ভয়েস বিনোদন ডেস্ক:
ছোট ও বড় দুই পর্দাতেই সমানতালে কাজ করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। এক সময় টিভি নাটকে উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। বড়পর্দার ব্যস্ততা বাড়ায় এখন টিভি নাটকের কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে তার অভিনীত ‘হলুদবনি’ সিনেমাটি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা ২০৪০’ ও মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর সহপ্রযোজকও তিশা। সিনেমাগুলো নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার।
লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন কোন কাজ করতে পারেননি। গেল ঈদে তাই তিশা অভিনীত নাটক ছিল তুলনামূলকভাবে কম। অল্প কাজের মধ্যে মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘শহর ছেড়ে পরানপুর’ নাটকটি জনপ্রিয় ও প্রশংসিত হয়েছে। এতে তিশার বিপরীতে আছেন তার ‘মায়াবতী’ সিনেমার নায়ক ইয়াশ রোহান। সিনেমার মতো এ নাটকেও বয়সে বড় প্রেমিকার চরিত্রে কাজ করেছেন তিশা। তবে দুটি কাজ একেবারেই আলাদা। ‘মায়াবতী’তে তিশা পতিতাপল্লীতে বড় হওয়া মেয়ে হয়েও পতিতাবৃত্তি না করে বড় সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। চরিত্রটি শক্তিশালী নারীর প্রতিনিধি। আর ‘শহর ছেড়ে পরানপুর’-এ তিশা একেবারেই সাদামাটা নারী। বলা যায়, এটি একটি বিশুদ্ধ রোমান্টিক গল্প। সমৃদ্ধ পরিবারের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তিশা অনেক সাবধানে থাকার পরও ছোট ক্লাসের ইয়াশের প্রেমে পড়েন।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর সঙ্গে ঠিক হওয়া বিয়ের কথা না ভেবে বেকার ইয়াশকে নিয়ে শহর ছাড়েন। কিন্তু এই ত্যাগের দাম দেয় না ইয়াশ। সে আবার প্রেমে পড়ে ফারিনের। যখন সম্বিত ফিরে আসে ততদিনে সব শেষ। তিশার করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারে না অনেক দর্শক। ইউটিউবে নাটকটির কমেন্ট বক্সে সে কথাই বেশি পাওয়া যায়। বরাবরের মতোই এ নাটকে তিশার অভিনয় উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। অভিজ্ঞতা আপনাকে কখন কীভাবে চলবেন, কী পদক্ষেপ নেবেন- তা বলে দেয়। তাই এখন সেই কাজগুলো করতেই ইচ্ছে করে, যা মিনিংফুল। এই কাজটি করে ভালো লেগেছে। আরিয়ানের গল্প বলার ধরন ভালো লাগে। আর ইয়াশের সঙ্গে তো বেশকিছু কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের জুটি দর্শক পছন্দ করেন।’
শুধু নাটক নয়, তিশাকে বিজ্ঞাপনচিত্রে প্রায়ই দেখা যায়। এখন প্রচার হচ্ছে তার ফ্রেশ এলপি গ্যাসের বিজ্ঞাপনটি। তার সঙ্গে রয়েছেন সবার প্রিয় দিলারা জামান। ঈদের পর এখনো কাজে ফেরেননি তিশা।
অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে নিজেকে ঢেলে সাজিয়েছেন তিশা। মনে রাখার মতো চরিত্রের সংখ্যাও কম নয়। ‘অনেক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তারমধ্যে তিনজন নির্মাতার কথা বলুন যারা আপনার ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে নানাভাবে অবদান রেখেছেন।’ এ প্রশ্নে উত্তরে তিশা বলেন, ‘যে তিন নির্মাতা আমার অভিনয়জীবনকে রূপ দিয়েছেন, তাদের একজন অরণ্য আনোয়ার, আরেকজন গোলাম সোহরাব দোদুল। অরণ্য আনোয়ারের কাজ করে আমি পরিচিত হয়েছি। আর গোলাম সোহরাব দোদুল আমাকে নিয়ে গেছেন চরিত্রের বৈচিত্র্যে ভরা এক রঙিন জগতে। কখনো যৌনকর্মী, কখনো অজপাড়াগাঁয়ের মেয়ে, কখনো মাঝবয়সী সংগ্রামী মা, কখনো নির্যাতিত সাহসী নারী। সেসব করতে করতে অভিনেত্রী হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস ক্রমে বেড়েছে। তৃতীয়জন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সরয়ার নাকি আমাকে প্রথম দেখেছিল ‘নুরুল হুদা’ নাটকের সেটে।
সে স্মৃতি আমার নেই। আমার স্মৃতিতে আছে, আমাদের দেখা হয়েছিল কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের মাধ্যমে। তিনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন সরয়ারের একটা নাটক ‘পরপার স্টোর’-এ অভিনয়ের জন্য। ‘তোমার নখ তো বড়। আমাকে চুইংগামের প্যাকেটটা খুলে দাও তো।’ এটাই ছিল আমার সঙ্গে সরয়ারের প্রথম কথা। আমি খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম। সেই বিরক্তি নিয়ে মাকে বলেছিলাম, এই লোকটির সঙ্গে কাজ করব না। ‘পরপার স্টোর’-এ কাজ করতে গিয়ে দেখি, সরয়ারের কাজের ধরন একেবারেই অন্য রকম। ইম্প্রোভাইজেশন বা তাৎক্ষণিক অভিনয়ের সঙ্গে সেই আমার প্রথম পরিচয়। কাজের এই ধরন আমাকে দারুণ টানল। সেই টানের স্রোতে আমরা কোত্থেকে কোথায় গিয়ে পড়লাম, সেটা পরের ইতিহাস।’ সূত্র:দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.