আবদুল আজিজ:
উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে নিজের পিতা দাবি করে আদালতে শরণাপন্ন হওয়া যুবক মোহাম্মদ ইসহাক (২৬) কে সন্তান হিসাবে মেনে না নিলে কি হবে? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, সন্তান হিবাবে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে যে তথ্যপ্রমাণ গুলো প্রয়োজন সেসবের কিছুই নেই যুবক মোহাম্মদ ইসহাকের। তাহলে প্রচলিত আইনে কি হতে পারে? সে বিষয়ে কক্সবাজার ভয়েসের সঙ্গে কথা বলেছেন বাদি পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী মোহাম্মদ ওসমান।
এডভোকেট মোহাম্মদ ওসমান বলেছেন, ‘মামলার ফাইলটি আমি প্রস্তুত করে দিয়েছি। আমার বাদি মোহাম্মদ ইসহাকের মা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেছেন সেটি মায়ের স্বীকারোক্তি। ওই সময়ে বিয়ে পড়ানো মৌলভী আবদুস সালাম ও স্বাক্ষী এখলাছ এখন বেঁচে নেই। মা সুফিয়া খাতুনের উপর নির্ভর করে বাদি পিতৃত্ব দাবি করে আদালতে আবেদন করেছেন। এরপরও আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি আদালত দিন ধার্য্য করেছেন। যদি কোন তথ্যপ্রমান ও সাক্ষী আদালতে পেশ করতে না পারেন তাহলে বাদি ন্যায় বিচারের আশায় ‘ডিএনএ’ পরিক্ষার আবেদন করতে পারেন। আদালত প্রয়োজন মনে করলে ‘ডিএনএন’ পরিক্ষা করার অনুমতি দিতে পারেন।
এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে নিজের পিতা দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মোহাম্মদ ইসহাক (২৬) নামের এক যুবক। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আলোচিত এই সাবেক সাংসদকে নিজের পিতা জেনেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়ে বাবা ডাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ওইদিন দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ সহকারী জজ আদালতে সাবেক সাংসদ বদিকে নিজের পিতা দাবি করে আবেদন করেন। এ নিয়ে গত দুইদিন ধরে টেকনাফসহ পুরো জেলায় আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়া গ্রামের ২৬ বছরের যুবক মোহাম্মদ ইসহাক। জন্মের পর থেকেই পিতৃত্ব থেকে বঞ্চিত। চোখের সামনে পিতার পরিচয় জেনেও চোখের পানি ফেলেছেন। সহ্য করেছেন নিরবে। কিন্তু, প্রকাশ্যে বাবা ডাকার সুযোগ হয়নি। কিন্তু, কোন উপায়ন্তর না দেখে প্রকাশ্যে এলেন ২৬ বছরের এই যুবক। আদালতে মা সুফিয়া খাতুনকে বিবাদি করে নিজের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে পিতৃত্বের পর্যাদা দেয়ার জন্য আবেদন করেন। পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করারও আবেদন করেছেন আদালতে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
বাদি মোহাম্মদ ইসহাক আবেদনে উল্লেখ করেছেন, গত ১৯৯২ সালের ৫ এপ্রিল কলেমা পড়ে তার মা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তার মায়ের বিয়ে পড়ান আবদুর রহমান বদির পারিবারিক আবাসিক হোটেল নিরিবিলিতে তৎসময়ে কর্মরত মৌলভী আবদু সালাম। বিয়ের স্বাক্ষী ছিলেন হোটেলের দারোয়ান এখলাছ মিয়া। এসব ঘটনা বুদ্ধি হওয়ার পর তার গর্ভধারিণী মায়ের কাছেই শুনেন, তার পিতা আবদুর রহমান বদি। পরবর্তী সময়ে মায়ের হাত ধরে অসংখ্যবার পিতার কাছে যান। ওই পিতা আবদুর রহমান বদি অপ্রকাশ্যে তাকে নিজের সন্তানের মত বুকে জড়িয়ে আদর করেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এভাবে অসংখ্যবার পিতা আবদুর রহমান বদির কাছে গিয়ে সান্নিদ্য পেয়েছেন। কিন্তু, প্রকাশ্যে সন্তান হিসাবে মোহাম্মদ ইসহাককে মেনে নেয়নি। কারণ, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সামাজিক অবস্থানসহ নানা সমীকরণ দেখিয়ে মায়ের কাছে বার বার সময় নেন। মাও স্বামীর (আবদুর রহমান বদি) কথার অবাধ্য হননি। তাই তার মা সুফিয়া খাতুন এতোদিন চুপ ছিলেন।
মোহাম্মদ ইসহাক আরও জানান, তার বয়স বাড়ার কারণে পিতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলে দুইজন মিলে আবদুর রহমান বদির ছোটবোন শামসুন নাহারের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা ঘরোয়া ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। আবদুর রহমান বদি কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এখন আমাদের সাথে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই কোন উপায় না দেখে পিতৃত্বের দাবিতে আদালতের দ্বারস্ত হয়েছেন।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.