এম এ সাত্তার:
কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলিত বছরের গত মার্চ থেকে ১০ টাকার চাল বিক্রি শুরু করছে সরকার। বিশেষভাবে করোনার প্রকোপে মানুষের খাদ্য সংকট কমাতে। কিন্তু জহির উদ্দিন এমন অবস্থাতেওে প্রকাশ্য দুর্নীতি করলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এলাকার অসংখ্য কার্ডধারী অতিদরিদ্র মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ:
ডিলার জহির পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি দোকানে সরকারি চাল মজুদ করে রাখে। কিন্তু তার ইচ্ছেমত যাকে ইচ্ছা তাকে সপ্তাহে ২/১ দিন বিতরণ করে। প্রায় সময় দোকান বন্ধ রাখে। কার্ডধারী মানুষ চালের জন্য গেলেও দোকান খোলা না পেয়ে ফেরত চলে আসে। কোন রকম মাস পার করে দেয় সে। এভাবে মাস শেষ অব্দি একাধিক কার্ডধারী মানুষের চাউল গোপনে কালোবাজারে বিক্রি করে আসছে জহির অভিযোগ এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কার্ডধারী জানান, তাদের জানানো হয়না কোন মাসের কত তারিখে সরকারি চাল বিতরণ করা হবে বা হচ্ছে । লোকের মাধ্যমে জানতে পেরে চাউলের জন্য গেলে দোকান খোলা পাওয়া যায় না।
মোবাইল করলেও মোবাইল রিসিভ করেনা। পথের মধ্যে কোন সময় দেখা সাক্ষাৎ হলে চালের কথা জানালে বলেন, চাল বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। মাস শেষ হতে আরো ১৫/১৬ দিন বাকি আমাদের কার্ডের চাউল কোথায় গেলো জিজ্ঞাসা করলে জানান আমি ২/১ দিনের ভিতর চাল বিতরণ করে ফেলেছি। চাউল বিতরণের সময় যারা উপস্থিত থাকেনা তা ফেরত দিয়ে আসি।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জহির উদ্দিন দম্ভস্বরে বলেন, কার্ডধারী যে কেহ আসলে চাল দিয়ে দেন। কেউ চাউল না নিয়ে গেলে তার করার কিছু নেই। অবিক্রিত চালের হিসাব সে সরকারকে বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। কোনো ধরনের অনিয়মে তিনি জড়িত নন।
ট্যাগ অফিসার দায়সার:
অভিযোগ রয়েছে ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধেও। তিনি ডিলার জহির চাল বিক্রিতে নানা অনিয়ম চালিয়ে গেলেও সঠিক নজরদারী করছেননা। দায়িত্বের প্রতি দায়সারা মনোভাব এমন জানালেন এলাকার সচেতন মহল। উপজেলা প্রশাসনের নিযুক্ত তদারকি অফিসার ডিলারের দোকানে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ডিলার চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম করার সুুযোগ পাচ্ছে।
তথ্যমতে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধবের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির জন্য উপজেলা প্রশাসন ২২ জন ডিলার নিয়োগ করে। এই চাল বিক্রির অনিয়ম ঠেকাতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে চাউল আত্মসাৎ ও চুরি ঠেকাতে বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে পিএমখালীর ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ হানিফ মিয়া' নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছন। নজরদারীর মাঝেও কিছু অনিয়মের জড়িয়ে থাকতে পারে। ডিলার জহিরের বিরুদ্ধে স্থানীয় মেম্বার ও অনেকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন বলে স্বীকার করে বলেন, পিএমখালী ইউনিয়নের সকল মেম্বারদের উপস্থিতিতে তাকেসহ অন্য ডিলার নূর মোহাম্মদকে দেখে নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।পরবর্তীতে এরকম কোন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহামুদ উল্লাহ মারুফকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে সে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
যেভাবে বাগিয়ে নেন ডিলারশীপ:
শুরুতে পিএমখালী ইউনিয়নে ১০ টাকা চাউল বিক্রির (খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি) দুজন ডিলার ছিলেন নুরুল আবছার, সে চাউল বিতরণ করত নূর মোহাম্মদ চৌধুরী বাজার থেকে এবং অন্যজন নুর মোহাম্মদ বিতরণ করত চেরাংঘর বাজার থেকেই।
প্রাপ্ত সূত্রে প্রকাশ, নুরুল আফসারে বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিকেট পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফন্দি আটে। কিভাবে ডিলারশীপ বাতিল করা যায়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুর্বলতার সুযোগে মোটা অংকের জরিমানা ও তার ডিলারশীপ বাগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক এএসএম মাসুদ উদ দৌলা'র কার্যালয়ে (ডিলার নুরুল আবছার) চাউলের পরিবর্তে আটা বিক্রির অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারি পরিচালক এএসএম মাসুদ উদ দৌলা উক্ত নূর মোহাম্মদ চৌধুরী বাজারে হাজির হয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে শাস্তি স্বরূপ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করে নেয়। এরপর তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে কেমনে কী করে তার কাছ থেকে ডিলারশিপও বাতিল করিয়ে বাগিয়ে নেন ওই সিন্ডিকেট। সেই থেকে নুরুল আবছার এর পরিবর্তে সিন্ডিকেট সদস্য পরনিয়াপাড়া এলাকার জহির উদ্দিনকে ডিলারের মালিক হন।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.