এম.এ আজিজ রাসেল:
সকাল থেকে ছুঁটে আসছে অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয়রা। সবার গন্তব্য পর্যটন মেলা ও বীচ কার্নিভাল। দুপুর থেকে বিকাল গড়াতেই পর্যটক ও স্থানীয়দের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় তিল ধরার ঠাঁই ছিল না কোথাও। পর্যটন মেলার ২০০টি স্টলে সবাই ঢু মারছে বাহার পণ্য লুফে নিতে। অনেকেই পরিবার—পরিজন নিয়ে ব্যস্ত খাবারের দোকানগুলোতে। সন্ধ্যা হতেই কনসার্টের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে সবাই। মেলার ৫ম দিনে শনিবার দিনক্ষণ ঠিক ছিল বিদেশীরা বিশেষ অনুষ্ঠান করবে। বিকালে কার্নিভাল মঞ্চে ‘পর্যটন শিল্প বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগ: কক্সবাজার প্রেক্ষিত বিষয় নিয়ে প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে ডিসকাশনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেয় আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি। তিনি মুঠোফোনে পর্যটনকে এগিয়ে নিতে নানা অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া ডিসকাশনে বিশেষ অতিথির আলোচনা রাখেন কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর নুরুল আবছার, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোলাইমান ও কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু তাহের। সবার কণ্ঠে আগামী ডিসেম্বরে হতে যাওয়া পর্যটন মহাপরিকল্পনায় কক্সবাজারকে আলাদাভাবে সংযুক্ত করার দাবি উঠে।
প্যানেল ডিসকাশন শেষে ঘোষণা দেওয়া হয় বিদেশীদের বিশেষ অনুষ্ঠানে। তাঁরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। প্রথমে পশ্চিমাদের ঐতিহ্যবাহী সালসা ড্যান্স দিয়ে শুরু হয় পারফর্ম। এতে ৬—৮ জন বিদেশী নেচে—গেয়ে দর্শকদের প্রাণ জুড়ালেন। এরপর দুই চাইনিজ তাদের কণ্ঠে তুলে ধরে চাইনিজ নান্দনিক গান। তাদের গানের সাথে অনেককে অজানাভাবে ঠোঁট মেলাতে দেখা যায়। এরপর আবারও সালসা ড্যান্সে মাতোয়ারা দর্শক। তারপর এক কোরিয়ান শিল্পী তাঁর নিজ দেশের সংস্কৃতি মেলে ধরেন গানে গানে। তাঁর সাথে উম্মাতাল সবাই। বিরতি শেষে অপেরা, হ্যাভি মেটাল ও জাজ মিউজিকের সুর এবং তাল মঞ্চের পেছনে বিশাল সাগরের জলরাশির ছোট—বড় ঢেউয়ের মিলিয়ে যায়। সেই সাথে ছুঁয়ে যায় পর্যটন রাজধানীর মানুষের মন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানালেন, এঁরা কেউ পেশাদার শিল্পী ছিলনা। কক্সবাজারে বিভিন্ন আইএনজি ও এনজিওতে কর্মরতদের নিয়ে মনোমুগ্ধকর এমন আয়োজন। যা বর্ণিল করে তোলে পুরো উৎসবকে।
বিদেশীদের এই পারফরম্যান্স শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখছিলেন ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি মারুফ হোসাইন ও মিলি আহমেদ জানান, এমন আয়োজনের যেন স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার—প্রচারণা বাড়াতে হবে। যাতে প্রতিবছর পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালে দেশী—বিদেশী পর্যটক কক্সবাজার ছুঁটে আসে। আর মেলায় যেন সারাদেশের পর্যটন জেলাগুলো অংশ নেয়। যাতে তাঁরা নিজ জেলার পর্যটনকে মেলা ও কার্নিভালে তুলে ধরতে পারে। এতে করে পুরো বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলো সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানবে এখানে আগতরা।
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, পর্যটন মেলা ও বীচ কার্নিভালে বিদেশীদের অংশগ্রহণে দারুণ এই পরিবেশনা কক্সবাজারের পর্যটনে মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। এমন আয়োজন প্রতি বছর হলে দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের পাশাপাশি পর্যটন থেকেই জিডিপিতে আলাদা আয় হবে। এতে করে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.