ভয়েস প্রতিবেদক, মহেশখালী:
মানবিক বিবেচনায় রোগিকে কোনোরূপ সহযোগিতা করা যেত কিনা খতিয়ে দেখা হবে-ইউএনও,মহেশখালী
জেটিতে সংস্কার কাজ চলছে তাই এটা সাময়িক দুর্ভোগ-ঘাটে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট একজন
দিন দিন বাড়ছে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রীদের অনিয়ম ও দুর্দশা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মনগড়া নিয়মে চলে ঘাটের কার্যক্রম। বোট চালকদের যথেচ্ছা চাপ প্রয়োগে দিশেহারা সাধারণ যাত্রী আর পর্যটকরা। কেউ এসব অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ঘাটে দায়িত্বরত লোকজনদের রোষানলে পড়তে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেশখালী উপজেলার জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবীদরা ছয়নং ঘাট আর জেটিঘাটের বিষয়ে খুব কম কথা বলেন। দেখাযায় ঘাটের তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।
১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় মহেশখালী জেটিঘাটে ছেলে কর্তৃক অসুস্থ পিতাকে কাঁধে বহন করে বোটে তোলার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে।ঘাটে দায়িত্বরত একজন জানান, বিষয়টি যেভাবে ফেসবুকে প্রচারণা করা হয়েছে আসলে সেটি এমন নয়। জেটিতে রাস্তার সংস্কার করা হচ্ছে তাই কয়েকদিন যাত্রীদের দুভোর্গ পোহাতে হচেছ। এটা ইচ্ছাকৃত কোনো ঘটনা নয়, অনিচ্ছকৃত।
সরজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহে জেটিঘাটের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে জেটিটি হাল্কা যানবাহন রিক্সা চলাচলের উপযোগী বলে যাত্রীরা জানান। তারপরেও সংস্কার কাজের অযুহাতে বাঁশ দিয়ে গাড়ি চলাচল আটকানো হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় শুধুমাত্র রোগী পরিবহনে রিক্সা ব্যবহার করা যেতো। কিন্তু রোগীদের সাথে দায়িত্বরতদের আচরণ অমানবিক হয়েছে।
এই ব্যাপারে সন্তোষ, নেওয়াজ ও মিজান সহ একাধিক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ঘাট দুটি দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেলের কবলে আছে। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সিন্ডিকেটটি যাত্রীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করছে। ঘাটের নির্ধারিত নিয়ম গুলো যথাযথ ভাবে পালণ করার জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষকে চাপ দেয়া প্রয়োজন।
জানা যায়, ঘাটের অনিরাপদ যাতায়াত ও দুর্নীতি করা সিন্ডিকেট থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে মহেশখালীতে সেতু স্থাপনের দাবীতে সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেছিল। তারপর থেকে ঘাটের হয়রানী দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে দাবী করছে যাত্রীরা।
কবির আহমেদ নামের এক যাত্রী জানান, সেতু চাওয়ার পর থেকে ঘাটে জনভোগান্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেটিতে রোগির গাড়ি পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। কর্তৃপক্ষের এদিকে কোন নজর নেই। অসহায় মহেশখালীবাসীর তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই।
অপরদিকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামালের উপর অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ ঘাটে মালামালের উপর নির্ধারিত মুল্য তালিকা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা বলে জানা যায়।
তবে নতুনভাবে নিয়ম করে দেশীয় পর্যটকদের প্রতিজন থেকে কক্সবাজার ৬নং ঘাটে ২০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুগ যুগ ধরে এই টোলের পরিমাণ ছিল ৫ টাকা। মুলত সেতু ও ঘাটের অব্যবস্থাপনা দুরীকরণের দাবীতে মানববন্ধন করার পর ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সেতু চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলে জানা যায়।
এবিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখেছেন উল্লেখ করে বলেন, “মহেশখালী পৌরসভা ঘাটের জেটিতে সংস্কার করছে। তাই হয়তো এটা সাময়িক অসুবিধা। তারপরও বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় ব্যবস্থা নেয়া যেত কিনা খতিয়ে দেখবো।”
জেটির সংস্কার বিষেয়ে কথা বলতে ফোনে যোগাযোগ করা হয় মহেশখালী পৌরসভার সচিবের সাথে তিনি জানান, জেটির সংস্কার কাজের বিষয়ে আমি জানিনা, জানবে ইঞ্জিনিয়ার।
পরে মহেশখালী পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলার জন্য ফোন দিলেও পাওয়া না যাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.