নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) সোনাদিয়া-ঘটিভাঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্যারাবন নিধন, সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস এবং বনভূমিতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় গড়ে তোলা সবুজ বেষ্টনী ধ্বংসের অভিযোগে বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের জন্য বিশ্বব্যাংকের ইন্সপেকশন প্যানেলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী হিসেবে রয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী ফরেন সলিসিটর ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবাল। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সোনাদিয়া-ঘটিভাঙ্গা এলাকায় প্যারাবন ধ্বংস, চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ সৃষ্টির জন্য বনভূমি উজাড় এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের ইন্সপেকশন প্যানেলের কাছে তদন্ত, অনুসন্ধান ও হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
[caption id="attachment_82539" align="alignnone" width="190"]
ফারুক ইকবাল এর আবেদন নমুন কপি। সংগৃহীত।[/caption]
[caption id="attachment_82543" align="alignright" width="186"]
আবেদনের পর বিশ্বব্যাংক ইন্সপেকশন প্যানেল থেকে রিপ্লাই ম্যাসেজ কপি।[/caption]
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের Climate Adaptation Fund-এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সবুজ বেষ্টনী ও ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সোনাদিয়া-ঘটিভাঙ্গা এলাকায় এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরির উদ্দেশ্যে প্যারাবন নিধন, আগুন দিয়ে বনভূমি পুড়িয়ে দেওয়া এবং সবুজ বেষ্টনীর অবয়ব ধ্বংসের ফলে উপকূলীয় পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবালের অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সক্রিয় প্রভাব ও সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যারাবন ও ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য Climate Adaptation Fund-এর অর্থ ছাড় স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগের একটি অনুলিপি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের ইন্সপেকশন প্যানেল অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবালকে চিঠির মাধ্যমে অভিযোগটি গ্রহণ করার বিষয়টি জানিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অভিযোগটির রেফারেন্স নম্বর S2609-0018। তার দাবি, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও তদন্তে আসতে পারে।
[caption id="attachment_82540" align="alignnone" width="300"]
মহেশখালীর সোনাদিয়া-ঘটিভাঙ্গায় প্যারাবন নিধন। ফাইল ছবি[/caption]
লন্ডন থেকে মুঠোফোনে অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবাল বলেন, “বিশ্বব্যাংক বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে গুরুতর চাপের মুখে পড়তে পারে। এমনকি বাংলাদেশের Climate Adaptation Fund-এর অর্থায়ন স্থগিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন ও বসতিকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, সোনাদিয়া-ঘটিভাঙ্গার মতো পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন ও প্যারাবন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার ক্ষতি থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব বনভূমি ধ্বংস হলে একদিকে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ভয়েস/জেইউ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : আবদুল আজিজ
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (৩য় তলা), শহীদ সরণি (সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩ ইমেইল : news.coxsbazarvoice@gmail.com
Copyright © 2026 Coxsbazar Voice. All rights reserved.