ভয়েস ডেস্ক :
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান উমর আকমলের দোষটা সাকিব আল হাসানের মতো। কিন্তু তাকে সাকিবের চেয়েও বেশি শাস্তি পেতে হলো। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দুটি আইন ভঙ্গ করায় তিন বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে উমর আকমলকে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গতকাল সোমবারই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন আকমল। কিন্তু পিসিবিকে তা জানাননি। যে কারণে এই শাস্তির খড়গ ২৯ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের ওপর। সোমবার পাকিস্তানের লাহোরের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ভবনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে শুনানি হয়। নিজের পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি আকমল। তাই পিসিবি শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফজল-ই-মিরন চৌহান উমর আকমলের বিরুদ্ধে এই শাস্তির ঘোষণা শোনান।
ঘটনা এ বছরের পিএসএলের আগের। স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব এসেছিল উমর আকমলের কাছে। কিন্তু ঘটনার কথা তিনি তার দল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস টিম ম্যানেজার কিংবা পিএসএল এবং পিসিবি দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তা কাউকেই জানাননি। ঘটনা জানতে পেরে পিএসএল কর্তৃপক্ষ ১৭ ফেব্রুয়ারি উমর আকমলকে পিএসএলের এই আসরে খেলা থেকে নিষিদ্ধ করে। গত ২০ মার্চ তার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেশ করে পিসিবি। তার বিরুদ্ধে আইসিসির ২.৪. ৪ ধারার আইন ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়। পরে অভিযোগ পিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির এবং অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের কাছে পাঠানো হয়। ওই অভিযোগেরই শুনানি ছিল গতকাল। যাতে নিজের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মামলা উঠেছিল, তার বিপক্ষে কোনো প্রমাণও দিতে পারেননি উমর আকমল। তাই এই নিষেধাজ্ঞার শাস্তি এলো।
পিসিবির পক্ষে বলা হয়েছে, আকমল দুইবার বোর্ডের নীতি লঙ্ঘন করেছেন। তাই এই শাস্তি অনিবার্য ছিল। চার মাস আগে তিনি শেষবার পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। পিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের পরিচালক লে. কর্নেল আসিফ মাহমুদ জানান, ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া পিসিবির জন্য সব সময়ই কঠিন। এটা আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়ও। উমর আকমলকে তিন বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে আমরা অন্য সব ক্রিকেটারকেও আইনভঙ্গের ব্যাপারে সতর্ক করতে চাই।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের সতর্ক করতে নিয়মিতই ক্লাসের ব্যবস্থা করছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ, ‘আমরা নিয়মিতই ক্রিকেটারদের ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতন করছি। তাদের জন্য নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরপরও এমন কিছু হওয়া দুঃখজনক। ক্রিকেটাররা সমসাময়িককালে ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর অবস্থান দেখার পরও আইন নিজেদের হাতে নিয়ে নিলে আমরা কী করতে পারি। আমি আবারও বোর্ডের পক্ষ থেকে সব ক্রিকেটারকে আইনবিরুদ্ধ কিছু করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি এবং এমন কিছুর প্রস্তাব কেউ পেয়ে থাকলে সরাসরি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর আহ্বান রাখছি।’
২৯ বছর বয়সী আকমলের আইন ভঙ্গ করে শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে একাধিকবার পিসিবির আইন ভেঙে শাস্তির মুখে পড়েছেন। মাত্র ১৬ টেস্ট ও ১২১ ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটার এ নিয়ে ১২ বার কোনো না কোনো নিয়ম ভেঙেছেন। তবে শাস্তির মাত্রায় এটাই সবচেয়ে বড়। ২০১১ সালে পিসিবির কাছ থেকে অনুমতি ছাড়াই টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে তার শাস্তি জীবনের শুরু। সেই থেকে ২০১৩ বাদে এ বছর পর্যন্ত প্রতি বছরই কোনো না কোনো আইন ভঙ্গ করেছিলেন এই ব্যাটসম্যান।
স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় এর আগে সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমিরসহ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছিল পিসিবি। সূত্র:দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.