আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাপূর্ণ মিয়ানমার ছাড়ার জন্য নিজেদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতার বাড়ার প্রেক্ষিতে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার এই পরামর্শ দিলো ব্রিটেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ভ্রমণ পরামর্শ ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশ, কমনওয়েলথ অ্যান্ড উন্নয়ন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিটেনের নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে অবস্থান ছাড়া বাণিজ্যিক উপায়ে মিয়ানমার ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার করা হয়েছে সু চিসহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। সেনাবাহিনীর অভিযোগ,গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি করে জয় পেয়েছে এনএলডি। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। দেশটিতে বর্তমানে জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে তাতে দমছেন না আন্দোলনকারীরা।
মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন। মিয়ানমারে অভ্যুত্থান পরবর্তী বিক্ষোভের সময় অন্তত ৭০ জনকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হত্যা, নিপীড়ন এবং নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী বিরোধী অপরাধের প্রমাণ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ দূত। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে এসব অভিযোগ তোলা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকেই পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। এছাড়া, গণবিক্ষোভ সামাল দিতে সম্প্রতি বিদ্রোহী সংগঠন ‘আরকান আর্মি’-কে জঙ্গিগোষ্ঠীর তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে সেনা। এর ফলে ওই সংগঠনটির সঙ্গে লড়াই করে আপাতত শক্তি খরচ করতে হবে না জান্তা সরকারকে। এহেন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের পণবন্দি করার আশঙ্কা বেড়েছে অনেকটাই। তাছাড়া, দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রশাসনের পালটা অভিযানে দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের। তাই আপাতত নিজের নাগরিকদের মিয়ানমার ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.