বিনোদন ডেস্ক:
প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে তাদের। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ (এমওএল) প্রকল্পের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি হতে যাচ্ছে প্রকল্পটির সপ্তম ফিল্ম। এর সহপ্রযোজনায় রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবিয়াল।
দীর্ঘদিন পর আবারও এই প্রকল্পের কোনো কনটেন্টে কাজ করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর মাধ্যমে প্রথমবার এই প্রকল্পের কোনো কনটেন্টে যুক্ত হলেন কেয়া পায়েল।
সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব—এই তিনটি বিষয়কে এক সুতোয় বাঁধা হয়েছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ। নির্মাতা জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি তৈরি করতে পারব।’
ফিল্মটিতে আনিস চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। তাকে সাধারণত অ্যাকশনধর্মী চরিত্র বা শক্তিশালী পুরুষ চরিত্রে দেখা গেলেও ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ ভিন্নভাবে হাজির হচ্ছেন তিনি। এই চরিত্রকে ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অভিনেতা—স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল এবং একাকী জীবনযাপন করা এক পুরুষ।
আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর এই প্রকল্পের সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত, এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’
নিজের চরিত্র সম্পর্কে অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমার চরিত্রটি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের, যার পুরো পৃথিবীজুড়েই রয়েছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা।’
অন্যদিকে, ফিল্মটির গল্পের আরেক প্রান্তে রয়েছেন অনামিকা চরিত্রের কেয়া পায়েল। উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্ন।
কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে। প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তৃতীয়ত, এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম।’
নিজের চরিত্র নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন।’
নির্মাতা জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন যে সামাজিক দূরত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আমাদের চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের যে সংঘাত, তার এক বাস্তবসম্মত প্রতিচ্ছবি মিলবে এই কনটেন্টে।’
তিনি আরও জানান, কনটেন্টটিতে হিউমার, রোমান্স এবং আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত রয়েছে, যা প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করবে।
এই প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’
গল্পের ভিন্ন ভাবনার কারণেই প্রকল্পটির সহপ্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা—গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’
আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া কনটেন্ট ‘উনিশ২০’ (২০২৩)। অন্যদিকে, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের দ্বিতীয় ফিল্ম। তার নির্মিত প্রথম ফিল্ম ছিল ‘ঘুমপরী’।
‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬–২৪–৩৬’ ও ‘ডিমলাইট’ মুক্তি পেয়েছে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.