
আবদুল আজিজ:
বিবিসি বাংলায় ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পাওয়া কক্সবাজারের রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করতে আগ্রহী। কক্সবাজারের একটি অনগ্রসর এলাকার এই মেয়ে বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকায় আসায় উচ্ছ¡াসিত এলাকাবাসি ও তার সহকর্মীরা।
রিমা সুলতানা রিমু বলেন, ‘সারাদেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হলে যুব নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। যেখানে নারীর উপর সহিংসতা দেখা দিবে সেখানে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। আমি একজন নারী হিসাবে আমার খুব আগ্রহ নারীদের নিয়ে কাজ করতে।’
রিমু বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছি নারীর প্রতি যে বৈষম্য গুলো। এজন্য নারীদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে নারী সমাজের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি করতে হবে। আমি আমার ‘জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’ সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
[caption id="attachment_15483" align="alignleft" width="376"]
জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে রিমু
[/caption]
রিমু আরও বলেন, ‘ এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে তাঁকে সৃজনশীল ও মানবিক কাজে অনুপ্রেরনা যোগাবে। মানুষের কল্যাণে মানুষকেই ভূমিকা রাখতে হবে। ভালো কাজে যুব সমাজ যেন হাল ছেড়ে না দেয়। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সব সময় নিজেদের প্রানান্তর প্রচেষ্টা থাকতে হবে।’
রিমুর বান্ধবী উম্মে সালমা বলেন, ‘রিমুর এই সাফল্যে আমি গর্বিত। আমি চাই রিমুর সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে। রিমুর এই সাফল্য আমাদের নারী সমাজের মধ্যে মাইলফলক হয় থাকবে’।
জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিউলী শর্মা জানিয়েছেন- ‘রিমুর এ সফলতায় পুরো জাগো নারী পরিবার আনন্দিত ও গর্বিত। জাতিসংঘের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচনের জন্য রামু ও উখিয়া উপজেলার ৩০ জন সেচ্ছাসেবী কিশোরী প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এরমধ্যে রিমা সুলতানা রিমু সর্বাধিক কর্মদক্ষতা, মেধার স্বাক্ষর রেখে জাতিসংঘের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। রিমু রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের শিক্ষার প্রসার, নারী অধিকার বাস্তবায়ন, সমাজ উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কর্মকান্ডে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন। যার স্বীকৃতি আজ বিশ^বাসী দেখছে।’
[caption id="attachment_15484" align="alignleft" width="354"]
প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় রিমা সুলতানা রিমু[/caption]
২০২০ সালের বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই নারী। এরমধ্যে কক্সবাজারের রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু। কয়েকবছর ধরে রিমা সুলতানা রিমু রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা, রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও শিশুদের শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, বয়সভিত্তিক স্বাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা, রেডিও ব্রডকাস্ট ও থিয়েটার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও নারীর অগ্রগতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে চলেছেন।
২০১৯ সালে রিমু জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালে জাতি সংঘের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। রিমু কক্সবাজার ভিত্তিক ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিস এর একজন সদস্য। রিমু গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ উইমেন পিসবিল্ডার্স এর সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংঘাতসঙ্কুল দেশ থেকে আসা কিশোরীদের কল্যাণে কাজ করছেন।
রিমা সুলতানা রিমু কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার কৃষক আবদুর রহিম ও গৃহিনী খালেদা বেগমের মেয়ে। রিমু কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি ফলপ্রার্থী। ৪ ভাই বোনের মধ্যে রিমা সুলতানা রিমু ২য়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকা ঠাঁই পেয়েছেন কক্সবাজারের রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু। কয়েকবছর ধরে রিমা সুলতানা রিমু রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা, রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও শিশুদের শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, বয়সভিত্তিক স্বাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা, রেডিও ব্রডকাস্ট ও থিয়েটার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও নারীর অগ্রগতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে করছেন।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.