আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হিমালয় পর্বতমালায় হিমবাহের বরফ ও বিশাল শিলাখণ্ড ধসে একটি নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে তৈরি হওয়া আকস্মিক প্রলয়ঙ্করি বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নেপাল এবং চীনের তিব্বত সীমান্ত। বুধবারের এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের তথ্য মতে, নেপাল ও তিব্বতজুড়ে এখনও প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৮০০ জনই বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক। খবর রয়টার্স।
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে
নেপালের অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা ও কাঠমান্ডুকে সংযোগকারী গিরিপথে এই দুর্যোগ আঘাত হানে। এ সময় এলাকাটিতে অসংখ্য হাইকার, ট্র্যাকার এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কৈলাশ মানস সরোবরগামী পুণ্যার্থী অবস্থান করছিলেন।
নিখোঁজের বিশাল তালিকা ও বিদেশি নাগরিক
নেপাল পুলিশ ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, দেশে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনই বিদেশি পর্যটক। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ১৭৭ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, ব্রিটেনের ৩৩ জন ও কানাডার ২৫ জন নাগরিক। অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতেই ২৫০ জন বিদেশিসহ ৫৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল কাদার তোড় মুহূর্তের মধ্যে তিব্বত-নেপাল সীমান্ত ক্রসিং ধ্বংস করে শত শত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জিরোং পয়েন্টে বহুতল ভবন, ধাতব ব্রিজ, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে।
‘চোখের সামনে স্ত্রীকে কাদা গিলে খেলো’
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়সী বেঁচে যাওয়া কেশব প্রসাদ বারাল আকুতি জানিয়ে বলেন, “বিশাল কাদার স্রোত সোজা আমাদের দিকে আসছিল। আমি স্ত্রীর হাত ধরে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু চোখের সামনে ও কাদার মধ্যে তলিয়ে গেল। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার আমাকে উদ্ধার করে, কিন্তু আমার স্ত্রী আর নেই।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তিনি একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে রক্ষা পান, যেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর কর্মস্থল ভবনটিকে মাটির নিচে বিলীন হতে দেখেন।
ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস?
প্রথমে এটিকে ভূমিকম্পের ধাক্কা মনে করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস), প্রাথমিক ৪.৪ মাত্রার কম্পনটি মূলত ছিল পাহাড় থেকে বরফ ও বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ার কম্পন তরঙ্গ। হিমবাহ ধসে নদী আটকে গিয়েই এই প্রলয়ঙ্করি প্লাবণের সৃষ্টি হয়।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান
নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫,০০০-এরও বেশি সদস্য হেলিকপ্টারে করে বন্যাকবলিত দুর্গম অঞ্চলে খাদ্য, তাবু ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন। নেপালকে জরুরি ত্রাণ হিসেবে ৫ লাখ ডলার ও বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ এবং ভারতের পক্ষ থেকেও জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিব্বতের উজানে একটি কৃত্রিম হ্রদ এখনো আটকে থাকায় সেখানে পুনরায় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ, যা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ভয়েস/আআ
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.