ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
সেন্টমার্টিন জেটিঘাট দিয়ে একটু পশ্চিমে এগুলেই বাজার পাড়া। এটিই দ্বীপের একমাত্র বাজার। এখানে দাঁড়ালেই চোখে পড়বে ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষত। উপড়ে পড়া ছাউনি, কিছু কিছু আংশিক ভাঙা দোকানকে উপেক্ষা করে পশ্চিম দিকে আরেকটু এগুলেই সড়কে বিভিন্ন পয়েন্ট মিলবে ভাঙা গাছের ডালপালা, বিধ্বস্ত ঘরবাড়িসহ নানা ক্ষতের চিহ্ন।
সোমবার (১৫ মে) দুপুরে সেন্টমার্টিন গিয়ে এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে কথা হয় আট বর্গকিলোমিটার এই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কোনাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে মৌসুমী চা বিক্রেতা নুরুল আলমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ জন। কিছুদিন আগে আমি মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে আহত হই। বর্তমানে অনেকটা পঙ্গুত্ব জীবন পার করছি। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখা'র আঘাতে আমার বসতবাড়ি একদম বিধস্ত হয়ে গেছে। নিজের সক্ষমতা নেই ঘর করার। তাই বাধ্য হয়ে যতদিন কারো সহযোগিতা না পাব ততদিন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।
বাজার পাড়ার মুদির দোকানদার নাহিদ হোসেন বলেন, আমার মুদির দোকানের অর্ধেক অংশ ভেঙে গেছে। উড়ে গেছে টিন। যা মালামাল ছিল তাও বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। যা আছে তা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
অপর ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, বাজারের কম হলেও দেড় শতাধিক দোকান নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, উত্তরপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপা, মাঝেরপাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান। এসব এলাকার মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।
জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ৯০ শতাংশ গাছপালা ভেঙে গেছে, প্রায় ৩০০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, আংশিক নষ্ট হয়েছে ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট এবং গুরুতর একজনসহ আহত হয়েছেন ৬ জন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা ঝুঁকিমুক্ত হলেও দ্বীপ ভালো নেই। মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা ঘুরে দাঁড়াব।
ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে শুধু সেন্টমার্টিন নয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোখার আঘাতে এই দ্বীপের প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এবং ৯০ শতাংশ গাছপালা।
এরপরও দ্বীপবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজেদের বিধ্বস্ত কুটিরে ফিরেছে তারা।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা সাদেক হোসেন বলেন, দ্বীপে প্রতিটি ঘরবাড়িতে গাছপালা ভেঙে গেছে ও ঘেরা-বেড়া নষ্ট হয়েছে। তবে জালিয়াপাড়া ও দক্ষিণ পাড়ায় কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কয়েকটি দাতাসংস্থা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেছে।
এইদিকে উপজেলার সাবরাং, সদর, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউপিতেও অধিকাংশ গাছপালা ভেঙে গেছে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ ঘরবাড়ি।
সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আলীর ডেইল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা'র প্রভাবে সাবরাং-য়ে অধিকাংশ গাছপালা ভেঙে গেছে, প্রায় ২০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও ঘেরা বিনষ্ট হয়েছে। দুঃখের বিষয়, আমার নিজের ঘরের টিনের ছাউনি বাতাসে উড়ে গেছে এবং ঘেরা নষ্ট হয়েছে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য শামসুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা হচ্ছে। পাশাপাশি আজ দাতাসংস্থা সুশীলনের আর্থিক সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে টেকনাফ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সাধারণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
সোমবার সেন্টমার্টিন পরিদর্শন করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান বলেন, মঙ্গলবার থেকে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.