খেলাধুলা ডেস্ক:
বাঁ দিক থেকে জামাল ভুঁইয়ার ফ্রি কিক থেকে সাদ উদ্দিনের মাথা ছুঁয়ে চর্ম-গোলকের বল ভারতের জালে। মুহুর্তেই কলকাতার সল্ট লেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গগণবিদারি চিৎকার রূপ নিলো শ্মশানে! আবারও এমন একটি মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সেবার সিটি অব জয় কলকাতায় এবার জাঁকজমকের শহর কাতারের দোহায়।
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডে সেবার ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ; তবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা মাঠ ছেড়েছিল জয়ের সমান ড্র নিয়ে। সবুজ গলিচায় বাংলাদেশ আর প্রতিপক্ষ ভারত হলেই যেনো নড়েচড়ে বসেন ষোলো কোটি বাংলাদেশি। যুদ্ধাংদেহীভাবের সঙ্গে কাজ করে বাড়তি উদ্দীপনা। ক্রিকেটের বদৌলতে সেই উত্তাপ এখন ফুটবলেও।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টায় মহারণে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই এত কথা; এত আলোচনা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানে অন্যরকম অনুভূতি; সেটা শুধু ভক্তদের মধ্যে বিরাজ নেই। একই অনুভূতি ধারণ করছেন খোদ ফুটবলাররাও।
‘গত ম্যাচটা (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) আমি খেলেছি, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেস্টা করেছি, আমি যদি সামনের ম্যাচেও খেলতে পারি তবে সর্বোচ্চটা দেয়া চেস্টা করবো। কারণ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হলে আমাদের মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করে’- ভারত বধে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশি মিডফিল্ডার রাকিব হাসান এভাবেই বলছিলেন।
সুনীল ছেত্রীদের বিপক্ষে জামালদের অতীত ইতিহাস খুব একটা রঙিন নয়। সর্বশেষ জয় ১৮ বছর আগে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে। মোট ২৫ বারের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টিতে আর ভারতের ১১টিতে। আর বাকি ১১টি ম্যাচে ড্র।
এই ম্যাচে নামার আগে স্বস্তিতে জেমি ডের শিষ্যরা। আগের ম্যাচেই শক্তিশালী আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র করেছে লাল সবুজের দল। আরও বাড়তি শক্তি যোগ হতে পারে প্রথম রাউন্ডে ভারতকে রুখে দেওয়ার মন্ত্র। সব মিলিয়ে আবারো ভারতকে রুখে দেওয়ার মন্ত্র জপছে বাংলাদেশ।
কোচ জেমি বলেন, ‘আমরা তাকিয়ে আছি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। এটা হতে পারে আমাদের জন্য কঠিন ম্যাচ। মাঠে আমাদের সেরা খেলাটা প্রয়োজন যদি আমরা কিছু অর্জন করতে চাই। আশা করি আমরা ভালো খেলবো। আর যদি না পারি তাহলে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে।’
আফগানদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক খেলেছিল বাংলাদেশ। পুরষ্কার হিসেবে কোনো হজম করতে হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল খেয়ে ছন্নাছাড়া দেখায়; তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে বাক্সবন্দি না থেকে খোলস ছাড়ীয়ে বের হয়ে আসেন জামাল-মতিনরা। শেষ পর্যন্ত তপু বর্মণের গোলে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা স্বস্তিতেই মাঠ ছাড়ে।
ভারতকে রুখতে হলে বোতল বন্দি করে রাখতে হবে সুনীল ছেত্রীকে। প্রথম রাউন্ডে তাকে আটকে বাংলাদেশ দেখা পেয়েছিল সাফল্যর। রক্ষণভাগের ফুটবলার রিয়াদুল হাসান রাফি বলেন, ‘ভারতের সাথে আমরা আগে খেলেছি, মোটামুটি ধারণা আছে। সে ম্যাচে আমিও ছিলাম, সুনীল ছেত্রীকে কিভাবে মার্ক করতে হবে, ও কীভাবে আক্রমণে আসে, কিভাবে আক্রমণ করে এটা নিয়ে কাজ করতেছি। আশা করি যদি রক্ষণে ভালো করতে পারি তবে আমরা ভালো করব।’
ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচে খেলার কথা ছিল নিজেদের দেশে। নিঃসন্দেহে কানায় কানায় পূর্ণ থাকতো গ্যালারি। দারাজ কণ্ঠে গলা ফাটিয়ে দর্শকরা সমর্থন দিতেন প্রিয় মাতৃভূমিকে। কিন্তু করোনামহামারী সেই সুযোগ কেড়ে নেয়। খেলা চলে যায় কাতারে। তাইতো প্রবাসী বাঙ্গালিদের বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল আহ্বান জানিয়েছেন মাঠে এসে সমর্থন দিতে।
‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি। আমরা সবাই প্রস্তুত। বাংলাদেশের সমর্থকরা যারা কাতারে আছেন আপনারা মাঠে আসুন, আপনাদের সমর্থন আমাদের দরকার। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আশা করি আপনাদের একটি ভাল ফলাফল দিতে পারব, ধন্যবাদ।’
এদিকে ভারত কোচ ইগর স্টিমাচও সমীহ করছেন বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন এক দল, যারা সবসময় মাঠে বিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে। কলকাতায় এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল গতবার । ওরা জেতার পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারলে বিভিন্ন ভাবে আটকে রাখার চেষ্টা করবে প্রতিপক্ষকে। আমার দেখা অন্যতম কঠিন দল। আমাদের সাবাধান হতেই হবে।’
সল্ট লেকের সেই উত্তাপ কী দোহায় ছড়াতে পারবে বাংলাদেশ। ভারত কোচের ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ছেত্রীদের রুখে দিতে পারবেন জিকোরা? সেই সল্ট লেকের স্বপ্নে যে মাতোয়ারা পুরো বাংলাদেশ। দেড়যুগ পর এবার আশা ভিন্ন কিছুর; নতুন গল্পের।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.