ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজার জেলায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণে গত ২৪ ঘন্টায় পৃথক ঘটনায় একজন শিশুসহ ১৪ নিহত হয়েছন। গত দুইদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টির ফলে জেলার অনেক উপজেলা পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর সকাল থেকে সারাদিন টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার শতাধিক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার শহরতলীর বাজারঘাটা, কলাতলী, চরপাড়া, কাঙ্গালী পাড়া, সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, সদর উপজেলার খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, পিএমখালী, পোকখালী, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, ঘটিভাঙ্গা, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, উজানটিয়া, চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরি, কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইল ও তাবলারচর এলাকাসহ পাশবর্তী এলাকার অন্তত ৭০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সাথে সাগরের জ্বলোচ্ছ্বাস ও পাহাড়ী ঢলে এক হাজার একরেরও বেশি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে পানের বরজ ও ধান সহ বিভিন্ন সবজির ফসল।
উখিয়া:
ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে উখিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু সহ ৬জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে অন্তত আরও ৫জন। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হন তাহারা।
নিহতরা হলেন, উখিয়ার বালুখালী ১০নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-৩৭ ব্লকের নুর মোহাম্মদের মেয়ে নুর নাহার (৩০), শাহা আলমের ছেলে শফিউল আলম (১২), জি-৩৮ ব্লকের ইউসুফের স্ত্রী দিল বাহার (২৪) ও তাদের ২সন্তান আব্দুর রহমান (৪) ও আয়েশা ছিদ্দিকা (২)। এসময় আহতরা হলেন, শাহ আলমের মেয়ে নুর ফাতেমা (১৪) ও জানে আলম (৮)।
টেকনাফ:
টেকনাফে পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ২৭ জুলাই মধ্যরাতে টেকনাফ উপজেলারর হ্নীলা ইউনিয়নের ভিলিজারপাড়ার সৈয়দ আলমের বাড়িতে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া সৈয়দ আলমের ৫ সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
নিহতরা হলো টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পাহাড়ি গ্রাম ভিলেজার পাড়া এলাকার সৈয়দ আলমের ছেলে আব্দু শুক্কুর (১৬), মোহাম্মদ জুবাইর (১২), আবদুর রহিম (৫), মেয়ে কহিনুর আক্তার (৯) ও জয়নবা আক্তার (৭)।
মহেশখালী:
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীততে পৃথক দুটি ইউনিয়নে একজন বৃদ্ধা এবং একজন কিশোরী পাহাড় ধসে নিহত হয়েছেন। নিহত বৃদ্ধার বাড়ি হোয়ানক ইউনিয়নে রাজুয়ার ঘোনা মৃত রফিক উদ্দিনের পুত্র আলি হোসেন। তিনি নিহত হন মধ্যরাতে। অপরটি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের।্ সিপাহীপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে মোর্শেদা বেগম (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন। মৃত মোর্শেদা বেগম ওই এলাকার আনসার হোসেনের মেয়ে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো: আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজও বৃষ্টি থাকবে।
২৪ ঘন্টায় কক্সবাজার জেলায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকালও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল সমুহে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুকিপূর্ণ বসতি গুলো সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশিদ জানান, ভারী বর্ষণে কোথায় কী ক্ষতি হচ্ছে তা খবর নেয়া হচ্ছে। এ জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে।
তিনি বলেন, পাহাড় কাটা রোধে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলছে। পাহাড় ধস নিয়ে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
ভয়েস/ জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.