খেলাধুলা ডেস্ক:
২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চতুর্থ দিনই আসলে ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তারপরও সাকিব আল হাসান ম্যাচ বাঁচানোর কিছু পরামর্শ দিয়ে রেখেছিলেন। পঞ্চম দিনে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি সাকিব-লিটন-মুশফিকরা। সাকিব জানিয়েছিলেন, লাঞ্চ পর্যন্ত মুশফিক-লিটন খেলতে পারলে বাকি সময় নিজেই পার করে ম্যাচ বাঁচাবেন! কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও একটি টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ।
অবশ্য সাকিবের ‘পরামর্শ’ মেনেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন-মুশফিক জুটি। কিন্তু প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টায় কাসুন রাজিথার স্কিড করা বলের লাইন মিস করে মুশফিক বোল্ড হন। বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সাকিব-লিটন সেই ধাক্কা থেকে বেরিয়ে আসলেও লাঞ্চের পরের আঘাতে ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের। ফলে পাক্কা আড়াই সেশন আগেই ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ।
আজ (শুক্রবার) মুশফিককে হারানোর পর সাকিব-লিটন মিলে শতরানের জুটি গড়েন। সেই জুটিতে ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনা তৈরি হতেই লাঞ্চ বিরতিতে যায় মুমিনুলের দল। সেখান থেকে ৫৩ মিনিটেই চিত্রনাট্যে পাল্টে যায়। বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৬৯ রানে। মাত্র ১৩ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের দিন তিন ঘণ্টা ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেওয়া সাকিব ব্যাটিং করতে পেরেছেন ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট। কিন্তু সাকিবের এই লড়াই যথেষ্ট হয়নি ম্যাচ বাঁচানোর জন্য। তাতে করে বাংলাদেশ ২৯ রানের লক্ষ্য দিতে পারে। সেই লক্ষ্য মাত্র ১৬ মিনিটে ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা।
এমনিতেই মিরপুরের উইকেট বাংলাদেশের জন্য ‘অপয়া’ হয়ে আছে। লঙ্কানদের বিপক্ষে এই মাঠে এখন পর্যন্ত জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখানে খেলা চার টেস্টের সবক’টিতে হেরেছে। শুধু লঙ্কানদের বিপক্ষেই নয়, এই ভেন্যুতে ২৪ টেস্ট খেলা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ছয়টি জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। ৪ বার জিতেছে প্রতিপক্ষ। ড্র হয়েছে তিনবার আর একটি ম্যাচ বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুরে ২০১৫ সালের পর ড্র হয়নি কোনও টেস্ট।
চট্টগ্রাম ও ঢাকাতে দুই রকম অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে বাংলাদেশ ড্র করতে সক্ষম হলেও ঢাকায় সেটি পারেনি। ঐতিহ্যগত ভাবেই মিরপুরের উইকেট কিছুটা স্লো এবং টার্নিং হয়ে থাকে। কিন্তু এবার তেমনটাও দেখা যায়নি। ম্যাচের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে এসে বল কিছুটা ধীরগতির হলেও ব্যাটারদের জন্য অতটা কঠিন ছিল না। কিন্তু এই উইকেটেও বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও তামিম-জয়-শান্ত-মুমিনুলরা হতাশ করেছেন।
টপ অর্ডারের এই চার ব্যাটারের ব্যর্থতাই নিচের ব্যাটারদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিক-লিটনের রেকর্ড ২৭২ রানের জুটিতে ৩৬৫ রানের সংগ্রহ পায়। প্রথম ইনিংসে মুশফিক ও লিটনের সংগ্রামী ইনিংসে মান বাঁচলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেভাবে কেউ প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
একজন ব্যাটার আউট হতেই হুড়মুড় করে উইকেট হারানো যেন ‘নিয়তি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে টপ অর্ডার চার ব্যাটারের বিদায়, আর শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে ১৩ রানে। বাংলাদেশ দল এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নানা পরিকল্পনা করলেও সেইসব ভেস্তে গেছে। ঢাকা টেস্ট চলকালীনই এই সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন ব্যাটিং পরামর্শক জেমি সিডন্স, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এমন হয়েছে। আমাদের এটা দ্রুত বদলাতে হবে। আমার মনে হয় না এটা থেকে বেশি দূরে আছি। কিছু কৌশলগত ও মানসিক পরিবর্তন আনলেই আমরা দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাবো।’
শুধু ব্যাটিং ব্যর্থতাই নয়, বোলিয়েও আপ টু মার্ক ছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ধসিয়ে দিতে লঙ্কান দুই পেসার অসিথা ফার্নান্ডো ও কাসুন রাজিথা ৯ উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেটা সচল ছিল। এই দুই পেসার তুলে নেন ৮ উইকেট। অথচ একই উইকেটে বাংলাদেশের পেসাররা ছিলেন নির্বিষ! এবাদত হোসেন কিছুটা ভালো করলেও খালেদ আহমেদ তো ছিলেন নখদন্তহীন। এবাদত প্রথম ইনিংসে ৩৮ ওভার বোলিং করে ৪ উইকেট নিয়েছেন। খালেদ ২৩ ওভারে ৮৫ রান খরচ করে উইকেটশূন্য ছিলেন।
সাকিব অবশ্য বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পেসাদের পার্থক্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘দুইটা পয়েন্ট আমার কাছে মনে হয়। আমাদের এপ্লিকেশনটা ভালো না। আর ওদের সিমারদের থেকে আমাদের সিমাররা ভালো জায়গায় বল কম করেছে।’
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.