আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যকাণ্ডের জন্য ফের ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটি বলছে, রিমোট কন্ট্রোল প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার নিহত বিজ্ঞানীর দাফনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী শামখানি।
আলী শামখানি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে অপারেশনটি ছিল খুব জটিল। এখানে ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনও অপরাধী ঘটনাস্থলে ছিল না।’তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যে ইসরায়েল ও তার গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাত রয়েছে এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তারা ২০ বছর ধরে তাকে হত্যা করতে চেয়েছে। এবার শত্রুরা একটি সম্পূর্ণ পেশাদার ও নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। শেষ পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে তার সফল হয়েছে।
দেশের বাইরে থেকে ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য কাজ করা সংগঠন মুজাহিদিন-ই-খাল্ক (এমইকে)-এরও এ হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন আলী শামখানি। ইরান এই দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। দলটিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে দায়ী করে থাকে তেহরান।
এদিকে সোমবার রাজধানী তেহরানে মোহসেন ফাখরিজাদেহ-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত জানাজায় শুধু নিহত বিজ্ঞানীর পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রতিরক্ষা সদর দফতরে জানাজার পর সমাহিত করতে জাতীয় পতাকায় মোড়া এই বিজ্ঞানীর কফিন নেওয়া হয় তেহরানের উত্তরাঞ্চলের একটি কবরস্থানে।
গত শুক্রবার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সংস্থার প্রধান মোহসিন ফাকরিজাদেহকে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী বলে মনে করে তেহরান। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল।
দাফন অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, ‘একজন সেনাসদস্য হিসেবে শত্রুদের জানিয়ে দিতে চাই, কোনও অপরাধ, কোনও সন্ত্রাস এবং কোনও নির্লজ্জ কর্মকাণ্ড ইরানের জনগণ বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না।’
আমির হাতামি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির জনক হিসেবে ফাকরিজাদেহকে সম্মান করে তার দেশ এবং দেশের জনগণ। তিনি বলেন, ‘ক্রিমিনাল আমেরিকার হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র আছে আর ইহুদিবাদী শাসকদের আছে শত শত। সেগুলো কেন আছে? সেগুলো কী বাড়ির শোভা বর্ধনের জন্য সাজিয়ে রাখা আছে?’
দাফন অনুষ্ঠানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির একটি বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। সেই বিবৃতিতেও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সূত্র: আল জাজিরা।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.