খেলাধুলা ডেস্ক:
তাইজুল ইসলাম বলে গিয়েছিলেন, জিততে ২৫০ রানই যথেষ্ট। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টার্গেট পেলো ৩৯৫ রানের। অথচ এই লক্ষ্যটাও পেরিয়ে গেলো ক্যারিবিয়ানরা! রান তাড়ার নতুন কীর্তি গড়ে সফরকারীরা চট্টগ্রাম টেস্ট জিতে নিলো ৩ উইকেটে। সমান্তরালে লজ্জার সাগরে ডুবলো বাংলাদেশ।
টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডটা এই ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। রামনরেশ সারওয়ান ও শিবনারায়ণ চন্দরপলের দুর্দান্ত দুই সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। ২০০৩ সালের অ্যান্টিগার ওই টেস্ট ফিরলো চট্টগ্রামে। এবার বলতে গেলে একা হাতে লড়ে গেলেন কাইল মায়ার্স। কে বলবে, এই টেস্ট দিয়েই লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে তার! ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরিতে আটকে থাকলেন না, ডাবল সেঞ্চুরিতে জয় রাঙিয়ে মাঠ ছাড়লেন বীরের বেশে। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকের চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। খেলেছেন অপরাজিত ২১০ রানের অতিমানবীয় ইনিংস।
রেকর্ড বই ওলটপালট করে ফেলা চট্টগ্রাম টেস্টের এমন সমাপ্তি হয়তো কেউই চিন্তা করেনি। ৩৯৫ রানের লক্ষ্য পাওয়ার পর খোদ ক্যারিবিয়ানরাই জোর গলায় জয়ের কথা বলতে পারেনি। কারণ চতুর্থ দিনেই তারা হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। কিন্তু মায়ার্সের জাদুর কাঠিতে পাশার দান পাল্টে ঐতিহাসিক জয় পেলো সফরকারীরা।
চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ক্রিজে এসে পঞ্চম দিনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন মায়ার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন জয় উৎসব করে, দিনের খেলা বাকি ছিল মোটে ২.৩ ওভার। রানের সঙ্গে ওভারের হিসাব কষে দারুণ সমীকরণ মিলিয়েছেন এই অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান। ৩১০ বলে খেলা ২০ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় মার বলে দেয় কতটা আগ্রাসী ছিল তার ব্যাট। অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জানান দেওয়া মায়ার্সের কাছেই আসলে হেরেছে বাংলাদেশ।
এশিয়ার মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়ে ক্যারিবিয়ানরা লজ্জার সাগরে ডুবিয়েছে মুমিনুল হকদের। তাও চতুর্থ ইনিংসে এই অবিশ্বাস্য জয় এসেছে তাদের দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়া। সে কারণেই চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষেক হয়েছে তিন ক্রিকেটারের। যাদের দুজন মায়ার্স ও এনক্রুমা বনার গড়েছেন জয়ের পথ। চতুর্থ উইকেটে অভিষিক্ত দুই ব্যাটসম্যান গড়েন ২১৬ রানের বিশাল জুটি।
পঞ্চম দিনটা একেবারেই বাংলাদেশের ছিল না। প্রথম দুই সেশন উইকেটশূন্য থাকার পর শেষ সেশনের শুরুতে জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও মায়ার্স-বীরত্বে শেষ রক্ষা হয়নি।
শেষ সেশনের প্রথম ওভারে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের সৌজন্যে ৭৩ ওভার পর প্রথম উইকেট পায় স্বাগতিকরা। সেট ব্যাটসম্যান বনারকে ফিরিয়ে বাঁহাতি স্পিনার স্বস্তি ফেরান দলে। চতুর্থ দিনে ২৫তম ওভারে শেষবার উইকেট উদযাপন করেছিল বাংলাদেশ। পরের উইকেট পেতে স্বাগতিকদের অপেক্ষা করতে হয় ৯৮ ওভার পর্যন্ত। উইকেটশূন্য দুই সেশনের পর চা বিরতি থেকে ঘুরে এসে প্রথম ওভারেই বনারকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাইজুল। ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই এলবিডাব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান যাওয়ার আগে খেলেছেন ৮৬ রানের চমৎকার এক ইনিংস। তার বিদায়ে ভাঙে মায়ার্সের সঙ্গে গড়া ২১৬ রানের জুটি।
খানিক পর বাংলাদেশের আশা আরও উজ্জ্বল হয় নাঈম হাসানের বলে জার্মেইন ব্ল্যাকউড আউট হলে। ডানহাতি স্পিনারের বল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে বোল্ড হয়ে যান ৯ রান করা ব্ল্যাকউড। এরপর আবার জোশুয়া দা সিলভাকে নিয়ে মায়ার্সের এগিয়ে চলা। জোশুয়া ২০ রান করে তাইজুলের শিকার হলেও ষষ্ঠ উইকেটে মায়ার্সের সঙ্গে গড়ে যান গুরুত্বপূর্ণ ১০০ রানের জুটি। আর তিনি যখন ফিরছিলেন, ক্যারিবিয়ানরা জয় থেকে তখন মোটে ৩ রান দূরে। পরে কেমার রোচও (০) আউট হয়েছেন। কিন্তু ওই যে, একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন মায়ার্স!
ক্রিকেটদেবতা তাকে দুহাত ভরে দিয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে। তাই যেভাবে ব্যাটে বল লাগাতে চেয়েছেন, লেগেছে। পঞ্চম দিনে চেষ্টার পর চেষ্টা করেও তাকে দমানো যায়নি। বরং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্মৃতির পাতায় সাজিয়ে রাখা এক ইনিংস খেলে ক্যারিবিয়ানদের এনে দিলেন রূপকথার জয়। সমান্তরালে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করা বাংলাদেশ ডুবলো লজ্জার সাগরে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৪৩০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭.৫ ওভারে ২২৩/৮ (ডিক্লে.) (মুমিনুল ১১৫, লিটন ৬৯, মুশফিক ১৮, মিরাজ ৭, সাদমান ৫; ওয়ারিকান ৩/৫৭, কর্নওয়াল ৩/৮১, গ্যাব্রিয়েল ২/৩৭)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৫৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৭.৩ ওভারে ৩৯৫/৭ (মায়ার্স ২১০*, বনার ৮৬, ক্যাম্পবেল ২৩, জোশুয়া ২০, ব্র্যাথওয়েট ২০, মোসেলি ১২; মিরাজ ৪/১১৩, তাইজুল ২/৯১, নাঈম ১/১০৫)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: কাইল মায়ার্স।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.