বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
মহেশখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সাম্প্রতিক সভায় আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ১৬তম গ্রেডভুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (ল্যাব সহকারী) ফারুক ইকবালের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চুক্তিভিত্তিক অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফারুক ইকবাল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় প্রতীক ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নিয়মিত প্রকাশের পাশাপাশি তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিয়মিত সাবেক মহেশখালীর আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করতেন। এমনকি চকরিয়া-পেকুয়ার সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমের সঙ্গেও নিজের ছবি প্রচার করে আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
স্থানীয় বিএনপির দাবি, ৫ জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফারুক ইকবাল নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন। কখনো মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস), কখনো তাঁর নাতি, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “ফারুক ইকবাল আমাদের কলেজে ল্যাব সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাঁর পদমর্যাদা ১৬তম গ্রেডের তৃতীয় শ্রেণির।” রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একটি সূত্র জানায়, ফারুক ইকবাল কলেজের ল্যাব সহকারী পদে কর্মরত থাকলেও তাঁর আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময় অসন্তোষ ছিল। সূত্রটির দাবি, তাঁর আচরণের কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদও একবার তাঁকে সতর্ক করেছিলেন।
মহেশখালী উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, শুধু ২৪ জুনের উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাই নয়, গত ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাতেও ফারুক ইকবালকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, “উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভা সবার জন্য উন্মুক্ত। কমিটি আছে মানেই অন্য কেউ আসতে পারবেন না, এমন নয়। সাধারণ নাগরিকও আসতে পারেন। কেউ এলে তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়া যায় না। আর দুই জায়গায় চাকরি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন, বর্তমানে আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ১৬তম গ্রেডের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সভায় কী পরিচয়ে, কার অনুমতিতে এবং কোন ক্ষমতাবলে অংশগ্রহণ করেছেন—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় একজন অ-কমিটি সদস্যের নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি প্রশাসনের আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। না উপজেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। যা জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
ভয়েস / জেইউ।