ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের কাছে নাম চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি জারি করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আওয়ামী লীগের জোট শরিক ও সংসদের বিরোধী দল। এ বিজ্ঞপ্তিতে রীতিনীতি ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন ওইসব দলের কয়েকজন নেতা। তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পেশাজীবীদের যথোপযুক্ত সম্মান দেওয়া হয়নি।
গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদানের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ করার লক্ষ্যে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের নাম আহ্বান করছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে সুপারিশ করার জন্য অনধিক ১০ জনের নাম প্রস্তাব করতে পারবে। পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্তসহ প্রস্তাবিত নাম সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বা ইমেইলযোগে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
একটি ইমেইল আইডি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
এ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা। তারা নাম পাঠাতে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া নিয়েও সমালোচনা করেন।
নাম প্রস্তাব করবেন কি না এমন প্রশ্নে ওই নেতারা জানান, তাদের কাছে তো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম চায়নি। গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেখেছেন। তারা আরও জানান, যে প্রক্রিয়ায় নাম চাওয়া হয়েছে সেটা কতটুকু যৌক্তিক আগে সেটা নিয়ে তারা দলগতভাবে বসবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন নাম পাঠাবেন, নাকি পাঠাবেন না।
সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘আমি ধারণা করেছি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে নাম প্রস্তাব করার অনুরোধ করবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এটি হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘তবুও দেখছি দলের সবার সঙ্গে আলোচনা করে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’
জিএম কাদের আরও বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ও যথেষ্ট নয়। বাছাই করতে হবে। তারপর প্রস্তাব পাঠাতে হবে। তাড়াহুড়োই বেশি মনে হয়।’
১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সার্চ কমিটিকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে চাই। কারণ নির্বাচন কমিশন আইনের দাবি আমরা করেছি। তবে আমরা কীভাবে নাম পাঠাব? আমাদের কাছে কি নাম চাওয়া হয়েছে? বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নাম চাওয়া কি কোনো রীতিনীতির মধ্যে পড়ে? বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে নাম চাওয়া অসম্মানিত করা হয়েছে রাজনীতিকদের।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এতে সাড়া দেব কি না দলের সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
সংসদ সদস্য মেনন আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পরামর্শ নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছেন। সংলাপে যোগ দিতে তিনি সরাসরি ফোন করেছেন। চিঠিও দিয়েছেন।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো শিষ্টাচার। সার্চ কমিটি শুরুতেই সেই শিষ্টাচার ভঙ্গ করেছে।’ তবে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘সার্চ কমিটিকে সহযোগিতা করতে চাই আমরা। দলীয়ভাবে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে নাম প্রস্তাবের বিষয়ে।’
কেমন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনান্য কমিশনার নিয়োগ দেওয়া উচিত সেই প্রশ্নে ইনু বলেন, ‘আইন বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অভিজ্ঞ ও দক্ষতাসম্পন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এমন তিন ব্যক্তি অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে সার্চ কমিটিকে।’ তিনি বলেন, ‘এ তিন ধরনের ব্যক্তির সমন্বয় সেখানে দরকার।’
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য্য সার্চ কমিটির সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, ‘তাদের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে বলেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাম প্রস্তাব চেয়ে রাজনীতিবিদদের অসম্মান করা হয়েছে।’ তিনি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইনকেও সাদামাটা বলে দাবি করেছেন। পংকজ বলেন, ‘গতিবিহীন, জনবিহীন নির্বাচনের দিকেই এগোচ্ছে আগামী নির্বাচনও।’
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘সার্চ কমিটির নাম চাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যথোপযুক্ত আচরণ করা হয়নি। নাম পাঠানোর ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাইনি।’
আওয়ামী লীগের জোটের অন্য শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-আম্বিয়া) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নাম প্রস্তাবে কী আসবে যাবে। নাম চাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মনে হয়েছে সার্চ কমিটিও দায়সারা।’
অবশ্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে নাম চাওয়া অতটা নেতিবাচকভাবে দেখছি না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি নিয়ে রাজনীতিবিদদের মাঝে কোনো অসন্তুষ্টি তৈরি হলে এবং তা দৃষ্টিগোচর হলে সার্চ কমিটির আগামী বৈঠকে তা তুলে ধরা হবে।’সূত্র: দেশরূপান্তর।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.