আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনের কাছে বহুল আলোচিত বায়রাখতার টিবি-২ ড্রোন বিক্রি নিয়ে তুরস্কের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের কাছে ড্রোনটি বিক্রি না করতে আঙ্কারার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মস্কো। তুরস্কের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
তুরস্ক অবশ্য রাশিয়ার এমন আপত্তি আমলে নিতে নারাজ। দেশটির একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ড্রোন বিক্রির বিষয়ে সরকারিভাবে কিয়েভের সঙ্গে আঙ্কারার কোনও চুক্তি হয়নি। বরং তুরস্কের এটি উৎপাদনকারী তুরস্কের একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তি হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া চায় না তুরস্ক ইউক্রেনকে এই ড্রোন সরবরাহ করুক। বিষয়টি নিয়ে মস্কোর অস্বস্তি রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তারা বিষয়টি তুলেছিল। কিন্তু এগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চুক্তি। আর ইউক্রেন যুদ্ধের আগেও দেশটির কাছে এসব ড্রোন বিক্রি করা হয়েছিল।
বায়কার ডিফেন্স নামের একটি তুর্কি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বায়রাখতার টিবি-২ ড্রোন। এটির ব্যাপক চাহিদা আছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনেক বায়রাখতার টিবি-২ অস্ত্রবাহী ড্রোন কিনেছে কিয়েভ। চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এসব ড্রোন ব্যবহার করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এগুলো অত্যন্ত কার্যকর বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী। আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিয়েছিল এই ড্রোন।
ইউক্রেন ২০১৯ সালে তুরস্কের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো স্বল্প উচ্চতায় উড়তে সক্ষম মনুষ্যহীন এই আকাশযানের ছয়টি কিনেছিল। ছয় কোটি ৯০ লাখ ডলারের চুক্তিতে এসব ড্রোন কেনা হয়। প্রতিটি বায়রাখতার টিবি২ সিস্টেমে রয়েছে ছয়টি ড্রোন, দুটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রী। ফলে প্রাথমিকভাবে ইউক্রেন একটি পূর্ণাঙ্গ সিস্টেম কেনে। এসব ড্রোনের পাল্লা তিনশ’ কিলোমিটারের বেশি। টিকে থাকতে পারে ২৭ ঘণ্টা পর্যন্ত আর বহন করতে পারে চারটি পর্যন্ত লেজার গাইডেড অস্ত্র।
আগ্রাসন শুরুর পর রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বায়রাখতার টিবি-২ ড্রোন ব্যবহারের কথা প্রথম জানা যায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ইউক্রেনের জেনারেল সেরহাই সাপতালা টুইটারে একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেন। তাতে দেখা যায়, কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় একশ’ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার একটি বিইউকে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে টিবি-২। এরপর ইউক্রেনের বিমান বাহিনী রুশ লক্ষ্যবস্তুতে দুইটি হামলার কথা নিশ্চিত করে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.