ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
জসিম উদ্দিন। রাজধানীতে রিকশা চালান। চালকের সিটে বসে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। কাউকে দেখলে বলছেন, যাবেন? কিন্তু তেমন একটা মানুষের সাড়া পাচ্ছেন না। সকাল ৯টায় রিকশা নিয়ে বের হয়ে ১০টা পর্যন্ত চলে এভাবে। এর মধ্যে মাত্র ২০ টাকার ভাড়া পেয়েছেন।
জসিম উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানায়। পরিবার নিয়ে থাকেন গ্রামের বাড়িতে। রোজ রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে যে টাকা আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসারের চাকা। গত কয়েক দিন ভালো যাচ্ছে না পরিবারের। যাত্রী না পাওয়ায় আয় কমে এসেছে চারের এক ভাগে।
আজ রবিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর শুক্রাবাদ সড়কের গলির মাথায় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকাল ৯টায় বের হয়েছি। একজন যাত্রী নিয়ে পান্থপথ সিগন্যাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ এ এসেছি। ভাড়া পেয়েছি ২০ টাকা। এখন পর্যন্ত আর কোনও যাত্রী পাইনি।
একই কথা বলেন, সিলেটের বাসিন্দা আকরাম উদ্দিন। তিনি থাকেন রাজধানীর ভাঙা বাজারে। বলেন, ঘণ্টা খানেক হলো। যাত্রী নেই। যে কয়জন মানুষ ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন তারা হেঁটেই যাচ্ছেন। অন্যদিন যেখানে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো সেখানে এখন আয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। রিকশার জমা ১২০ টাকা ও ভাতের খরচ দেওয়ার পর আর তেমন কিছু থাকে না। খুবই কষ্টে আছি আমরা।
সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা সেলিম হোসেন বললেন, সকালে অফিস সময় এক-দুইটা ট্রিপ পাওয়া যায়। এর পর দিনভর আর যাত্রী পাওয়া যায় না। মোড়ে মোড়ে বসে থাকলেও কেউ ডাকে না। গত বছর লকডাউনে অনেক সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি। এবছর কেউ কিছু দিচ্ছে না। মানুষ যেন দিনদিন স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে।
সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন মোড় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি সড়কের মোড়ে রিকশা নিয়ে ২০-৩০ জন চালককে রিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে। কেউ যাত্রী পাচ্ছেন তো, অন্যরা পাচ্ছেন না। এক জন যাত্রী দেখলে তিন-চার জন চালকই এক সঙ্গে ডাকাডাকি করছেন। এ সুযোগে যাত্রীরাও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় রিকশায় উঠতে পারছেন।
সকালে খিলগাঁও রেলগেট, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মগবাজার, মৌচাক, বাংলামোটর, পান্থপথসহ প্রায় প্রতিটি এলাকার চিত্র এমন দেখা গেছে।
জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বলেন, আমাদের রিকশাচালকরা এখন খুবই কষ্টে আছে। কেউ তাদেরকে কোনও সাহায্যও করছে না। অন্যান্য সময়ে তারা যে পরিমাণ ভাড়া পেতো এখন তার চার ভাগের এক ভাগও পাচ্ছে না। অনেক রিকশাচালক পেশাও ছেড়ে দিয়েছে। আমরা রিকশাচালকদের তালিকা তৈরি করে তাদের পরিবারের জন্য সহযোগিতা কামনা করছি। সুত্র: বাংলাট্রিবিউন।
ভয়েস/ জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.