প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৫, ২০২৬, ১২:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২২, ২০২১, ৮:১৬ পি.এম
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফে দ্বিতীয় দিনের লকডাউনে কড়াকড়ি

বিশেষ প্রতিবেদক:
টেকনাফ উপজেলা এবং ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার থেকে টেকনাফ উপজেলায় দশ দিন এবং উখিয়া উপজেলার ৪টি ও টেকনাফ উপজেলার ১ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩১ মে পর্যন্ত কঠোর ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলায় লকডাউনের দ্বিতীয় দিন রিক্সা ও ইজিবাইক এবং প্রয়োজনী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দিনের বেলায় প্রয়োজনীয় দোকান পাট খোলা থাকলেও বিকেল পাঁচটার পরে বন্ধ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী জানান, ‘ করোনা সংংক্রমণ হঠাৎ করে বৃৃদ্ধি পাওয়াও কক্সবাজার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ২১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন দেয়া হয়েছে।
করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এ উপজেলায় কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এর ৪টি মেঘা ক্যাম্প টেকনাফ উপজেলার ১ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কড়াকড়ি ভাবে লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামসুদ্দৌজা।
তিনি জানান , সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টেকনাফের ক্যাম্প ২৪ এবং উখিয়ার ক্যাম্প ২, ৩, ৪ ও ১৫ নাম্বার ক্যাম্পকে লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পে সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওষুধ ও খাবারের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অফিসের প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা তোহা জানান গতকাল ২১ মে পর্যন্ত কক্সবাজারের ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯৪৮ জন রোহিঙ্গার দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ১২ রোহিঙ্গা মারা গেছেন। তিনি জানান এতদিন রোহিংগা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ ভালো থাকলেও চলতি মে মাসে ক্যাম্পে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়। গত ১৪ মেে থেকে গতকাল ২১ মে পর্যন্ত ৮ দিনে ২০০ জন রোহিঙ্গা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৫ জন উখিয়া উপজেলায় ২০ জন এবং টেকনাফ উপজেলায় ৮ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকে যাতে কোন রোহিঙ্গা বের হতে না পারে তা কঠোর ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আশয় নিয়েছিল ৪ লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.