শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
মোশররফ করিম ভয়েস বিনোদন ডেস্ক:
দীর্ঘদিন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকে শোবিজ অঙ্গন মাতিয়ে রেখেছেন মোশাররফ করিম। তথাকথিত হিরোর ইমেজকে তিনি ভেঙে দিয়েছেন। প্রমাণ করেছেন, কীভাবে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে শুধু মেধা দিয়ে জয় করতে হয়। ক্যারিয়ারের একটা সময় অনেক বেশি কাজ করেছেন, হয়তো অনেক কারণে করতেও হয়েছে। কিন্তু এখন কাজ নিয়ে অনেক বেশি সাবধানী তিনি। অভিনয় করেন অনেক বেছে, ভালো স্ক্রিপ্টেই। গত ঈদে তার বেশকিছু নাটক প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে খন্ড নাটক, টেলিছবি ছাড়াও ছিল সাত পর্বের ধারাবাহিক। অনেকের মতে, ঈদে প্রচারিত ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মোশাররফ করিমের ‘গিরগিটি’। দীপ্ত টিভিতে ঈদের সাত দিন ধরে প্রচারিত হয়েছে তার স্ত্রী অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁইয়ের গল্প-ভাবনায় এবং রায়হান খানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এ ধারাবাহিকটি। এ প্রসঙ্গে মোশাররফ করিম বলছিলেন, ‘গল্পটি রহস্যঘেরা। কিছুটা থ্রিলারের স্বাদ আছে। এ ধরনের কাজ সময় ও যত্ন নিয়ে করতে হয়। আমরা নানারকমের সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজটি সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে করেছি। এজন্যই দর্শক পছন্দ করেছে।’
ঈদের পঞ্চম দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বাংলাভিশনে প্রচার হয় তার নাটক ‘উইশ’। একই চ্যানেলে ঈদের সপ্তম দিন রাত ৯টায় প্রচার হয় ‘প্রেমিকার এপিটাফে’ নাটকটি। দুটি নাটকেই তার সহশিল্পী ছিলেন স্ত্রী জুঁই। এ দুটি নাটকও বেশ সাড়া ফেলেছে। এছাড়া সাগর জাহান পরিচালিত জাকিয়া বারী মমর সঙ্গে ‘বনলতা ও জোনাকীর গল্প’, সঞ্জয় সমাদ্দরের পরিচালনায় তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী ফারিনকে নিয়ে ‘যে শহরে টাকা ওড়ে’ খন্ড নাটক দুটির ইউটিউব ভিউ বেশ ভালো। তবে প্রশংসা কুড়িয়েছে রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালনায় লাইভ টেকনোলজির ব্যানারে নির্মিত ‘বোধ’ টেলিছবিটি। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করা রুনা খান এই কাজটি নিয়ে বলেছিলেন, “আমার অভিনীত ‘বোধ’ নাটকটির জন্য বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এটি সিরিয়াস গল্পের নাটক। রিংকু ভালো নির্মাণ করেছেন। কাজ করার সময়ই মনে হচ্ছিল ভালো কিছু হবে। আমি পেশাদার অভিনেতা। সবার সঙ্গে সব ধরনের কাজ করতে হয়। কিন্তু মোশাররফ করিমের সঙ্গে সিরিয়াস গল্পের নাটক করতেই বেশি ভালোলাগে। তার সঙ্গে জনপ্রিয় হাসির নাটক ‘যমজ’-এ কাজ করেছি। কিন্তু ‘বোধ’, ‘দেয়াল আলমারী’ বা ‘অভিনেতা’র মতো সিরিয়াস গল্পে তার জুড়ি নেই।”
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে টান অনুভব করেন জানতে চাইলে মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে আটকে থাকতে চাই না। যেকোনো জনরার গল্পেই নিজেকে মানিয়ে নিতে চাই। তবে অবশ্যই গল্প এবং চরিত্র আমাকে টানতে হবে।’ একটি চরিত্র নিজের মধ্যে ধারণ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে দীর্ঘ আলোচনা। ছোট করে বলার সুযোগ নেই। এক ঘণ্টার ক্লাস করালেও কতটুকু বোঝানো সম্ভব তা নিয়ে আমি সন্দিহান। তবে এটুকু বলতে পারি, চরিত্রের প্রতি মনোনিবেশ জরুরি। এরপর একেকটা চরিত্র হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া আলাদা আলাদা হয়ে ওঠে।’
এক কাপ চা
সম্প্রতি উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের পাশে রানা ভোলাতে ‘এক কাপ চা’ নামের একটি ক্যাফে শপ খুলেছেন মোশাররফ করিম। এ বিষয়ে বলছিলেন, ‘এটা আসলে আমি খুলিনি। আমার স্ত্রী জুঁই এর মূল উদ্যোক্তা।’ পরে রোবেনা রেজা জুঁই বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি ক্যাফে কাম লাইব্রেরি করার। কারণ নতুন প্রজন্ম পড়াশোনার চেয়ে ভিডিও দেখায় বেশি আগ্রহী। এতে সমস্যা হলো, কোনো কিছু পড়ে মানুষের চিন্তাশক্তির যে বিকাশ হয়, সেটি ভিডিও দেখে হয় না। ভিডিওতে শুধু নির্মাতা বা পাত্র-পাত্রীর ভাবনাটাই আমরা দেখতে পাই, এতে আমাদেরও নতুন করে ভাবার সুযোগ থাকে না। তাই আমি চাই, নতুন প্রজন্ম এখানে এসে চা-কফির পাশাপাশি বই পড়ুক। কিন্তু এখনো অত বড় আয়োজনে করতে পারিনি। আপাতত এখানে চা, কফি, ফার্স্ট ফুড পাওয়া যাবে। পরে লাইব্রেরি সংযোজন করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক কাপ চা একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি রেস্টুরেন্ট। এটার মূল শাখা মুগদায়, এটার প্রতিষ্ঠাতা তমাল। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ, পুরো রেস্টুরেন্ট ও ডিজাইন নিজে থেকে ডেকোরেশন করেছে।’ সূত্র:দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।