সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে মহেশখালী পৌর মেয়র মকসুদ মিয়ার নির্দেশে ৩০/৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আমজাদ হোসেন ও তার পরিবারের ৬৭ একর বিশিষ্ট একটি চিংড়ি ঘের দখল করে নেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা চিংড়ি ঘেরের পরিচালক এবং কর্মচারীদের কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তারা চিংড়ি ঘেরের কয়েক লাখ টাকার চিংড়ি মাছ লবন ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আদালতে মেয়র মকসুদ মিয়াসহ তার লোকজনদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে মহেশখালী থানার পুলিশ গত ২৫ অক্টোবর মামলা নথিভুক্ত করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মামলা গ্রহণের পর থেকে মেয়র মকসুদ মিয়া ও তার লোকজনের হুমকিতে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পরিবার মহেশখালী পৌর এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজার শহরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনালে দায়ের করা একমাত্র মামলার এক নম্বর আসামি মৌলানা জাকারিয়া পরিবারের সন্তান ও স্বীকৃত রাজাকার হাসেম সিকদারের ছেলে মেয়র মকসুদ মিয়া এখন জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। প্রভাবশালী পরিবার হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মহেশখালী পৌর সভার বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়া একজন স্বীকৃত রাজাকার হাসেম সিকদারের পুত্র। তিনি প্রতিনিয়ত এলাকায় ভুমিদস্যু দখলবাজ, ইয়াবাকারবারি ও কালো টাকার মালিক।
পৌর মেয়র মকছুদ মিয়ার নেতৃত্বে ১০/১২ জনের অবৈধ অস্ত্রধারী সহ ৩০ জনের সন্ত্রাসীরা চিংড়ী প্রজেক্টে থাকা ইজারাদারকে উচ্ছেদ করে চিংড়ী মাছ, জাল, মালামাল লুটপাট ও ডাকাতি করে এবং চিহ্নিত ডাকাতরা হাতে থাকা লম্বা বন্দুক, কাটা বন্দুক, রাইফেল, কিরিচ হামলা চালায়। এসময় চিংড়ী প্রজেক্টের হালিয়া নজরুল ইসলাম ও মোঃ ফয়সালকে গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করে।
এসময় চিংড়ী প্রজেক্টের ১৫ মন চিংড়ী মাছ যার মূল্য সাত লাখ টাকা এবং মাছ ধরার জাল দেড় লাখ লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় মহেশখালী থানায় এজাহার দায়ের করি। কিন্তু মহেশখালী থানার ওসি ঘটনার বিষয়টি আমলে না নিয়ে আসামীগন ও ডাকাতি লুটপাটকারীদের পক্ষে উৎসাহিত করে। পরে মামলাটি থানায় রেকর্ড না হওয়ায় মহেশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজাহার দায়ের করি। মহেশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আব্বাস উদ্দিনের আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে মহেশখালী থানার ওসিকে মেয়র মকছুদ মিয়াসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া ও তার ভাড়াটিয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এরপর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন পালিয়ে বেড়াচ্ছ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজি বসিরুল আলম, কক্সবাজার জেলার সাবেক সহকারী কমান্ডার মাসুূদ কুতুবী ও আলতাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবুল কাশেম, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, অভিযুক্ত মহেশখালী পৌর সভার মেয়র মকছুদ মিয়ার মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মহেশখালী থানার ওসি আবদুল হাই মেয়র মকছুদ মিয়াসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা রুজু হওয়ার কথা স্বীকার করেন।
ভয়েস/আআ