এম এ সাত্তার:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে চিড়েচ্যাপ্টা ভোক্তাদের অভিযোগের শেষ নেই।জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর অযুহাত সব বিক্রেতার মুখে। পাশাপাশি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে সব ভোগ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তার পাশাপাশি সরকারও রয়েছেন চরম বেকায়দায়।এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোর তদারকি করলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পণ্যের ন্যায্য মূল্য ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসন।
ক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর একের পর এক সবকিছুর দামই বেড়ে চলছে। কোনো কিছুর দাম বাড়লে সেটা আর কমার কোনো নজির নেই। সবকিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকায় তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে ।
অন্যদিকে চাল, তৈল, পেঁয়াজের বাড়তি দামের ঘোলাটে যখন অস্থির সাধারণ মানুষ, এই সুবর্ণ সুযোগে ভোক্তার পকেট কাটছে কনজ্যুমার ও টয়লেট্রিজ পণ্য বিক্রেতারা। দেশে আইন থাকলেও প্রয়োগ না থাকার কারণে অসাধু কোম্পানিগুলো পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়াই সাবান, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু,মশার কয়েল, ডিটারজেন্টসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস/পণ্যের দাম ইচ্ছে মতো বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। চলতি বছরে দুই/এক মাসের ব্যবধানে এসব নিত্যপণ্যের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে বলে জানান খুচরা বিক্রেতারা।
কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাসখানেক আগে ৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সুগন্ধি সাবানের জন্য এখন গুনতে হচ্ছে বাড়তি ১০ টাকা আর মাস ব্যবধানে কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে ডিটারজেন্টের দাম। পিছিয়ে নেই টুথপেস্ট, ব্রাশ কিংবা হ্যান্ডওয়াশও।
আমার মনে হয়, এটা তারা বৈধভাবে প্রতারণা করছে। ভোক্তারা প্রতিটা জায়গায় প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সমাধান দরকার। মিডিয়াতে খবর আসার কারণে ভোক্তারা সচেতন হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
পৌরসভা মার্কেটের খুচরা বিক্রেতারা জানান, প্রায় সব ধরনের প্রসাধনীর দাম বেড়েছে। ১৫০ গ্রাম ওজনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গায়ে মাখার সাবানে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে গায়ে মাখার যেসব সাবান ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো এখন তা ৫৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাপড় ধোঁয়ার জন্য এক কেজি ওজনের যেসব গুঁড়ো সাবান ৯৫ টাকা বিক্রি হয়ে আসছিল তা এখন ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর ১১৫ টাকা মূল্যের গুঁড়ো সাবানের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। এ ছাড়া কাপড় ধোয়ার সাবানও ৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লিক্যুইড ক্লিনার হারপিকের দাম ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। কয়েলের দাম ২০-৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পরপরই কোন কারণ ছাড়া যে কোন পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন বাজারে বেশি দামের নতুন পণ্যই সরবরাহ করা হচ্ছে। আগের দামের ধারে কাছেও কোনো পণ্য বাজারে এখন নেই।প্রধান সড়ক ইসলামী ব্যাংকের পাশের এক ফাস্ট ফুড দোকানদার বলেন, কোম্পানিরা সাবান- ডিটারজেন্টের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পনের দিন আগেও ১৫০ গ্রাম ওজনের যে লাক্স সাবান ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন তা ৭০ টাকা। সাবানেও ৫ টাকা বেড়েছে। রিন গুঁড়ো সাবান ১২৫ টাকা ছিল তা এখন ১৪০ টাকা হয়েছে। ইউনিলিভার কোম্পানির সব কিছুর দাম আগের থেকে বেড়েছে। তিনি বলেন, সাত থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানেই অন্তত ৫-১০ টাকা করে দাম বাড়ছে এসব পণ্যের।
এসব ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্টের দাম ২০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ১০০ গ্রামের পেপসোডেন্ট টুথপেস্ট কয়েকদিন আগে ছিল ৮০ টাকা। এখন তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৬০ গ্রাম ওজনের টুথপেস্ট বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত। ২০০ গ্রাম ওজনের নারিকেল তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা।
এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর ব্যাপারেও জ্বালানি তেলের কথা উল্লেখ করে এক বিক্রেতা বলেন, এখন যেই পণ্যের অর্ডার দেই সব কিছুই নতুন রেটে নিতে হচ্ছে। আগের চেয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দিয়ে নতুন পণ্য কিনতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে নতুন দামের ক্লোজআপ টুথপেস্ট বিক্রি করছি ১২০ টাকায় অথচ একমাস আগেও ১১০ টাকা বিক্রি করেছিলাম। বড় বাজারে রফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, সব কিছুর দামই তো বাড়ছে। অথচ ব্যয়ের সঙ্গে আমাদের আয় বাড়লে তো অসুবিধা নেই। কিন্তু তা কখনোই করা হচ্ছে না। শুধু আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে।
প্রসাধনী ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর দাম বাড়ানোর ব্যাপারে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বাড়ার কারণকে উল্লেখ করছেন উৎপাদনকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এক সিনিয়র কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই ডলারের দাম বেড়েছে। এতে এলসি করতে আগের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। তাই দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন কোম্পানি গুলো।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.