বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত:স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামদানি জানালেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা আইনশৃঙ্খলা সভায় আওয়ামী দোসর ফারুক, রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বক্তব্য আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে-সালাহউদ্দিন আহমদ  কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাতে তছনছ আর্জেন্টিনা জিতলে কেন বিয়ে করবেন পরীমণি? মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবি : ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে অটোপাস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

র‌য়্যাল রিসোটেও ধর্ষণ করেন মামুনুল

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বাদী জান্নাত আরা ঝর্ণা। বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হাসান শ্যামলের আদালতে আসামি মামুনুল হকের উপস্থিতিতে তিনি জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি বিয়ের আশ্বাসে কখন কোথায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এর বর্ণনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি রাকিবুদ্দিন বলেন, ‘ঝর্ণার প্রথম স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক। স্বামীর বন্ধু হওয়ার সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তাদের সুখের সংসার ছিল। ওই সংসারে তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য বা ঝগড়াঝাটি হলে তার স্বামী-স্ত্রী দুজনই মামুনুল হকের শরণাপন্ন হতেন। তিনি তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে মিলমিশ করে দিতেন। এতে করে তিনি (মামুনুল হক) ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মামুনুল হক তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে প্রায়ই ফোন দিয়ে খোশগল্প করতেন। একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি নিয়ে দূরত্ব তৈরি হলে তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরে মামুনুল হকের পরামর্শেই তিনি খুলনা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। মামুনুল হকই ঢাকায় তার থাকার ব্যবস্থা করেন। এ সময় মামুনুল হক বিয়ের আশ্বাসে দেখিয়ে বেড়ানোর কথা বলে বিভিন্ন জায়গার নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে জন্নাত আরা ঝর্ণা মামুনুল হক কখন কোথায় নিয়ে ধর্ষণ করেছেন এর বর্ণনা তুলে ধরেন। একইভাবে গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টেও নিয়ে তাকে (ঝর্ণা) নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন হোটেল কক্ষে তাদের দুজনকে আটক করে।’

ঝর্ণার জবানবন্দি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেছেন। মামুনুল হকের আইনজীবীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন জান্নাত আরা ঝর্ণা।

মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আগমন নিয়ে কথা বলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা হয়েছে।

এর আগে, সকাল ৯টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। এ সময় মামুনুল হকের অনুসারীরা আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। মামুনুলকে আদালতে তোলার সময় অনুসারীরা পিছু পিছু ছুটতে থাকেন, পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা দেয়।

স্ত্রী পরিচয় দিয়ে গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁ রয়্যাল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে যান মামুনুল হক। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে হোটেল কক্ষে তাদের দুজনকে আটক করে। পরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রাত ৮টার দিকে রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে মামুনুল হক ও জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে যায়। ৩০ এপ্রিল ঝর্ণা সোনারগাঁ থানায় বাদী হয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছর ধরে বিয়ের আশ্বাসে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION