজিএফ-৩ এর প্রকল্প তা সঠিক সময় কাজ শেষ না করলে ফান্ড ফেরত নিয়ে যায়৷ তিনি এলাকার স্বার্থে জনগনের চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করতে গিয় যেকোন বাধা প্রতিহত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তার কাজ সমাপ্ত করার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.