প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৫:৩৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৮, ২০২১, ৫:১১ পি.এম
তিন চাকায় ঘুরে দুই পরিবারের ভাগ্যের চাকা

তিন শিশু ভ্যান গাড়ি নিয়ে তরকারী বিক্রি করছিল গোরকঘাটার ঘোনা পাড়া রাস্তার ধারে। এরকম দৃশ্য মহেশখালীতে খুব কমই দেখা মিলে। কৌতুহল জাগায় তাদের ডেকে দাড় করালাম। প্রথমে ভয় পেয়েছিল তারা। পরে সংবাদকর্মী শুনে কিছুটা আশ্বস্থ হয়। ভয় পাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে একজন জানান, অনেকেই ভয় দেখিয়ে তরকারী নিয়ে নেয়।
ভ্যান গাড়িতে আলু, টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, মরিচ, পেয়াজ, মুলা, বেগুন, সীম সহ হরেক রকমের তরকারী রয়েছে। তিন শিশুর দুইজন ভাই অপরজন তাদের প্রতিবেশী। তাদের বাড়ি বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনা গ্রামে। দুই ভাইয়ের একজন সাজ্জাদ হোসেন (১৪), আরেকজন নিহাদ উদ্দীন সবুজ (১২)। তাদের বাবা নুরুল আলম পেশায় একজন জেলে। তাদের প্রতিবেশী অপরজনের নাম মোঃ আদনান (১৪), তার বাবা পেশায় একজন কৃষক। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাদের বাবার কাজ না থাকায় সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাই তারা বেতনধারী ভ্যান গাড়িতে তরকারী বিক্রির কাজটি করছে বলে প্রতিবেদককে জানান।
এসব শিশুদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, করোনাকালীন সংকটে আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবারের ভরনপোষনে সহযোগীতা করতে তারা ভ্যানে করে তরকারী বিক্রি করছে। ভ্যান গাড়ি আর তরকারী তারা কিনে বিক্রি করছে কিনা জিজ্ঞেস করলে জানান, ভ্যান আর তরকারী বড় মহেশখালী নতুন বাজারের আবু বক্কর সওদাগরের। তার অধীনে তারা বেতনধারী কাজ করছেন। সারাদিনে তারা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারে। আর তাদের প্রতিজনের বেতন দেয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে দেয়। তা নিয়ে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছে।
তাদের দুজন স্কুলে পড়ে এবং অপরজন মাদ্রাসায়। সংসারের অভাবে এখন তাদের পড়াশোনা হুমকির মুখে পড়েছে। পড়ার আগ্রহ আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, “আমাদের পড়তে খুব ইচ্ছে। সবার মত স্কুলে যাব, খেলাধুলা করব, সহপাঠীদের সাথে আনন্দ করব। কিন্তু ঘরের খরচ যোগাতে তা পারছিনা বলেই গাড়িতে তরকারী বিক্রি করছি। যদি সুযোগ পাই তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
ভয়েস/ জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.