নাসির উদ্দিন, কুতুবদিয়া:
নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের নিকট ধরা খেলেন স্বামী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল রহস্য উম্মোচন হয়।
ভিকটিমের তথ্যমতে তার স্বামী একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ইয়াবা সেবনকারী। প্রতিনিয়তই ইয়াবা সেবন, নির্যাতন, মারধর পূর্বক এবং ইয়াবা বিক্রি কাজে বাধ্য করে ব্যর্থ হয়। তার কথা না শুনায় জঘন্যতম গৃনীত অপবাধ দিয়ে ইয়াবা বহণ কাজে বাধ্য করতে চেষ্টা করে। সকল কিছু উম্মোচিত হলে পুলিশ ভিকটিমের জবানবন্দিতে বিষয়টির আসল রুপ উঠে আসে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনী গ্রামের রফিক আলমের কন্যা রুনা আকতারের সাথে উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ফযজনির বাপের পাড়ার রুহুল আমিনের ছেলে মোঃ রোবেল (২১) সাথে বিগত দেড় বছর পূর্বে ইসলামী সরিয়ত মোতাবেক ৪ লাখ টাকা দেনমোহর কামিন দিয়ে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে রুনার স্বামী মোঃ রোবেল যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে আসছে।
গত ১০ মার্চ দুপুরে ব্যবসা করার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃস্টি করে। গরীব পিতার নিকট থেকে অনেক কষ্ট করে ৩০ হাজার টাকা স্বামীকে দেন। কিছু দিন যেতে না যেতেই আবারও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবীতে মারধর করে। যৌতুকের টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করায় ভিকটিম রুনা আকতারকে বাপের বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়। প্রায় সময় মুঠোফোনে হুমকি ধমকি দিয়ে যৌতুকের ট্কা দাবী করে। গত ১৫ জুন বিকাল ৫টায় মোঃ রুবেল তার শাশুর বাড়িতে (রুনার) গিয়ে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ সৃস্টি করে।
এক পর্যায়ে রুনাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার চেস্টা করলে রুনা চিৎকার দিলে মা- বাবা ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে রোবেল পালিয়ে যায়। আত্নীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা রুনাকে ঘটনাস্হল থেকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রুনার স্বামী রোবেল ঘটনার পরপরই কুতুবদিয়ার একজন টাউট শ্রেণীর বাটপারের আশ্রয় নেয়। ঐ টাউট সু - কৌশলে মিথ্যা এজাহার লিখে আরেক জনকে ফাঁসাতে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে কুতুবদিয়া থানায় এজাহার জমা করেন।
কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিকটিম রুনা আকতারকে স্বীকারোক্তির জন্য থানায় আনা হলে ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো। পুলিশ ভিকটিম রুনার জবানবন্দি নিয়ে তার স্বামী মোঃ রোবেলের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনের ১১(গ) ধারা মোতাবেক রুনার পিতা রফিক আলম বাদি হয়ে রোবেলকে আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় ১০/২১ মামলা রুজু করে।
আসামী রোবেলকে পুলিশ তৎক্ষনিক আটক করে। ১৬ জুন বুধবার দুপুরে কুতুবদিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালতে জি,আর ৬৯/২১ মামলায় হাজির করা হলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ভিকটিম রুমা আকতার আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ফোজদারী কার্যবিধি ২২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি দেন। অবশেষে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে অপরকে ফাঁসাতে গিয়ে বাদি নিজেই শ্রীঘরে।
ভয়সস/ জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.