বলরাম দাশ অনুপম:
কেউ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হলে ভয়ে যেখানে নিজ পরিবারের সদস্যরাই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, সংস্পর্শে আসার ভয়ে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যকে বাড়িতেই ঢুকতে দিচ্ছেন না অনেকে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও করোনা রোগীদের অকৃত্রিম বন্ধু আনোয়ার হোসেন।
করোনা দূর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে কোন বিনিময় ছাড়াই সেবা বঞ্চিত করোনা রোগীদের খুঁজে খুঁজে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কি চিকিৎসা বঞ্চিত কোন রোগীর খবর পেলে করোনা রোগীর বাড়িতে গিয়েও রোগীর সেবা দিচ্ছেন আনোয়ার। আক্রান্ত রোগীদের সেবা করতে গিয়ে নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাতেও দমে যাননি এ করোনা যোদ্ধা। ফলাফল নেগেটিভ হাতে পাওয়ার পরের দিন থেকে ফের করোনা রোগীদের নিয়মিত সেবায় ঝাপিয়ে পড়েন করোনা যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।
এভাবেই কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের কাছে ভরসা নাম আনোয়ার।
একান্ত আলাপকালে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক করোনা রোগীকে নিজ হাতে সেবা করার কথা জানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। রোগীদের অন্যতম ভরসা খ্যাত আনোয়ার হোসেন কক্সবাজার পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। আনোয়ার কক্সবাজারের ইউনিয়ন হসপিটাল নামে একটি বেসরকারি হসপিটালের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। আলাপকালে তিনি জানান, চাকরির পাশাপাশি শুধু মানবতার খাতিরে, বিবেকের ডাকে করোনা রোগিদের পাশে দাড়ান তিনি। আনোয়ার বলেন, দেশে করোনার দুর্যোগ শুরু হলে সারাদেশের মতই কক্সবাজারেও করোনা রোগীদের বিনা চিকিৎসায় একের পর এক মৃত্যু আমার ভেতরটা নাড়া দেয়। এক সময় আমি সিদ্ধান্ত নেই করোনা রোগীদের সেবা করব।দ১ এতে আমার মৃত্যু হলেও পিছু হটবো না। সেই থেকে তাদের পাশে রয়েছি। প্রত্যেক করোনা রোগী আমার স্বজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর হতে প্রতিদিন করোনা ইউনিটে যাই খোজ নেয়ার জন্য। অপেক্ষায় থাকি,করোনা নেগেটিভ হয়ে ফিরে যাবেন স্বজনদের কাছে।
করোনা যোদ্ধা আনোয়ার, তার স্ত্রী-সন্তানদের আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি ফের করোনায় আক্রান্ত হলে,তার কোন অঘটন ঘটলে তার পরিবারের কি হবে? তিনি বলেন, আল্লাহ দেখবেন!
গভীর শংকা প্রকাশ করে করোনা যোদ্ধা আনোয়ার বলেন, মানুষ করোনাকে গুরুত্বই দিচ্ছে না। সামান্য মাক্স পড়ে না মুখে। অথচ করোনা কি ভয়াবহ প্রাণঘাতি রোগ, তা শুধু করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তার নিকটজনরাই জানে।
কক্সবাজারের প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন তার জীবনের সর্বোচ্চ ঝুকি নিয়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্য ছুটে যান।
তিনি কোনো স্বীকৃতি, সনদ কিংবা পদকের আশা করেন না।
তার শুধু একটাই প্রার্থনা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গভীর শংকায় এবং শারিরীক কষ্ট ভোগ করা মানুষটির কষ্ট লাঘব হোক। ফিরে আসুক তার স্বজনের কাছে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.