জিকির উল্লাহ জিকু
লাইলী বেগম (ছদ্মনাম), বাড়ি কুতুবজোমের ঘটিভাংগায়। প্রায় ৬ বছরের ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে গোরকঘাটার বাজারে এসেছে শপিং করার নিয়তে। কথা হয় কক্সবাজার ভয়েস’র সাথে সকাল সাড়ে সাড়ে ১২ টায় গোরকঘাটা বাজারের টমটম স্টেশনে।ঈদের জন্য ছেলেমেয়েদের পোশাক কিনবেন। মেয়ের জন্য কিনেছেন। তবে বাচ্চার জন্য এখনো কিনতে পারেনি। নিজে এবং বাড়ির অন্যদের জন্য এখনো কেনা হয়নি। কেন জানতে চাইলে বলেন, পছন্দ হয়নি। আবার আসবেন। জানতে চাওয়া হয়, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে।জবাব “শুনেছি, তবে কি রকম দেখিনি। টিভি দেখেন, না বলে জানালেন। মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাবস এবং হ্যান্ডওয়াস সম্পর্কেও ধারণা নাই। বুঝা গেল বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কতটা অসচেতন!
আগামী ১০ মে থেকে সীমিত আকারে দোকান খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা থাকলেও এরই মধ্যে মহেশখালীর দোকান মালিকরা দোকানপাট খোলা শুরু করেছেন।অনেকই বন্ধ রেখেছেন।
সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিসরে, কেউ একটু ফাঁকা করে, কেউ পুরোপুরি, কেউ সাটারের অর্ধেক দোকানপাট খোলা রাখছেন। তবে এই চিত্র পাড়া মহল্লার দোকানগুলোতে বেশি দেখা যাচ্ছে।
৭ ও ৮ মে গত দুই দিন ঘুরে দেখা গেল, গোরকঘাটা বাজারে এরকম অসংখ্য লাইলী বেগম আছে যার ঘুরছে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে পোষাকের জন্য। কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই নাই। মাঝে মাঝে অনেক কাপড় মজনু দেখা যায় এরকম লাইলী বেগমের গা ঘেঁষে সওদা করতে।
সরজমিন দেখা গেল, দোকানদারদের মাঝে শুধুই মাস্ক আছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয় এমন মাস্ক খুব কম। দোকানদার এবং কর্মচারীর মাঝে মাস্ক নাই এমন সংখ্যাও নেহাত কম নয়। নাম গোপনের শর্তে অনেকের সাথে কথা বলে জানাগেল, ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ে মাস্ক মুখে দেন পুলিশের ভয়ে। জানতে চাইলে মাতারবারিড় শামসু জানান, প্রয়োজনের তাগিদে বাজারে আসতে হয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পিপিই, মাস্ক এবং হ্যান্ড গ্লাভস টাকা দিয়ে বাজারেতো পাওয়াই যায়না এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।
এমনই পরিস্থিতির মাঝে প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি করে চলছে বেচা কেনা। কিন্তু কেউ জানেনা। দোকান খুলেছে। কার কপাল কিভাবে খুলবে? অনুরূপ চিত্র বড় মহেশখালী বাজার, হোয়ানক বাজার, কালারমারছড়া বাজার ও মাতারবাড়ি বাজারের।
এতে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে মহেশখালীর সচেতন মানুষ।
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন দিনরাত সচেতনতার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এতে কেউ কেউ সচেতন হচ্ছে তবে বেশির ভাগই অসচেতন। এটা বুঝা যায়, উপজেলার দুই সর্বোচ্চ কর্মকর্তার স্ট্যাটাস থেকে। বাজারে গেলে, পাড়া মহল্লার দোকানে গেলে। যার কারণে তাঁহাদের মাঠে কাজ করতে করতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলার অবস্থা। আবেগ অনুভূতি,পরিণতি এবং আক্ষেপের কথা দায়িত্বের খাতিরে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে বলারপরও নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন মনোকষ্টের কথা।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মহেশখালীতে করোনা রোগির মৃত্যুর সংবাদ না থাকলেও রোগির হার বাড়ছে। এমনকি মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালের দুই জন স্টাফের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। অথচ তাদের করোনা উপসর্গ ছিলনা। করোনা রোগি বাড়ছে গতকাল জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ২০ জন।
১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে, ক্রেতা ও বিক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলে কেনা-বেচা করতে পারবে এমন শর্তে।
কিন্তু মহেশখালীতে এই সুযোগে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে দিব্যি সওদা করে যাচ্ছে সকাল বিকাল। মাঝে প্রশাসনের ভয়ে দোকান অর্ধেক খোলা রাখে আবার অর্ধেক খোলা রাখে এমনই অবস্থা মহেশখালী পৌরসভাসহ বড় মহেশখালী, হোয়ানক কালারমারছড়া, মাতারবাড়ির মত জনবহুল এলাকার বাজার। সচেতন মহেশখালীবাসির প্রশ্ন আমরা কী বাঁচবো নাকি মরব? এই অবস্থায় আমরা মহেশখালীবাসি কতটা নিরাপদ।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.