ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
আবারও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে ৫০ জনের বেশি নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন। আর এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কক্সবাজারের সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। পাশাপাশি টহল দেওয়ার জন্য বিজিবির সংখ্যাও দ্বিগুণ করা হয়েছে।
বিজিবি হেডকোয়ার্টার পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান ও ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে, এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।
গত ২৯ এপ্রিল টেকনাফে শালবাগান ক্যাম্পে আসা মিয়ানমারের মংডু’র বড় গর্জের বিল এলাকার সোনা আলীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে ৪ বছর ৫ মাস ৫ দিন কারাগারে ছিলাম। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল মিয়ানমার সরকার জেল থেকে মুক্তি দিয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে এসেছি। এখন শালবাগান ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে আছি।’
এদিকে, নতুন করে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।
কক্সবাজার পিপল্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন,‘ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের বন্দি অনেক রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। তারা এখন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে অনেক রোহিঙ্গা নানা কৌশলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তাদের মিয়ানমারেরই থাকার কথা। কিন্তু তারা অনুপ্রবেশ করে এখন বাংলাদেশে ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। এভাবে নতুন করে রোহিঙ্গারা যদি বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেন; তাহলে মিয়ানমার থেকে বাকি রোহিঙ্গারাও অনুপ্রবেশে উৎসাহিত হবে।’
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক সরকার ১৩৭ জন বিদেশিসহ মোট ২৩ হাজার ৪৭ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দিয়েছে। যেখানে ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা রয়েছেন। যারা ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট সহিংসতার আগে ও পরে আটক হয়েছিলেন।
এদিকে অনুপ্রবেশ বিষয়ে বিজিবির দেওয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের গেলো ৪ মাসে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালান ১৪৭ রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত থেকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠায় বিজিবি। এর মধ্যে পুরুষ ১০৫ জন, নারী ২৮ জন ও শিশু ১৪ জন। গেলো ৪ মাসের মধ্যে এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলে। যার সংখ্যা ছিল ৬২ জন।
জানুয়ারি মাসে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মোট ১৬ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এরমধ্যে টেকনাফে ৭ জন ও কক্সবাজারে ৯ জন।
ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মোট ১৩ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। এর মধ্যে টেকনাফে ১০ জন ও কক্সবাজারে ০৩ জন।
মার্চ মাসে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ৫৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এরমধ্যে টেকনাফে ৪৮ জন ও কক্সবাজারে ০৮ জন। পরে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।
এপ্রিল মাসে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না করলেও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত দিয়ে ৬২ জন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। যার মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ৫ জন শিশু। তাদেরও ফেরত পাঠানো হয় মিয়ানমারে।
জানতে চাইলে বিজিবি হেডকোয়ার্টার পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। সেটা দেখতে পাচ্ছি। তাই সীমান্তে বিজিবির টহল সংখ্যাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের চেষ্টা যেমন বেড়েছে, তেমনি ফেরত পাঠানোর পরিমাণও বেড়েছে। এটাই হচ্ছে সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি। যা পুরোপুরি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজিবি প্রতিনিয়তই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিহত করে স্বদেশে পাঠাচ্ছে।’
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান আরও বলেন, ‘কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তের ব্যাপকতা, ভূমির গঠন-ধরন সবকিছুই সবার জানা। এত ব্যাপক সীমান্তে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি আমাদের এখনো হয়নি। তবে বিজিবির দৃশ্যমান, সম্ভাব্য যেসব পয়েন্ট, দুর্বল এলাকা রয়েছে, সেগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, সার্ভিলেন্স সিস্টেম, হাই-স্পিড ইঞ্জিন বোট, নদীতে রাতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। গেলো কয়েক সপ্তাহে প্রতিহত করার সংখ্যাটা দেখলে বোঝা যাবে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
এদিকে, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে ২২ জন রোহিঙ্গা এসেছেন। তারা ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের জেল হাজতে ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ রোববার (০২ মে) মিয়ানমারের মংডুর ওয়াবেক গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আহাম্মদ (৭৫), সালেহ আহাম্মদ (৭২) ও বড় গর্জের বিলের বাসিন্দা মো. রহমত উল্লাহ (৩৫) বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে এপিবিএন সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। আর বিষয়টি ক্যাম্পের সিআইসিকে জানানো হয়েছে।’
নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে মো. তারিকুল ইসলাম বলেন,‘২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সহিংসতা চলার সময় তারা ৩ জনই সেখানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিরেন। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রোববার (০২ মে) সকাল ১০টায় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পে পরিবারের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।’
মো. তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শুধু আমাদের ১৬ এপিবিএন আওতাধীন ক্যাম্প নয়, এখানে আরও দুটি এপিবিএন রয়েছে। তাদের অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও জানিয়েছেন, তাদের ক্যাম্পেও কিছু সংখ্যক নতুন রোহিঙ্গা এসেছেন। সব মিলিয়ে ৫০ জনের বেশি নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করেছেন।’ সূত্র:রাইজিংবিডি।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.