ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার মেরিনড্রাইভ সড়কের পেঁচারদ্বীপে সাগরের বালি দিয়ে রিসোর্টের জমি ভরাট করা হচ্ছে। গত সপ্তাখানেক ধরে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন। মেরিনড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে মারমেইড বীচ রিসোর্টের দক্ষিন পাশে দ্বীর্ঘ পাইপ লাগিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে তার নিজস্ব ৬০ শতক জমি ভরাট করে রিসোর্ট তৈরী করা হচ্ছে। ইতিপুর্বে তার নেতৃত্বে মারমেইড বীচ রিসোর্টের বিশাল জমিও ভরাট করা হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সাগর থেকে বালি উত্তোলন করলেও সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে সাগরে আরও দ্রুত বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে পর্যটন এলাকাসহ সংরক্ষিত অঞ্চল। জনবসতিও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষার জন্য সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কিন্তু ডুবো এবং জেগে ওঠা চর থেকে বালু উত্তোলনের ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বিশাল বালিয়াড়ী ও ঝাউ বাগান। জাতীয় পরিবেশ নীতিমালা অনুযায়ী সমুদ্রে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও সাবেক এ ইউপি সদস্য তা মানছেনা। ইতিপুর্বে তার নিজস্ব ড্রেজার মেশিন দিয়ে মারমেইড বীচ রিসোর্ট সহ বিভিন্ন জনের জমি ভরাট করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সর্বশেষ নিজের ৬০ শতক জমি ভরাট করে রিসোর্ট তৈরী করছেন। এ যেন দখার কেউ নেই।
স্থানিয়রা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মারমেইড বীচ রিসোর্টের পশ্চিম পাশে ডুবো এবং জেগে ওঠা বিশাল চর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নষ্ট হচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক খনিজসম্পদ, সামুদ্রিক প্রাকৃতিক জীবসম্পদ, মৎস্য, চিংড়ি, শামুক, ঝিনুক, ডলফিন, কাঁকড়া, সি-উইড, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন-আবাসস্থল। জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের ইকো-সিস্টেমকে ক্ষতিসাধন করে রাষ্ট্রের সামুদ্রিক জলজ সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রতল, জলরাশি, জলবায়ু, সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীরও দূষিত হচ্ছে। স্থানিয়রা বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্থক্ষেপ কামনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন জানান, তিনি একটি রিসোর্ট তৈরী করছেন ঠিকই কিন্তু সাগর থেকে বালি উত্তোলন করেননি। তবে পার্শবর্তি মারমেইড বীচ রিসোর্টের কিছু জমি ভরাট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানিয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহেল সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘গত কয়েকদিন ধরে গভীর রাতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাটের বিষয়টি রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভুমি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।’
খুনিয়াপালংয়ের তহশিলদার আবছার কামাল বলেন, ‘উপজেলা ভুমি কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে আমি বালু ভরাটের স্থান পরিদর্শন করে আর যাতে বালু উত্তোলন করা না হয় তা বারন করা হয়েছে।’
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষন পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘সমুদ্র উপকূলটাকে পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে নিয়ে যা খুশি তা করছেন। পৃথিবীতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ। আর সেই পরিবেশকে ধ্বংস করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে কিছু অমানুষ। যারা এসব দেখভাল করবে তারাও সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। এতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে বালু উত্তোলনকারীরা। এখনই সচেতন নাগরিক সমাজকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। না হলে আগামী প্রজন্মকে আমরা বাসযোগ্য পৃথিবী দিয়ে যেতে পারবো না।’
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ও পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলামের মোবালে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশাল সমুদ্র সৈকত রাতদিন পাহারায় থাকা সম্ভব নয়। যখনই খবর পাচ্ছি, অভিযান করা হচ্ছে, আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সাগর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসন কাউকে অনুমতি দেয়নি। খোঁজখবর নিয়ে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.