জিকির উল্লাহ জিকু:
দ্বিতীয় দফা সাক্ষ্যগ্রহন শেষ, আগামী ধার্য্য তারিখ ২০, ২১, ২২ সেপ্টেম্বর
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার দ্বিতীয় দফায় চতুর্থ দিনে ষষ্ঠ সাক্ষি শহীদুল ইসলামকে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এসময় সাক্ষ্যগ্রহন শেষে আগামী ২০, ২১, ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য্য করেছে আদালত।
বুধবার দুপুর ২ টারদিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে বাদি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, বুধবার দ্বিতীয় দফার চতুর্থ দিনে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম শহীদুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী আগামী ২০,২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহনের দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর আরও জানান, বুধবার দ্বিতীয় দফা সাক্ষ্যগ্রহনের শেষ দিন। এদিনে স্থানীয় মসজিদপর ইমাম শহীদুল ইসলাম মসজিদের ছাদ থেকে ঘটনাস্থলের পুরো ঘটনা আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট।'
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, বুধবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এসময় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন ও জেরা শেষে চলতি মাসের ২০,২১ ও ২২ তারিখ দিনধার্য্য করেছে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত জানান, সাক্ষী মজিদের দোতলা থেকে ঘটনা দেখেছেন বলে আদালতকে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে এবং মাঝখানে অনেক গাছ রয়েছে। তাই, সাক্ষী ঘটনাস্থল থেকে কিছু দেখেছেন বলে মনে হয়নি।
রানা দাশ গুপ্ত জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিতে কই একজন সাক্ষী যে তথ্য দিয়েছিলেন, তার চেয়ে অতিরঞ্জিত করে আদালতকে তথ্য দিচ্ছেন। এতে আমরা আদালতকে বলেছি সাক্ষীদের দেয়া তথ্য মিথ্যা। মুলত: মাদকপাচারকারী চক্র ও অপরাধীদের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে সাতক্ষীরা এসব মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছেন।
গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
এ ঘটনায় গত বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্ত ভার দেয়া হয় র্যাবকে।
ঘটনার ৬ দিন পর ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৭ পুলিশ সদস্য আত্মসমপর্ণ করেন।
ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
পরে র্যাব পুলিশের দায়ের মামলার ৩ সাক্ষি এবং শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) এর ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব।
গত বছর ১৩ ডিসেম্বর র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারি পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষি করা হয় ৮৩ জনকে।
ভয়েস/ জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.