ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
দেশের বনভূমির অবৈধ দখলদার ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তারা বনবিভাগের দুই লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর জমি জবর দখল করে রেখেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি বনভূমি দখলে আছে কক্সবাজার জেলায়। এই জেলায় ৫৯ হাজার ৪৭১ হাজার একর বনের জমি জবর দখলে আছে।
সংসদীয় কমিটি এই ৯০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা মন্ত্রণালয়ের কাছে চেয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর তা প্রকাশ করবে সংসদীয় কমিটি। এছাড়া বেদখল হওয়া বনভূমির বর্তমান অবস্থা কী, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যারা দখল করে রেখেছে তাদের তালিকা আমরা চেয়েছি। সেটা আমরা জনসমক্ষে প্রকাশ করবো। কারা এসব বনভূমি দখল করে রেখেছে তা দেখতে চাই। এক চুল জমিও আমরা বেদখলে রাখতে চাই না।’
তিনি জানান, আমরা দেখতে চাই, দখলদারদের উচ্ছেদে কতবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনজীবী কারা আছেন। আইনি সংষ্কার যদি করা লাগে তাহলে সেগুলো কী? বনবিভাগ, মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কমিটি এখন জরুরি ভিত্তিকে এই জমি উদ্ধারে কাজ করবে।
সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। সশস্ত্র বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে এক লাখ ৬০ হাজার ২৪০ একর জমি হস্তান্তর করেছে বন বিভাগ।
বিপুল পরিমাণ বনভূমি জবরদখলের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিএস রেকর্ড মূলে রেকর্ড ভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া এক নম্বর খাস খতিয়ান ভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দিয়েছে।
এছাড়া বনভূমির মধ্যদিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দু’পাশে বনভূমি জবদখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় জনগণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল, প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। অনেক জবরদখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বনভূমি জবরদখল করেছে। তাদের ক্ষেত্রে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে নিম্ন আদালতে মামলা ও আপিল এবং উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে এর মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে থাকে।
এছাড়া উচ্ছেদের কাজে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসহযোগিতা করে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বন বিভাগ।
ইকো পার্কে পিকনিক নয়
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বন্ধ থাকা বিভিন্ন ইকোপার্ক নভেম্বর মাসে খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে সংসদীয় কমিটি বলেছে, খুলে দেওয়া হলেও সেখানে যদি মাইক বাজিয়ে পিকনিক বা ধারণ ক্ষমতার বেশি জনসমাগম হয়, সেক্ষত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, বন অধিদফতরের ও বনভূমির নিরাপত্তায় সরাসরি জড়িত কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মে উৎসাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের ১১-২০ গ্রেডভূভুক্ত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৩০% হিসেবে ঝুঁকিভাতা প্রচলন করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য এলাকা, যেখানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়, সে এলাকার কোনও কর্মচারী দায়িত্ব পালনরত থাকলে, তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি ভাতা দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।
সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, রেজাউল করিম বাবলু, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং শাহীন চাকলাদার বৈঠকে অংশ নেন।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.