খেলাধুলা ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বসেরা টেস্ট দলের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছে বাংলাদেশি পেসাররা। মারারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করেছে টাইগাররা। ১০টি উইকেটই তুলেছেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন ও এবাদত।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোর। এর আগে ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের একমাত্র টেস্ট পরাজয়ের সময় তারা ২১৭ রানে অলআউট হয়েছিল।
ঘরের মাঠে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ইনিংসে এটি অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান—এর চেয়ে কম রান ছিল কেবল ২০২৫ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫২ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনাটি।
২৩ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দলের মধ্যে এটিই প্রথম টেস্ট ম্যাচ।
অথচ শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার দিনটা অস্ট্রেলিয়ার হতে যাচ্ছে। ওপেনিংয়ে জুটিতে ভালোই খেলছিলেন ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড। তবে ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে হাসান মাহমুদকে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ভুল করেন ওয়েদারাল্ড। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে। আউট। ইতি ঘটলো ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটির।
১৪তম ওভারে এসে আবার হাসান মাহমুদের আঘাত। সেই চতুর্থ বলটিই ভেতরে ঢুকে হেডের ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্পের বেলস ফেলে দেয়। ২২ রানে ফিরলেন হেড।
ম্যাচের ১৯তম ওভারে ইবাদতের দ্বিতীয় বলটি লাবুশেন ছাড়লে কোনও ক্ষতি হতো না। অভ্যাসবশত খেলতে গিয়ে খোঁচা মেরে দ্বিতীয় স্লিপে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। ২০ বলে ১ রান করেছেন লাবুশেন।
২২তম ওভারের শেষ বলে তাসকিনকে অন সাইডে ওপরে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিন। ১৩ রানে ফিরলেন তিনি। স্কোর ৭৪ রানে ৪ উইকেট।
৪ উইকেট হারিয়েই প্রথম সেশন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। গ্রিনের আউটের মধ্য দিয়েই লাঞ্চে যায় দুই দল। লাঞ্চ শেষে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা হয়ে টিকে থাকা স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে যোগ দেন অ্যালেক্স ক্যারেই।
এরপর শুরু হয় অজিদের প্রতিরোধ। এখান থেকেই আসে অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। তবে সেটিও মাত্র ৫৫ রানের। দলের ১২৯ রানে ইবাদতের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যারেই। এরপর ওয়েবস্টের এলেও টিকেছিলেন মাত্র ১০ বল। ১২ রান করে তাসকিনের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে।
ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্সও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৯ রান করেই হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে ফেরেন। এরপর মিচেল স্টার্কের উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। তবে অস্ট্রেলিয়ার এক প্রান্ত আগলে রাখা স্মিথও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৭১ ও দলের ১৮৯ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন তিনি। স্মিথকে সাজঘরে ফিরিয়ে ষষ্ঠ বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের এলিট ঘরে প্রবেশ করেন হাসান মাহমুদ।
গোটা ম্যাচে বাংলাদেশি পেসাররা ছিলেন দুর্দান্ত। সিমিং মুভমেন্ট, ইনসুইং ও আউটসুইংয়ে একেবারে নাজেহাল করেছেন অজি ব্যাটারদের। সর্বোচ্চ ৬ উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। আর দুটি করে উইকেট তুলে নেন এবাদত ও তাসকিন।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.