প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৮, ২০২৬, ১০:০৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৫, ২০২২, ১০:৫৯ পি.এম
সম্রাটের কামড়ে নদী মৃত্যুশয্যায়

কক্সবাজারের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সিংহ সম্রাট আর সিংহী নদী। পার্কেট বেষ্টনীতে মিলনের সময় হঠাৎ দুজনই ক্ষিপ্ত হয়ে একে অপরকে কামড়া-কামড়ি শুরু করে। দীর্ঘ কামড়া কামড়িতে দুজনই গুরুতর আহত হয়। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ বিরোধ মিমাংশায় এগিয়ে আসে এবং চিকিৎসা সেবা দেয়। এতে সম্রাট কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও সিংহী নদী মৃত্যুশয্যায় রয়েছে।
সাফারি পার্কে দায়িত্বে নিয়োজিত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ডাঃ সুভন নন্দী জানান, বেষ্টনীতে থাকা পুরুষ সিংহ সম্রাট ও মহিলা সিংহ নদীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে উভয়ের কামড়া-কামড়িতে হয়। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ সম্রাট ও নদীকে সুচিকিৎসা দিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে সামান্য আহত পুরুষ সিংহ সম্রাট ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও মারাত্মক আহত মহিলা সিংহ নদীর অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। যে কোন মূহুর্তে মহিলা সিংহ নদীর জীবন প্রদীপ নিঁভে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
পার্ক সুত্র জানায়, সিংহ সম্রাট ও সিংহ নদী তাদের বেষ্টনীতে মিলনের সময় হঠাৎ দুজনই ক্ষিপ্ত হয়ে একজন আরেকজনকে কামড়িয়ে আহত করে। এতে সামান্য আহত হয় সিংহ সম্রাট। এ সময় মারাত্মক ভাবে আহত হয় সিংহ নদী। পরে পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল চিকিৎসা ও পার্কের হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইনের তত্ত্বাবধানে আহত সিংহ সম্রাট ও সিংহ নদীর চিকিৎসা চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে সিংহ সম্রাট সুস্থ হয়ে আসলেও নদীর অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
গত ২৭ মার্চের পর থেকে সিংহ নদী খাবার গ্রহণ করছে না। তার গলার নিচু অংশে নিয়মিত পানি ও গাল দিয়ে লালা ঝরছে। অনেকটা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দিন দিন সিংহ নদী যেন শুকিয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ জিহ্বা বের করে রাখছে এবং লালা ঝরার পরিমাণ বেড়েই চলছে।
[caption id="attachment_40889" align="alignnone" width="300"]
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আহত সিংহীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ছবি: কক্সবাজার ভয়েস।[/caption]
এদিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ সিংহ নদীকে সুস্থ করার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পার্কের ভেটেরিনারী অফিসারসহ ৪ জনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল সর্বশেষ চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুভন নন্দী।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুভন নন্দী আরও জানান, সিংহীর শারিরীক অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। মুখ দিয়ে লাল ঝরতে থাকা খাদ্য গ্রহণও করতে পারছে না। যা একটি প্রাণির জন্য শুভ লক্ষণ নয়। যে কোন মূহুর্তে জীবন প্রদীপ নিঁভে যেতে পারে। ইতিপূর্বে বার্ধক্যজনিত কারণে ২২ বছর বয়সী সিংহ সোহেল মারা গেছে। বর্তমানে ৪টি সিংহের মধ্যে রাসেল (১৩), টুম্পা (১০) ও সম্রাট (১০) সুস্থ অবস্থায় থাকলেও সম্রাটের জীবন সঙ্গীনি মারাত্মক আহত নদীর যে কোন মূহুর্তে জীবন প্রদীপ নিঁভে যেতে পারে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.