বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় নেতারই গৌরব বেড়েছে কয়েকগুণ। একা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোই তো অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন বিশ্ববাসীর কাছে। কিন্তু এ জনপ্রিয় নেতাদের মধ্যেই কয়েকজন অতিজনপ্রিয় আছেন যারা সুনাম অর্জন করা তো দূরের কথা, উল্টো নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ নেতাদের মধ্যে অন্যতম তিনজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারো।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়াতেই এখন সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ওই তিন দেশে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। আর করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে দেশ তিনটির দেওয়া লকডাউনের কারণে অর্থনীতিও ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েছে। ট্রাম্প, পুতিন ও বোলসোনারো আর্থিক, সামাজিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক চাপ থেকে বাঁচতে ভাইরাসটির প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কারের পেছনে লেগেছেন। কারণ তারা মনে করছেন, টিকা আবিষ্কার করতে পারলেই তারা এ দফায় জনগণের রোষ থেকে বাঁচতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রিয় অস্ত্র টুইটারে একের পর এক টুইট করেই যাচ্ছেন। সামাজিক ওই প্ল্যাটফর্মটিতে তিনি তার দেশের অবস্থার জন্য চীনকে দোষারোপ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে নিজ দেশের রাজ্য সরকারগুলোর প্রতিও তিনি বিষোদগার করছেন, যাতে রাজ্যগুলো অবিলম্বে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে জনগণের জীবন স্বাভাবিক করে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অবশ্য ট্রাম্পের মতো টুইটারকে অস্ত্র বানাননি। তবে তিনি নেতাসুলভ ভাবমূর্তি রক্ষা করতে সবসময়ই যে আলোকচিত্রের সাহায্য নেন, এবারও সেই পথেই হাঁটছেন। করোনার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে যাওয়ার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমজুড়ে দেখা যায়। আর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারো তো শুরুতে করোনাভাইরাসকে আমলেই নেননি। তিনি এ ভাইরাসকে স্রেফ সাধারণ ‘ফ্লু’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেশটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ট্রাম্প, পুতিন ও বোলসোনারো করোনার ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে পারেননি। ইতালির মতো দেশের অবস্থা দেখেও তারা নিশ্চিত ছিলেন যে, এ ভাইরাস তাদের দেশের কিছু করতে পারবে না। কিন্তু ভাইরাসটি যে রাতারাতি লাগামহীন হয়ে যাবে এমনটা তাদের ভাবনাতেও ছিল না।
কলম্বিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা পদ্ধতি বলে, যুক্তরাষ্ট্র যে সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে, তার অন্তত এক সপ্তাহ আগেও ঘোষণাটি এলে অন্তত ৩৬ হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচত। আর এখন যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি। বোলসোনারোর মতোই ট্রাম্প করোনাভাইরাসটিকে সাধারণ ফ্লুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন এবং বারবার তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে, গোটা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। মার্চের ১০ তারিখেও তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা অপ্রত্যাশিত। বিশ্বে এটা আঘাত হেনেছে। আমরা প্রস্তুত ছিলাম এবং ভলো করছি। এ ভাইরাস থাকবে না। আপনারা শান্ত থাকুন, এটা চলে যাবে।’ তখনও যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা এক হাজার।
২৬ মার্চ বোলসোনারো বলেন, ‘ব্রাজিলের মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমাদের কোনো কিছু হয় না। এখানে মানুষদের আমরা পয়ঃনিষ্কাশনের লাইনের ওপর দিয়ে লাফ দিতে দেখি। এখানে ভাইরাসটি কিছু করতে পারবে না।’ যখন বোলসোনারো এ কথাগুলো বলছিলেন, তখন ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন হাজার। ব্রাজিল যখন সীমান্ত বন্ধ করে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে ততক্ষণে অনেক বেলা হয়ে গেছে। ট্রাম্পের মতোই প্রচণ্ড বেপরোয়া ছিলেন বোলসোনারো। কোনো ঝড়ই তাকে স্পর্শ করতে পারবে না, এমন বক্তব্যও সাও পাওলোতে দিতে শোনা যায় তাকে। সূত্র:দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।