বলরাম দাশ অনুপম:
উচ্ছেদ আতংকে ভুগছেন কক্সবাজার শহরের পুরাতন ঝিনুক মার্কেটের ব্যবাসায়ীরা। শুধু তাই নয় বাস্তুভিটা হারানোর শংকাও এখানকার ব্যবসায়ীদের। সবমিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝে দিনাতিপাত করছেন পুরাতন ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ও এর সাথে জড়িত ২ শতাধিক পরিবার। এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে এদিকে লীজ দলির সম্পাদনের জন্য সোমবার (২২ ফেব্রæয়ারী) কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আবেদন সূত্রে জানা যায়-১৯৭৩ সাল থেকে কক্সবাজার মৌজার পুরাতন ঝিনুক মার্কেটের বি,এস ১ নম্বর খাস খতিয়ানের বি,এস ২৩০৫ নম্বর দাগের খাস জমিতে ১ শতক করে জমিতে ১৪ ব্যবসায়ী দোকান তৈরি করে ঝিনুক দিয়ে তৈরি দ্রব্যাদি শৈল্পিক তৈরি করে ব্যবসা করে আসছে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর জন্য একসনা বন্দোবস্তু মামলাও করা হয়। এই মামলামূলে ১৯৭৪-৭৫ সাল থেকে ২৩ বছরের অধিককাল সময় ধরে সরকারী কোষাগারে খাজনা আদায় করে। পরবর্তীতে এই ১৪ ব্যবসায়ী উক্ত তফসীলের খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করলে প্রত্যেকের নামে আলাদা বন্দোবস্ত মামলা রুজু করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত মামলা নং-৮০/১৯৯৫-৯৬(সদর) উক্ত ১৪টি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত মামলার ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-ভূ:ম:/শা-৮/৩০৭/২০০০/৩৪৩, তারিখ-৩০/০৪/২০০৬ খ্রি: মূলে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত অনুমোদন করা হয়।
পরবর্তীতে পুরাতন ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-ভূ:ম:/শা-৮/৩০৭/২০০০/২৭, তারিখ-১৩/০১/২০১৪ খ্রি: মূলে ধার্য্যকৃত সালামির টাকা চার কিস্তিতে জমা প্রদানের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের স্মারক নম্বও ২-৯৭/২০০৭-৪৫৫৪, তারিখ-২১/০৯/২০১৪ মূলে সমান চার কিস্তিতে সালামীর টাকা পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ীদের নোটিশ প্রদান করায় ব্যবসায়ীরা বন্দোবস্তকৃত মামলা নং-৮০/১৯৯৫-৯৬(সদর) এর তফসীলোক্ত জমির সালামী বাবদ ধার্য্যকৃত টাকা ডি.সি আর মূলে চার কিস্তিতে পরিশোধ করে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সর্বশেষ কিস্তির টাকা পরিশোধ করার পর বন্দোবস্ত দলিল সম্পাদন করার জন্য তারা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করে। স্ট্যাম্প দাখিল করার পর ৫ বছর অতিবাহিত হলেও জমির বন্দোবস্ত দলিল সম্পাদন করে না দেয়ায় খতিয়ান সৃজন সম্ভব হয়নি বলে জানান এখানকার ব্যবসায়ীরা।
পুরাতন ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ী মোক্তার আহমদ, ছৈয়দ আলম, পুলিন দত্ত, অনুপ পালসহ অনেকে বলেন-আমাদের লীজ দলির সম্পাদন না করে উল্টো বুল ডোজার দিয়ে দোকান গুঁরিয়ে দেয়ার কথাও বলা হচ্ছে। এক প্রকারে আমরা (ব্যবসায়ীরা) উচ্ছেদ আতংকে ভুগছি এবং চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছি। দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণীয় এই ঝিনুক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে লীজ দলির সম্পাদনের দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এবিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজের ব্যবহৃত ০১৮৭২-৬১৫১০১ নাম্বার একাধিকবার কল করার পরও রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.