শাহীন মাহমুদ রাসেল:
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় হঠাৎ আনন্দের বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। গ্রামে করোনাকালীন সময় এ ধরনের ম্যাচ বা খেলা উপভোগ করতে জড়ো হন বিবাহিত ও অবিবাহিত দল। যে কারণে খেলায় অংশ নেয়া দল দুটিকে ভাগও করা হয় ‘বিবাহিত ও অবিবাহিত’ নামে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে এমন উত্তেজনাকর একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ঝিলংজা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কোনার পাড়া গ্রামের বাঁকখালী নদীর তীরে এক ধান ক্ষেতের জায়গায়। অবিবাহিতরা ফুটবলে মাঠে লড়েছেন বিবাহিতদের সঙ্গে। বিজয়ী হয়েছে অবিবাহিতরা। টানটান উত্তেজনায় বিবাহিতদের সঙ্গে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন অবিবাহিতরা।
বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হয় একটি ছাগল। গ্রামের তরুণরা আয়োজন করে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের। চার গোল দিয়ে বিবাহিতদের হারিয়ে দেন অবিবাহিতরা। আর কোনো গোল না দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বিবাহিতদের। নদীর তীরে খেলা হলেও আয়োজনের কোনো কমতি ছিল না। মাঠের চারপাশে দর্শকে ছিল পরিপূর্ণ। ধারাভাষ্যে মাঠের উত্তেজনা জড়িয়ে পড়ে বাতাসে।
কয়েকদিন আগে থেকেই বিভিন্নভাবে প্রচার করে গ্রামজুড়ে জানান দেয়া হয় অবিবাহিতদের সঙ্গে বিবাহিতদের ফুটবল মাঠে লড়াইয়ের খবর। খেলা শেষে আয়োজকরা টেলিফোনে প্রতিবেদককে জানান, আমাদের এলাকায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের খেলার আয়োজন করা হয়। গ্রামের মানুষরা মনের আনন্দে উপভোগ করেন সেই খেলা।
তারা বলেন, বিকেলে জার্সি পড়ে মাঠে নামে দু’দলের খেলোয়াড়রা। এস কালারের জার্সি পরে মাঠে নামেন বিবাহিতরা। অবিবাহিতদের গায়ে ছিল পেষ্ট কালারের জার্সি। বিবাহিত দলের নেতৃত্ব দেন রশিদ মিয়া। তার সঙ্গে বেদার, মনছুর, হেলাল, নজি আলম, নাছির, শফি আলমসহ ১১জন।
অন্যদিকে অবিবাহিত দলে নেতৃত্বে ছিলেন বেদার ও এহেসান। খেলেন সাইফুল, মোবারক, হাকিম, শাহাদতসহ ১১ জন। বিবাহিত আর অবিবাহিতদের লড়াইয়ে রেফারি ছিলেন মিজানুর রহমান ভুট্টু। প্রায় দেড় শতাধিক দর্শকের সামনে বিবাহিতদের হারিয়ে দেয় অবিবাহিতরা। আবছার, টিপু, সাইফুল ও এহেছান। তারা প্রত্যেকে একটি করে গোল দিয়ে অবিবাহিতদের বিজয় নিশ্চিত করেন।
খেলার অন্যতম আয়োজক ও বিবাহিত দলের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলম ও ছুরুত আলম বলেন, প্রতি বছরই এই ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হবে। খেলার আয়োজন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলম বলেন, ঈদ পুনর্মিলনী হিসেবে আনন্দ করতেই এই আয়োজন। আমি নিজেও টাউনে থাকি, গ্রামে থাকি না। অনেকেই শহর থেকে গ্রামে এসেছে। তাছাড়া করোনাকালীন সময়ে গ্রামের অনেকে বেকার সময় পার করছে। সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই ফুটবল ম্যাচ।
খেলার পুরস্কারের জন্য গ্রামের ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ বিভিন্ন মানুষ আর্থিক সহায়তা করেন। হেরেও আনন্দিত বিবাহিতরা। দলের খেলোয়াড়রা বলেন, গ্রামের সবাই খুব উপভোগ করি এই ফুটবল ম্যাচ। এই খেলায় হার-জিতের চেয়ে বড় বিষয় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ করা। বিজয়ী অবিবাহিত দলের অধিনায়ক বেদারের কণ্ঠেও একই কথা। তিনি বলেন, আনন্দ করতেই এই ফুটবল ম্যাচ। কেউই পেশাদার খেলোয়াড় নই, নিজেদের মধ্যে আনন্দ করতে এই আয়োজন।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.