আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইরানের তেলকূপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সতর্কবার্তাকে কটাক্ষ করে একে ‘ভুয়া পরামর্শ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অবরোধের হুমকিই বরং বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ ডলারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের ফলে ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারায় অতিরক্তি তেল উৎপাদনের চাপে ইরানের তেলের পাইপলাইন বা তেলকূপ বিস্ফোরিত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে এমন ঘটনা ঘটার জন্য মাত্র তিন দিন সময় বাকি আছে।
এর জবাবে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ গালিবাফ লিখেন, “৩ দিন পার হয়ে গেল, কোনো কূপ বিস্ফোরিত হয়নি। আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে লাইভ স্ট্রিম করতে পারি।”
গালিবাফ দাবি করেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতো ব্যক্তিদের দেওয়া ‘বাজে পরামর্শের’ কারণেই মার্কিন প্রশাসন এমন দাবি করছে।
ইরানের এই শীর্ষ সংসদীয় কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের মানসিকতা তেলের দাম ১৪০ ডলারে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “বেসেন্টের মতো ব্যক্তিদের কাছ থেকে মার্কিন প্রশাসন এ ধরনের বাজে পরামর্শ পায়, যারা অবরোধের তত্ত্ব প্রচার করে তেলের দাম ১২০ ডলারের উপরে তুলে দিয়েছে। পরবর্তী গন্তব্য: ১৪০ ডলার।”
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং তেহরানের ওপর পুনরায় বিমান হামলার হুমকির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত সীমাবদ্ধ হওয়ায় গত দুই মাসে তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তেলের দাম আরো ৫ শতাংশ বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ৬.৮ শতাংশ বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে, ডব্লিউটিআই ৩ শতাংশ বেড়ে ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইরানের তথ্যমতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা পুনরায় কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও খুলবে না।
ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধ ইরানের তেল রাজস্ব বন্ধ করতে ব্যর্থ হলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.