প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৯, ২০২৬, ৯:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ৪:৫০ পি.এম
এমপি জাফর আলম ও তার পরিবারকে দুদকের টানা জিজ্ঞাসাবাদ

বিশেষ প্রতিবেদক:
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দেয়া নোটিশের জবাব স্বশরীরে হাজির হয়েছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা। এসময় সংসদ সদস্য জাফর আলমকে টানা আড়াই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য দেননি সাংসদ জাফর আলম।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দীন সাংসদ জাফর আলমকে টানা আড়াই ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৪ আগস্ট দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন তাদের আলাদা চিঠি পাঠান। চিঠিতে এমপি জাফর আলম, তার স্ত্রী শাহেদা বেগম, ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহিন ও মেয়ে তানিয়া আফরিনকে ৪ সেপ্টেম্বর দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ে হাজির হয়ে সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় কর্মসূচি থাকায় ৩ সেপ্টেম্বর সময় চেয়ে দুদকে চিঠি দিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন সংসদ সংসদ জাফর আলম। সেই আবেদনে তাঁরা ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় দুদক কার্যালয়ে আসবেন বলে উল্লেখ করেন।
এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাঁরা হাজির হন। দুদক কার্যালয়ে প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী অবস্থান করেন। প্রথমে সাংসদ জাফর ও পরবর্তীতে এক একে স্ত্রী সন্তানেরা তাঁদের সম্পদের বিবরণী তুলে ধরেন। সাংসদ জাফর আলমকে আড়াই ঘন্টা এবং তাঁর স্ত্রী সন্তানদের চার ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়েন এসময় দুদকের করা অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ জাফর আলম কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে একটি বাক্যই বলেছেন, 'শাক দিয়ে কখনো মাছ ঢাকা যায় না।'
দুদকের নোটিশে বলা হয়, সংসদ সদস্য জাফর আলমের ক্ষমতা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রী শাহেদা বেগম সরকারি জমি, চিংড়ি ঘের, জলমহাল দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। সাংসদ জাফর আলমের স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হলেও দীর্ঘদিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে সাংসদ জাফর আলম তার ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের অনুসন্ধানকে ‘চিহ্নিত মহলের ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বলেছেন, দুদকের তদন্তে তার পরিবার পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এর আগে, গত ২১ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খান মো. মাজানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক স্মারকে সংসদ সদস্য জাফর আলমের স্ত্রী শাহেদা বেগমের সম্পদ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই স্মারক সূত্রে উল্লেখ করা হয়, শাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে এমপি তার পরিবারকে সম্পদের বিবরণ দিতে দুদকে ডাকা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিনকে সাংসদ জাফর আলম ও তার পরিবারের সম্পদের তদন্ত কারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তবে সাংসদ জাফর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে আজ কক্সবাজার দুদক কর্মকর্তা সরাসরি কোন বক্তব্য দেননি।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.