ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজার নাজিরাটেক সমুদ্র উপকূলে ভাসমান মাছ ধরার নৌকা থেকে পোদ্দার গলিত মৃতদেহ গুলোর পরিচয় মিলেছে। রবিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে এসে স্বজনরা তাদের পরিচয় সনাক্ত করেন।
এরা হলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলা পাড়ার রফিক মিয়ার ছেলে সামশুল আলম (২৩), শাপলাপুর ইউনিয়নের মিটাছড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮), জাফর আলমের ছেলে সওকত উল্লাহ (১৮), মুসা আলীর ছেলে ওসমাণ গনি (১৭), সাহাব মিয়ার ছেলে সাইফুল্লাহ (২৩), মোহাম্মদ আলীর ছেলে পারভেজ মোশাররফ (১৪), মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে নুরুল কবির (২৮), চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের কবির হোসাইনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৪), শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান (৩৫) ও চকরিয়া পৌরসভার চিরিঙ্গা এলাকার জসিম উদ্দীনের ছেলে তারেক জিয়া (২৫)।
১০ জনের মরদেহের মধ্যে চকরিয়ার উপজেলার কোনাখালী উপজেলার জঙ্গলকাঁটা গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে মো. তারেক মিয়ার (২০) মরদেহ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন তার মা জোছনা বেগম (৪৫)।
তিনি হাসপাতাল চত্বরে বলেন, “আমার ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ৭ এপ্রিল ইফতারির পর সে বটতলি স্টেশনে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই।”
পরে জোছনা বেগম খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন একই এলাকার সাইফুল্লাহ ও শাহজাহান নামে আরও দুই যুবক নিখোঁজ আছেন। যদিও তাদের পেশা জানেন না তিনি।
ছেলের জন্মগতভাবে ডান হাতের চারটি আঙ্গুল একসঙ্গে লাগানো এবং কনিষ্ঠা নেই- সেই দেখে শনাক্ত করেছেন জানিয়ে জোছনা বেগম আরও বলেন, “আমার ছেলে যে সাগরে গেছে সেটা আমি জানি না। সে তো রাজমিস্ত্রির কাজ করে।”
কক্সবাজারে ট্রলারে ১০ লাশ: যা যা জানা যাচ্ছে
মরদেহের একটি মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠেছড়ি এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলামের (২৩)। বিকালে তার মরদেহ এসে শনাক্ত করেছেন তার বাবা। সাইফুল পেশায় দিনমজুর; খেত-খামারে কাজ করতেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম জানান, আজ রবিবার দুপুর থেকে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের টিম সহ স্হানীয় জেলেদের সহায়তা নিয়ে ট্রলারটি একেবারে কুলে ভিড়ানো হয়। দীর্ঘ তিন ঘন্টা ধরে ট্রলারের ভেতরের কাঠের পাটাতন খুলে একে একে ১০ টি লাশ উদ্ধার করে।
তিনি জানান এটি একটি হত্যাকান্ড। ধারণা করা যায় ডাকাত দল গভীর সাগরে তাদের হত্যা করে ট্রলারের ভেতরে কাঠের পাটাতনে পেরেক লাগিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিক ভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে সিআইডি ও পিবিআই এর ক্রাইম সিন টিমকে খবর দেয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা যায় ১০/১২ দিন আগে মহেশখালী থেকে একটি ফিশিং ট্রলার গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশন অফিসার খান খলিলুর রহমান জানান ট্রলারের ভেতর থেকে উদ্ধার প্রতিটি বিকৃতি হয়ে গেছে। প্রত্যেকের হাত পা বাধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেককে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জেলেদের দাবি, কিছু দিন আগে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে সাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একদল ডাকাত হামলা চালায়। তখন ডাকাতরা লুটপাট করে জেলেদের খুন করেছে। তাদের ধারণা নিহতরা মহেশখালী চকরিয়া কুতুবদিয়া বা আশেপাশের এলাকার জেলে হতে পারে। তবে ফিশিং ট্রলারটির মালিকানা দাবি করে ঘটনাস্থলে কেউ আসেনি।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.