বিনোদন ডেস্ক:
ঢাকার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একসময় প্রতি বছর প্রায় ১০০ সিনেমা মুক্তি পেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে এসেছে। গত কয়েক বছর সেই সংখ্যাটা নামতে নামতে ৪০-৪৫-এ গিয়ে ঠেকেছে। ২০২০ সালকে অনেকে চলচ্চিত্রের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেও করোনার হানায় প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে ঢাকার সিনে ইন্ডাস্ট্রি। বেকার হয়ে পড়েছেন পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক-নায়িকারা।
২০২০ সালের শুরুটা হয়েছিল ঢিমেতালে। নতুন সিনেমার ঘোষণা, শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততা সবকিছুতেই যেন ভাটা নেমেছিল। এর মাঝেই শুরু হয় চলচ্চিত্র শিল্পী ও হলমালিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ঝগড়া। এসব করতে করতেই করোনার আঘাত এসে পড়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। গত বছর সিনেমা মুক্তির হার সর্বনিম্ন ৪০-এ এসে পৌঁছায়। আর এ বছর সিনেমা মুক্তির হার সর্বকালের সব রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে গেছে।
তবে মুক্তির অপেক্ষায় ছিল প্রচুর ভালো ভালো সিনেমা। ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘শান’, ‘বিদ্রোহী’ ও ‘মন দেব মন নেব’। আর মার্চ মাসেই ‘নীল মুকুট’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’, ‘চল যাই’, ‘নারীর শক্তি’, ‘বান্ধব’, ‘নীল ফড়িং’, ‘জ্বীন’, ‘আমার মা’, ‘গোর’, ‘পরাণ’ মুভিগুলোও মুক্তির কথা ছিল।
করোনার কারণে ভারতীয় নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের ‘বঙ্গবন্ধু’র বায়োপিকের কাজ পিছিয়ে যায়। শ্যুটিং স্থগিত হয়ে পড়েছিল অনন্ত জলিলের ‘দিন : দ্য ডে’, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘গাঙচিল’, ‘জ্যাম’; রায়হান রাফীর ‘স্বপ্নবাজী’, ‘ইত্তেফাক’।
নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের মুভি দিয়ে দীর্ঘদিন পর ফেরার কথা ছিল পূর্ণিমা ও ফেরদৌসের। কিন্তু তার নির্মাণাধীন মুভি ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’-এর শ্যুটিংও আটকে আছে শেষ পর্যায়ে এসে।
মুক্তির মিছিলে বেশ আলোচনায় ছিল নাদের খান পরিচালিত ভৌতিক ঘরনার সিনেমা ‘ জ্বীন ’। এই মুভিতে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা সজল ও পূজা চেরি। কিন্তু করোনার কারণে মুক্তি পায়নি। এ তালিকায় রয়েছে সৈকত নাসিরের দুই সিনেমা ‘ক্যাসিনো’, ‘আকবর’। ক্যাসিনোতে শাকিব খানের বাইরে গিয়ে প্রথমবার নিরবের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন বুবলি। আর ঢাকার গ্যাং কালচার নিয়ে নির্মিত ‘আকবর’-এ প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন বুবলি ও ইমন।
এদিকে সারা বছর করোনার কারণে যেমন সিনেমার কাজ আটকে ছিল, তেমনি মুক্তিও পায়নি আরও বহু মুভি। তবে বছর শেষে আবারও সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। অক্টোবরে মুক্তি পায় মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’, ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছে চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’, অনন্য মামুনের ‘নবাব এলএলবি’।
এদিকে করোনার কারণে সিনেমা হল বন্ধ থাকার সুবাদে আশা দেখাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম। প্রচুর পরিচালক ঝুঁকে পড়েছেন ওয়েব ফিল্মের দিকে। করোনার কারণে ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফরম ও অনলাইন মাধ্যমগুলোতে ওয়েব ফিল্মের বেশ চাহিদা বাড়ছে। ওয়েব ফিল্ম, শর্টফিল্ম, ওয়েব সিরিজেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখছেন ঢালিউডের কলাকুশলীরা। বেশ কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থাও ভাবছে ওটিটি প্ল্যাটফরম চালু করার কথা। কিন্তু পরিচালক ও কলাকুশলীরা আপাতত টিকে থাকার লড়াইয়ের জন্য নিচ্ছেন ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের সিদ্ধান্ত। ইতিমধ্যেই অনন্য মামুন ওটিটি প্ল্যাটফরম ‘আই থিয়েটারে’ মুক্তি দিয়েছেন শাকিব খান অভিনীত নবাব এলএলবি। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি দর্শকদের বিনোদিত করলেও রয়েছে পাইরেসির ভয়। ফলে ২০২১ সালে পাইরেসি মোকাবিলা করে ওটিটিতে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। পরিচালক অনন্য মামুন বলেন, ‘করোনার কারণে ২০২০ সাল সিনেমা অঙ্গনে খুব বাজেভাবে পার হয়েছে। এ বছর আমাদের অনলাইন প্ল্যাটফরমের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২০ সালের প্রাপ্তি একটাই নতুন মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা।’
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.