প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১১, ২০২৬, ১:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১১, ২০২২, ৯:৪৯ পি.এম
পেকুয়ায় আইস ফ্যাক্টরি উচ্ছেদ কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবেনা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

ভয়েস প্রতিবেদক, পেকুয়া:
পেকুয়ায় মগনামায় একতা বাজার থেকে মগনামা ঘাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। নির্মাণ কাজের আওতায় গত ২০ ডিসেম্বর ২০২১ সড়ক ও জনপথ বিভাগ মগনামা লঞ্চঘাটে প্রায় দেড় শতাধিক দোকান উচ্ছেদ ছাড়াও সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের মালিকনাধীন মেসার্স শামিমা এন্ড আমিলা আইস ফ্যাক্টরির অর্ধেক অংশ উচ্ছেদ করে।
জানা যায় গত ২২ ডিসেম্বর কোন প্রকার নোটিশ ছাড়া জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ পরিচালনা করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করায় তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কেন উচ্ছেদ অবৈধ ও বৈআইনি ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন ভুক্তভোগী শরাফত উল্লাহ চৌধুরী।
আবেদনটিতে সড়ক ও জনপথ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ২ জানুয়ারী বিচারপতি মামুনুন রহমান ও খন্দকার দিলোয়ারুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চ রুলটির শুনানী করেন।
রুলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বিলা হয়েছে। একই সাথে ৪ সপ্তাহের ভিতর নিষ্পত্তি করার জন্য রুলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোন ধরনের মহামান্য হাইকোর্টের বিষয়টি তোয়াক্কা না করে উল্লেখিত স্থানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রেখেছে।
ভুক্তভোগী শরাফত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশাল একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পেকুয়ায়। যা বাস্তবায়ন শেষ হলে উন্নয়নে পাল্টে যাবে পেকুয়ার চিত্র। ইতোমধ্যে একতা বাজার মগনামা ঘাট পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্ত বিগত ২০ ডিসেম্বর সড়ক ও জনপথ বিভাগ মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। তাতে আমাদের মালিকনাধীণ আরএস খতিয়ান নং ৩৭ ও দিয়ারা ৩৩৭৪ নং খতিয়ানের জায়গায় নির্মাণকৃত মেসার্স শামিমা এন্ড আমিলা আইস ফ্যাক্টরি বেশ কিছু অংশ উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদের আগে আমরা জায়গা ক্ষতিপূরণ ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ পায়নি। এই উচ্ছেদের কারনে আমারে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিককে সরকারী নির্ধারিত ভূমি মূল্যের তিনগুণ টাকা ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাচ্ছেন। আমার আইস ফ্যাক্টরি ভেঙে দিয়ে ক্ষতি করায় তা আইন ও বিধিসম্মত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতের ধারস্থ হয়েছি। ইতিমধ্যেই মহামান্য হাইকোর্ট ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আইন ও বিধি অনুযায়ী জবাব দেয়ার জন্য বললেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু অসাধু লোক হাইকোর্টের আদেশকে অবমাননা করে উচ্ছেদ অভিযান চলমান রেখেছে। মনে হচ্ছে আমার আইস ফ্যাক্টরি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার মিশনে নেমেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বিগত ২০ ডিসেম্বর বেশ কিছু অংশ ভেঙে নেয়ার পর ১১জানুয়ারী আবারো উচ্ছেদ পরিচালনা করে পুরো ফ্যাক্টরি গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সড়ক ও জনপথের অধিগ্রহণ অনুযায়ী সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য যা জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে তা অবশ্যই নিতে পারে। যদি ব্যক্তি মালিকনাধীণ জায়গা পড়ে তা অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সাথে অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ সরকার থেকে ভুক্তভোগীদের দেয়া হচ্ছে। অথচ মগনামার লঞ্চঘাট থেকে সাব-মেরিন নৌঁঘাটি পর্যন্ত তা মানছেন না সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজার। বিষয়টি আমি অবশ্যই আমার আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাঠোয়ারীর মাধ্যমে মহামান্য হাইকোর্টকে অবহিত করবো এবং কারণ জানতে চাইবো। এছাড়াও আইনী সহায়তা পাওয়ার আশায় প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছি।
আমি কক্সবাজারের ডিসি মহোদয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.