এম এ সাত্তার:
কক্সবাজার সদরে অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড ছনখোলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দরিদ্র দেলোয়ার হোসেনের একমাত্র বসতঘরটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন সাবেক মহিলা মেম্বারের স্বামী সমাজসেবক নুরুল হুদা লুলু। তিনি এই ন্যক্কারজনক জগন্য কাজের নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান প্রশাসনের প্রতি।
এলাকাবাসী জানায়, গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সারাদিন কর্মব্যস্ত শেষে যে যার ঘরবাড়িতে অবস্থান করছিল। গতকাল ১৩ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে বারটার দিকে প্রতিবেশীরা হঠাৎ জাফর আলমের পুত্র দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণে বাঁচতে এ সময় ঘরে থাকা লোকজন দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শোনে পার্শ্ববর্তী ঘরের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে এলাকার আমজনতা ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে বসতঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে মালামালসহ এক/দেড় লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জ্বলন্ত ঘরের আগুন নেভানোর সাহায্য করতে গিয়ে একাধিক লোক টিনের চালে কেটে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত জানা যায়নি। আগুন লাগার বিষয়টি রহস্যজনক।
এ ব্যাপারে দেলোয়ার হোসেন জানান,পিতা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। মা অসুস্থ। নানার বাড়িতে সে বড় হয়েছেন। তার নানা জীবিত থাকা অবস্থায় তাদেরকে নানার বাড়ির এক পাশে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ওখানে সে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। বসতবাড়ি নিয়ে তার মামাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ব্যাপারে তার মামাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে গতকাল ঘাটঘর বাজারে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সমন্বয়ে সালিশ বৈঠক হয়। বনিবনা হওয়াতে উভয়পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে রাত অব্দি এগারোটার দিকে যে যার মত চলে যাই। এরপর সে বাজারে অবস্থান করে এক ব্যক্তির সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপরত ছিল। অতঃপর রাত সাড়ে বারোটার সময় তার বাড়ির দিক থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান আগুনে তার ঘর পুড়ে যাচ্ছে। এবং স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণ আনলেও পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
সরেজমিনে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে বসতঘরটি কারো না কারো দেয়া আগুনে পুড়ে আঙ্গার হওয়ার দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। ঘৃণিত ওইসব জগণ্য ঘটনা যেন এলাকার মধ্যে পুনরাবৃত্তি না হয় তদন্ত পূর্বক জড়িদেরকে শাস্তি আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.